ইসকনকে নিষিদ্ধের দাবিতে শেকৃবিতে বিক্ষোভ 

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৪, ০৯:৩৮

চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর অনুসারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনায় বিক্ষোভ করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ঘটনায় জড়িত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীদের গ্রেফতার ও আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)কে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ড গেট থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রদক্ষিণ করে কলেজ গেট, পুরাতন গণভবন হয়ে আবার সেকেন্ড গেটে এসে শেষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীদের গ্রেফতার এবং ইসকনকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধের দাবি জানান। তারা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

এসময় শিক্ষার্থীদের ‘ভারতীয় আগ্রাসন রুখে দাও রুখে দাও’, ‘উগ্রবাদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’, ‘ইসকন সনাতন এক নয় এক নয়’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই, ইসকনের রক্ষা নাই’, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক তৌহিদুল ইসলাম আশিক বলেন, এই সমস্ত সংগঠনগুলো এনজিও'র নামে দেশের সার্বভৌমত্বের উপর হুমকি। দেশ বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যেকোনো সংগঠন কিংবা যেকোনো ব্যক্তি যে-ই দাঁড়াক না কেন, এ দেশের ছাত্রসমাজ সর্বোপরি তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ব্যাপারে আমরা কোন ধর্ম কিংবা  কোন জাতি কিংবা কোনো ব্যক্তি কারও সাথে কোনো পরিমাণ আপোষ করতে রাজি না।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম নগরীর নিউমার্কেট মোড়ের স্বাধীনতা স্তম্ভে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় চিন্ময় দাসকে। ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সোমবার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার চিন্ময় কৃষ্ণর জন্য জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী। আদালত শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। এ সময় হামলায় ওই আইনজীবী নিহত হন।

ইত্তেফাক/এএইচপি