সংবাদপত্রের আলোচিত খবর

রাজধানী যেন এখন দাবির শহর

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৪, ১০:৪৮

প্রতিদিন জাতীয় দৈনিকে অসংখ্য খবর প্রকাশিত হয়। সেইসব খবর থেকে আলোচিত কিছু খবরের সংকলন করা হল

ইত্তেফাক 

গুমেরও বিচার হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার করা যাবে জোরপূর্বক গুমের অপরাধের। আগে গুম সংক্রান্ত অপরাধের বিচারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকার আইনটি সংশোধন করে এই আইনে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও আনসার বাহিনী এবং আইন দ্বারা সৃষ্ট কোনো বাহিনী ও বাহিনীর সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে আনা হয়েছে বিচারের আওতায়। সংশোধনীর আগে ১৯৭৩ সালে প্রণীত এই আইনে শৃঙ্খলা বাহিনী হিসাবে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এখন এই তিন বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সংশোধনীতে।

জুলাই-আগস্ট মাসে দেশে সংঘটিত হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সেই লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’স আইনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়। ঐ সংশোধনী বুধবার অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের পর রবিবার এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে সংশোধনী কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে। এখন সংশোধনী অধ্যাদেশ অনুযায়ী জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। একই সঙ্গে গত দেড় দশকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেসব গুমের অপরাধ সংঘটন হয়েছে সেসব বিচারের আওতায় আসবে।

প্রথম আলো

শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিতে জোর যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক শ্রমবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি কেলি এম ফে রদ্রিগেজ নেতৃত্বে ঢাকা সফররত প্রতিনিধি দল গতকাল প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছে দেশটি।

বাংলাদেশে কারখানাগুলোতে ট্রেড ইউনিয়নের নিবন্ধন সহজ করা, ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো এবং শ্রমবিষয়ক কর্মপরিকল্পনা ও শ্রম আইনের দ্রুত সংস্কার চায় যুক্তরাষ্ট্র। ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় উন্নতি আনার তাগিদ দেওয়া হলেও এতে উন্নতি হয়নি বলে মন্তব্য করেছে মার্কিন প্রতিনিধিদলটি।

ঢালাওভাবে মামলা ও আটকের ঘটনায় দেশটি তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে বৈঠকে। মামলাগুলো স্বাধীনভাবে তদন্ত করার কথা বলেছে তারা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রম অসন্তোষ নিরসনে শ্রমিক, মালিক ও সরকারের সম্মিলিত উদ্যোগে দেওয়া ১৮ দফার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। যুক্তরাষ্ট্র এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছে।

বৈঠক শেষে শ্রমসচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান জানান, আগামী মার্চ মাসের মধ্যে শ্রম আইন সংশোধন করা হবে। শ্রম অধিকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার পরিস্থিতিও জুড়ে দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ডেইলি স্টার

Won’t tolerate attack on media—

অর্থাৎ গণমাধ্যমের ওপর হামলা সহ্য করা হবে না।

কোনো পত্রিকা অফিসে ভাঙচুর বা পত্রিকা বন্ধে চাপ প্রয়োগ সহ্য করা হবে না বলে নিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কোনো পত্রিকার বিরুদ্ধে যদি কারও কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তা জানাতে পারে। তবে তা শান্তিপূর্ণ হতে হবে। কোনো পত্রিকা অফিসে ভাঙচুর করা, পত্রিকা বন্ধের জন্য চাপ প্রয়োগ করা আমরা সমর্থন করি না। এ ধরনের ঘটনা পরবর্তীতে ঘটলে সহ্য করা হবে না।

ভাঙচুরের ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে এ সময় উল্লেখ করেন তথ্য উপদেষ্টা। কারও ক্ষোভ থাকলে তা শান্তিপূর্ণভাবে প্রকাশ করার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।

মানুষের সভা-সমাবেশের অধিকার আছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ''সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সেটার জন্য আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারে। আমরা আহ্বান জানাব যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা নৈরাজ্যকর বিষয়ে জনগণ অংশ না নেয়। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কাজ থেকে আমরা বিরত থাকব।''

আজকের পত্রিকা

দলগুলোর চাপে ইসি গঠন করেছে সরকার

নয়া নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে বেশ চাপ এসেছিল। এমন অবস্থায় নির্বাচনের ট্রেন চলছে, তা ধারণা দিতেই ইসি গঠন করা হয়েছে বলে মত বদিউল আলম মজুমদারের।

তবে কোন দলের চাপে পড়ে সরকার কমিশন গঠন করলো, সে বিষয়ে তিনি কিছু স্পষ্ট করেননি। নতুন কমিশন নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছেন তিনি।

সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন দেয়ার আগেই নতুন ইসি গঠনের বিষয়টিকে তিনি কীভাবে দেখছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে গতকাল এক আলোচনা সভায় বদিউল আলম মজুমদার এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন কীভাবে হতে পারে, সংসদীয় নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ, নারী-প্রবাসীসহ ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত হয় এমন নাগরিকদের জন্য ইলেকট্রনিক ভোটসহ (ই-ভোট) ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করা সংস্কার কমিশনের অগ্রাধিকার বলে জানান বদিউল আলম মজুমদার।

