পানির সঙ্গে বাড়ছে ভাঙ্গন

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৯, ২২:৫৬

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বর্ষণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে শুরু হয়েছে নদীর ভাঙন। ইতিমধ্যে জেলার কাজিপুর, এনায়েতপুর, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলায় ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। যমুনা নদীর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নদ-নদী গুলোতেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ হার্ডপয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ৪২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদ সীমার ৫১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুই একদিনের মধ্যে যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করবে।

পানি বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে ভাঙনের তীব্রতা। কাজিপুরের বাঐখোলা বাঁধসহ বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ। স্থানীয়দের অভিযোগ ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে নদী পাড়ের প্রায় ১০ গ্রামের মানুষের। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড দাবি করছে, ভাঙন রোধে বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই ভাঙনের কবলে পড়েছে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাহুকা, কাজিপুরের সিংড়াবাড়ি, বাঐখোলা ও পাটগ্রাম এলাকা। হুমকির মধ্যে রয়েছে গান্দাইল, রতনকান্দির বাহুকা ও শুভগাছা ইউনিয়নের  বাঐখোলা, পূর্ব খুশকিয়া, পাটগ্রাম, কুড়ালিয়া, সিংড়াবাড়ি, চিলগাছাসহ নদী তীরবর্তী গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।

ভাঙনকবলিত বাঐখোলা এলাকার বাসিন্দা আহসান আলী বলেন, গত প্রায় সাত দিনে বাঐখোলা বাঁধের প্রায় অর্ধ কিলোমিটার ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছি। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। 

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, ভারতের আসামে প্রবল বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে যমুনা নদীর উজানে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে দু-একদিনের মধ্যে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করবে। বাঐখোলা বাঁধ রক্ষায় বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। দুই কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের দরপত্র আহ্বান করে কাজের ওয়ার্ক অর্ডার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পানি কমলে কাজ শুরু হবে। আগামী বছর গুলোতে আর ভাঙন থাকবে না।

আরও পড়ুনঃ ধর্ষকের যৌন সক্ষমতা ধ্বংস করে শাস্তি দেবে যে দেশ

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, জেলায় প্রায় ৮৫ কিলোমিটার নদীপথে দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৫ কিলোমিটার নদী ভাঙন রোধ করেছি। এ মুহূর্তে দুটি প্রকল্প চলমান আছে। এ ছাড়া কাজীপুরের বাঐখোলা, খুদবান্দি এবং এনায়েতপুরের ব্রাহ্মণগাতী, হাটপাচিল এলাকায় ভাঙন রয়েছে। এখানে ভাঙন রোধে প্রকল্প তৈরি করে ঢাকায় পাঠিয়েছি। এগুলো অনুমোদন হলে কাজ শুরু হবে।

ইত্তেফাক/অনি/টিএস