গরু চুরি ঠেকাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন এলাকাবাসীরা। তারপরও চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। কয়েক মাসের ব্যবধানে শতাধিক গরু চুরি হয়েছে বলে ভুক্তভোগী কৃষকরা অভিযোগ করেছে। এদিকে গরু চুরি বন্ধে এবং চোরদের ধরতে বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি অভিযানসহ টহল ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বরাটি গ্রামের সাইফুল ইসলাম ও সাজু মিয়ার দুটি গরু চুরি হয়েছে। এর আগে পৌরসভার বাইমহাটি আদালতপাড়া গ্রামে জগদীস সরকার বাড়িতে চারটি গরু, বাঁশ ইউনিয়নের তিন বাড়িতে পাঁচটি গরু ও গোড়াই ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামে এক রাতে তিন বাড়িতে ছয়টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গরু চুরির ঘটনা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় গরুর খামারি ও কৃষকদের মধ্যে আতংক দেখা দিয়েছে।
আজ বুধবার (২৭ নভেম্বর) মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক মাসের ব্যবধানে শতাধিক গরু চুরি হয়েছে। ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবী রাত জেগে পাহারা দিয়েও গরু চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না।
লতিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন রনি জানান, বিভিন্ন গ্রামে প্রতিনিয়তই গরু চুরি হচ্ছে। সম্প্রতি লতিফপুর ইউনিয়ন থেকেই অন্তত ১০-১২ গরু চুরি হয়েছে।
ওয়ার্শি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাহবুব আলম মল্লিক বলেন, হুরমহল ওয়ার্শি, নাগরপাড়া, কহেলা, নওগাও, নগর ভাতগ্রাম, কাউলজানিসহ ১০-১২ টি গ্রামে গরু চুরি উদ্বেগ জনক হারে বেড়ে গেছে। অল্প দিনের ব্যবধানে তার ইউনিয়নে অর্ধশত গরু চুরি হয়েছে। গরু চুরি ঠেকাতে ইতিপূর্বে উপজেলা প্রশাসনকে তিনি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
একই অভিযোগ করেছেন বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেলাল দেওয়ান। তিনি জানান, তার ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি গরু চুরি হচ্ছে। বিষয়টি তিনি পুলিশকে অবহিত করেছেন। তারপরও গরু চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। ফলে এলাকার কৃষকরা চরম বিপাকে পরেছেন।
অপর দিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে মির্জাপুরে গরু চুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। মির্জাপুর পৌরসভা, মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাতগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, লতিফপুর, গোড়াই, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নে গরু চুরি হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা প্রশাসনকে গরু চুরি বন্ধে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন।
এদিকে ভুক্তভোগী কৃষক জগদীশ সরকার জানান, তার বাড়ি থেকে চারটি গরু চুরি হয়েছে। চার গরুর মূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। এক সঙ্গে চারটি গরু চুরি হওয়ায় দরিদ্র পরিবারটি চরম বিপাকে পরেছেন। তিনি বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
রহিমপুর গ্রামের কৃষক আতোয়ার রহমান অভিযোগ করে জানান, চোরের দল তার বাড়িতে হানা দিয়ে গোয়ালঘর থেকে দুইটি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে। দুইটি গরুর দাম প্রায় দুই লাখ টাকা। একই রাতে তার বাড়ির পাশে রমজান আলী একটি গরু এবং আব্দুল হক তিনটি গরু চুরি হয়েছে। তাদের চারটি গরুর দাম প্রায় সারে চার লাখ টাকা বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোশারফ হোসেন বলেন, গরু চুরি ঠেকাতে এবং অপরাধীদের ধরতে পুলিশ প্রশাসন তৎপর রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় টহল জোরদারসহ নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন। গরু চোরদের ধরতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন।