যুগান্তর

রাজধানী যেন এখন দাবির শহর

ইট-পাথরের শহর রাজধানী ঢাকা কার্যত এখন আন্দোলনের শহরে পরিণত হয়েছে। নানা দাবিতে কথায় কথায় চলছে রাজপথ অবরোধ। কোথাও কোথাও অগ্নিসংযোগসহ সংঘাত-সহিংসতার ঘটনাও এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। এতে কার্যত অবরুদ্ধ এই শহরের মানুষ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিরাপত্তাহীনতার ফিরিস্তি। কথা নেই, বলা নেই- হঠাৎ উৎকণ্ঠার ছাপ এসে ভর করেছে নগরবাসীর জীবনে। কখন কোথায় কী ঘটবে-তা জানা নেই কারও। ছোটখাটো ঘটনা নিয়েই তৈরি হচ্ছে সংঘাত কিংবা সহিংসতা। দাবি আদায়ের মতো স্বাভাবিক বিষয় হয়ে উঠছে সহিংস। কোনোভাবেই অস্বাভাবিক এসব ঘটনার লাগাম টানা যাচ্ছে না। ফলে ভোগান্তির শেষ নেই কারও।

ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন গণ-অভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় নেন। গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে টানা স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অবসানের পর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গত ৮ আগস্ট তার নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। একই সঙ্গে সূচিত হয় সাধারণ মানুষের পাহাড়সম প্রত্যাশাও। শান্তির পথে, উন্নয়নের পথে, গণতন্ত্রের পথের এই যাত্রায় মানুষ ফিরে পাবে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং সামাজিক মর্যাদা। বিনাবিচারে হত্যা, খুন-গুম-অপহরণের অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটবে চিরতরে, মিলবে ভোটের অধিকার-এমনটাই এখন সবার চাওয়া।

মানবজমিন

সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ আটক

বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ও চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল বিকালে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে চিন্ময় কৃষ্ণ দাশের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে একটি মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় ডিবি কার্যালয়ে সামনে জড়ো হন সনাতন জাগরণ মঞ্চের নেতারা। তখন তারা চিন্ময়কে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানান। তাদের একটি গ্রুপ শাহবাগে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে অন্য একটি পক্ষ ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়।

বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে একটি সমাবেশ করে। ওই সমাবেশের পরপরই তার বিরুদ্ধে মামলাটি হয়।

সমকাল

আওয়ামী লীগের তিনবারের মন্ত্রী-এমপির সম্পদ বাজেয়াপ্তের দাবি

গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে ১৯টি ছাত্র সংগঠনের নেতাদের বৈঠক হয়। এতে সিদ্ধান্ত হয়েছে– গত তিন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এমপি এবং মন্ত্রীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চাপ দেওয়া হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমস্যা নিয়ে তাদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং ছাত্র সংগঠনগুলো বসবে।

এছাড়া ফ্যাসিবাদবিরোধী সব ছাত্র সংগঠন আগামী এক সপ্তাহ ‘জাতীয় ছাত্র সংহতি সপ্তাহ’ পালন করবে। এ সময় ছাত্র সংগঠনগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলবে। তাদের মধ্যে ঐক্য ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে।

ফ্যাসিবাদবিরোধী সব ছাত্র সংগঠন নিয়ে জাতীয় ছাত্র কাউন্সিল গঠন করা হবে। এতে প্রতিটি ছাত্র সংগঠনের দু’জন প্রতিনিধি থাকবেন। এই কাউন্সিলের আলোচনার মাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মপরিধি নির্ধারিত হবে। তবে এটির ফরম্যাট কী হবে, আগামী এক সপ্তাহ পর আরেকটি সভায় তা চূড়ান্ত করা হবে।

কালের কণ্ঠ

সংঘাত অবরোধে অশান্ত ঢাকা

রাজধানীর মাতুয়াইলে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রণক্ষেত্র তৈরি হয়। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টা থেকে তিন কলেজের শিক্ষার্থীদের এই সংঘর্ষ চলে অন্তত দুই ঘণ্টা। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। ভাঙচুর চালানো হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে।

দেওয়া হয়েছে আগুনও। হামলায় মোল্লা কলেজের গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট হয়েছে। জিনিসপত্র চুরির অভিযোগও করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও বিজিপি মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষের এই ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর গুঞ্জন উঠলেও পুলিশ বলছে, তারা মৃত্যুর কোনো তথ্য পায়নি। তিন কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের কারণে গতকাল ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়কে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। এর আগে হামলার জেরে ঢাকার সঙ্গে অন্য জেলাগুলোর যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

বণিক বার্তা

আদানির সবই ছিল গোপনীয়, প্রায় চার বছর অন্ধকারে ছিলেন বিপিডিবির কর্মকর্তারাও

২০১৭ সালের নভেম্বরে আদানি পাওয়ার ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে হওয়া বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির প্রায় সব বিষয়বস্তুই অত্যন্ত গোপন ছিল দীর্ঘদিন। বিপিডিবির সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দাবি, হাতে গোনা সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বাইরে এ চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে কেউই কিছু জানত না।

দীর্ঘ সময় গোপন থাকা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির একটি নথি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ওয়াশিংটন পোস্টে ফাঁস হয়। এতে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কয়লার দাম বেশি রাখাসহ এর বিভিন্ন অসম ধারার তথ্য প্রকাশ পায়। একপর্যায়ে কয়লার দাম ও ক্রয়পদ্ধতি পর্যালোচনার জন্য নয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে বিদ্যুৎ বিভাগ।

এছাড়া, বকেয়া পাওনা নিয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে আদানি গ্রুপের দেন-দরবারের বিষয়গুলো নিয়েও ব্যাপক মাত্রায় গোপনীয়তা বজায় রেখেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। বাংলাদেশের সঙ্গে আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় গ্রুপটির কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সফর করেছেন। যদিও এসব সফরের বিষয়বস্তুর প্রকৃত তথ্য কখনোই গণমাধ্যমকে জানানো হয়নি।

আদানির সঙ্গে বিপিডিবির বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি ও এর গোপনীয়তা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। নিয়ম অনুযায়ী, আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোয় দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। আবার তা উভয় দেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশেরও বাধ্যবাধকতা রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর আদানিসহ বিদ্যুৎ খাতের অসম চুক্তিগুলো পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়া হয়।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

জামায়াতের ২২ দফা প্রস্তাব কমিশনে

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনে ২২ দফা প্রস্তাব জমা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির প্রস্তাবনার মধ্যে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন, দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল, স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাতিলের মতো বিষয়গুলো এসেছে।

গতকাল সোমবার সংস্কার কমিশনের প্রধানের কাছে জামায়াত তাদের প্রস্তাব জমা দেয়। দলটির প্রস্তাবনায় আরও রয়েছে, ইভিএম পদ্ধতি বাতিল করা। গ্রহণযোগ্য, নির্ভুল ও হালনাগাদ ভোটার তালিকা তৈরি করা। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন বাতিল করা। নির্বাচনকালে সরকারের সব প্রশাসনিক কার্যক্রমে নির্বাচন কমিশনের নজরদারির সুযোগ রাখা। নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনের যে কোনো সংসদীয় আসনের নির্বাচন সম্পূর্ণ বা আংশিক বাতিল বা স্থগিত করার ক্ষমতা সংবলিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯১ (ক) অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা।

কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়ভাবে মনোনয়নের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটারদের মধ্য হতে ওই দলের নেতাকর্মীদের ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী মনোনীত করার ব্যবস্থা করার প্রস্তাবও দিয়েছে জামায়াত।

দেশ রূপান্তর

পুলিশের সঙ্গে মাঠে কারা?

একটা সময় ছিল পুলিশকে নিজেদের ক্যাডার বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করেছে একটি রাজনৈতিক দল। আবার পুলিশের সঙ্গে থেকে বিরোধীপক্ষকে দমানোর জন্য হামলা ও মারধর করতেন রাজনৈতিক দলটির নেতাকর্মীরা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু এই দৃশ্য বদলায়নি। পটপরিবর্তন হলেও দাবি আদায়ের কর্মসূচিকারীদের দমনে পুলিশের সঙ্গে বিভিন্ন গোষ্ঠীকে এখনো দেখা যায়। সম্প্রতি ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের কর্মসূচি চলাকালে তাদের রাজপথ থেকে সরিয়ে দিতে পুলিশের সঙ্গে যোগ দেন কিছু রাজনৈতিক নেতামকর্মী। দলীয় কোনো ব্যানারে না হলেও ধারণা করা যায় বর্তমান সরকারের অনুষঙ্গ বা সমর্থনকারী তারা।

গত শুক্রবার দুপুরে জুরাইনে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ও পেছন থেকে একদল মানুষ রিকশাচালকদের ওপর হামলা চালায়। তাদের হাতে ছিল লাঠি, ইটপাথরসহ নানা কিছু। তারা পুলিশের সঙ্গে থেকে হামলা ও মারধরের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে।

জুরাইনে পুলিশের সঙ্গে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের সংঘর্ষের বিষয়ে ডিএমপির শ্যামপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চালকদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় এলাকার লোকজন আমাদের সঙ্গে ছিল। সেখানে কে কোন দলের বা কারা কী করে, বিষয়টি আমরা জানি না। এ ছাড়া কোনো এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে, আগুন জ্বালিয়ে, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হয়, এমন কাজ করলে এলাকার মানুষ এমনিতেই ধাওয়া দেয়। এখানে কাউকে ডাকা হয়নি।’

 

ইত্তেফাক/এএম