প্রতিদিন জাতীয় দৈনিকে অসংখ্য খবর প্রকাশিত হয়। সেইসব খবর থেকে আলোচিত কিছু খবরের সংকলন করা হল
ইত্তেফাক
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে যাবে শহিদদের পরিবার
‘বর্তমান সরকারের এতদিনেও আমাদের পাঁচ মিনিট সময়ও দেওয়া হয়নি, এখন আমরা যারা কমপ্লেইন ফাইল করব সেসব শহিদ পরিবারের সদস্যদের সরকার নিরাপত্তা দেবে বলে আশা করছি। কারণ আমরা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করব তারা বিগত সরকারের ক্ষমতায় ছিল। শেখ ফজলে নূর তাপস, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করব। আন্তর্জাতিক আইনের ডকট্রিন অব কমান্ড রেসপনসিবিলিটি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকেও বিচারের মুখোমুখি আনা সম্ভব। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে তিনিও দায় এড়াতে পারেন না। তার বিরুদ্ধেও আমরা অভিযোগ করব। এছাড়া তত্কালীন সেনা কর্মকর্তা, বিশেষ করে ডিজিএফআই কর্মকর্তা যারা ছিলেন, তখনকার সময় কিছু সাংবাদিক যারা ভুল ন্যারেটিভ সৃষ্টি করেছেন তাদের বিরুদ্ধেও আমরা অভিযোগ আনব।’
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া ক্লাবে ‘পিলখানায় ৫৭ অফিসারসহ ৭৪ জনের হত্যার বিচার এবং শহিদ সেনা দিবসের দাবি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহিদ কর্নেল কুদরত ইলাহীর সন্তান অ্যাডভোকেট সাকিব রহমান এই দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপনায় ছিলেন শহিদ লেফটেন্যান্ট কর্নেল লুত্ফুর রহমান খানের মেয়ে ফাবলিহা বুশরা। এ সময় আরো বক্তব্য দেন শহিদ লে. কর্নেল কাজী রবি রহমানের স্ত্রী ডা. ফৌজিয়া রশিদ ও তার ভাই কাজী ওলি রহমান, শহিদ কর্নেল এরশাদের ভাই ডা. মামুন, শহিদ কেন্দ্রীয় সুবেদার মেজর নুরুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল আলম হান্নান, শহিদ কর্নেল কুদরত এলাহির স্ত্রী লবী রহমান প্রমুখ।
‘গত প্রায় ১৬ বছর ধরে চলা বিডিআর বিদ্রোহের মামলাটি আপিল ডিভিশনে থাকলেও সর্বশেষ পরিস্থিতি শহিদ পরিবারের সদস্যদের জানা নেই’—উল্লেখ করে সাকিব রহমান বলেন, ‘মামলা চলাকালীন এই দীর্ঘ সময়টাতে আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি। আমরা যারা ভুক্তভোগী তারাই মামলার পরিস্থিতি জানি না, দেশের মানুষ কীভাবে জানবে? এছাড়া বিগত সরকারের সময় যারা ক্ষমতায় ছিল তারাই বিডিআর হত্যাকাণ্ডে পর্দার আড়ালের ষড়যন্ত্রকারী মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের প্ল্যান অব অ্যাকশন হচ্ছে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কমপ্লেইন ফাইল করব।’ এ সময় সংবাদ সম্মেলনে শহিদ পরিবারের সদস্যরা বলেন, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র-এর প্ররোচনায় ও নীলনকশায় শেখ হাসিনার নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে। শেখ হাসিনা এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরাসরি জানতেন।
প্রথম আলো
চাহিদামতো টাকা তুলতে পারবেন গ্রাহকেরা
অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে যে ছয়টি বেসরকারি ব্যাংক তারল্য সংকটে রয়েছে, তাদের লেনদেন স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক ছয়টি হলো ন্যাশনাল ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।
আমানতকারীরা এসব ব্যাংক থেকে যাতে চাহিদামতো টাকা তুলতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোকে ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ধার দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোর আরো টাকার প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই সহায়তা দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গ্রাহকদের একসাথে সব টাকা না তোলার অনুরোধ জানান।
তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, “যে ব্যাংকেই টাকা থাকুক না কেন, তা নিরাপদ থাকবে। ব্যাংকে থাকা আমানত নিরাপদ থাকবে, আমরা সেই মর্যাদা দেব। ব্যাংকে যে অস্থিরতা রয়েছে, তা থেকে আমরা বের হয়ে আসতে চাই।”
ডেইলি স্টার
5 Edn institutions: Academic life of 40,000 in disarray
অর্থাৎ, ‘৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: ৪০,০০০ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন বিপর্যস্ত’
ঢাকার পাঁচটি প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গত এক সপ্তাহ ধরে সংঘর্ষের কারণে শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে অন্তত ৪০,০০০ শিক্ষার্থীর উপর।প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল এবং সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপের না নেয়ায়, কবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই গিয়েছে। রবিবার ও সোমবার এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পৃথক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, যার ফলে শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এ সংঘর্ষের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাতটি অধিভুক্ত কলেজের প্রথম এবং চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করে।
এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত মেরামত এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংলাপের সুযোগ তৈরি করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আজকের পত্রিকা
আবারও টাকা ছাপিয়ে দুর্বল ব্যাংককে ধার, মূল্যস্ফীতি ও আইএমএফ সামলাবে কীভাবে
আওয়ামী লীগের আমলে সীমাহীন লুটপাটে গভীর সংকটে পড়ে ডজনখানেক ব্যাংক। গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সময়ে এসব ব্যাংককে বাঁচিয়ে রাখতে ছাপিয়ে টাকা সরবরাহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নতুন গভর্নর ব্যাংকগুলোকে টাকা ছাপিয়ে তারল্যসহায়তার না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বেশি দিন করতে পারলেন না তিনি। ফের টাকা ছাপিয়ে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দেওয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত সোম ও মঙ্গলবার ব্যাংকগুলোকে ভল্ট থেকে ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সরবরাহ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
দুর্বল ব্যাংকগুলোকে টাকা ছাপিয়ে সহায়তা করার কথা স্বীকারও করেছেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, দুর্বল ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থসহায়তা দেওয়া হবে।
গভর্নর বলেন, ‘যদিও প্রথমে টাকা ছাপানো থেকে বিরত থাকার নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই অবস্থান থেকে সাময়িকভাবে সরে আসা হয়েছে। মানুষের অবস্থার কি পরিবর্তন হয় না? টাকা সরবরাহের জন্য বন্ড ইস্যু করা হচ্ছে; কিন্তু মনিটরিং পলিসি আগের মতো টাইট থাকছে। এ প্রক্রিয়ায় নেট মানি ক্রিয়েশন হচ্ছে না। একদিকে সহায়তা করা হচ্ছে, অন্যদিকে বন্ডের মাধ্যমে তুলে নিচ্ছি। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী এ সহায়তা দেওয়া হবে। আমাকে ডিপোজিটর ও মূল্যস্ফীতি দুটিই রক্ষা করতে হবে।’
আগের সরকারও টাকা ছাপিয়ে সহায়তা করেছিল, আবার এখনো দেওয়া হচ্ছে, এখন তাহলে তফাত কী? এমন প্রশ্নের উত্তরে গর্ভনর বলেন, ব্যাংক থেকে এখন আর টাকা চুরি হচ্ছে না। আগে ছাপিয়ে সহায়তা দেওয়ার পর টাকা বাইরে চলে গেছে। কিন্তু এখন জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে। আগে ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দেওয়া হলেও কোনো উন্নতি হয়নি। কিন্তু এখানে ফান্ডামেন্টাল পরিবর্তন হয়েছে। ব্যাংকের বোর্ড চেঞ্জ হয়েছে। ব্যাংকগুলোতে তদারকি করা হচ্ছে।
মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাপক অনিয়মের কারণে, তারল্য-সংকটে ভুগতে থাকা বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ওবং ইউনিয়ন ব্যাংককে তারল্যসহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সূত্র জানায়, সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকার তারল্যসহায়তা নিয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (এফএসআইবিএল)। ন্যাশনাল ব্যাংক নিয়েছে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার সহায়তা। অন্যান্য তিনটি ব্যাংক নিয়েছে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।
যুগান্তর
পুলিশের অবহেলাকে দুষছেন আইনজীবীরা
চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশের অবহেলাকে দুষছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা। চট্টগ্রাম আদালতের ১৮৬ বছরের ইতিহাসে কোনো আসামির জামিন না দেওয়াকে কেন্দ্র করে আইনজীবী হত্যার মতো এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা আর ঘটেনি।
পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরও কঠোর হলে এ পরিস্থিতি এড়ানো যেত। পুলিশ শুরু থেকে ঢিলেঢালাভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন বলে তারা মন্তব্য করেন। যে কারণে আশপাশে পুলিশের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও আইনজীবীকে হত্যা করে ঘাতকরা বীরদর্পে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যার বিচার চেয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন আইনজীবীরা। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবিতে আন্দোলন চলাকালে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
মানবজমিন
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে এক ব্যাংকে ১৪৫ জনের চাকরি!
২০১১ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া গেজেট নম্বর বসিয়ে কর্মসংস্থান ব্যাংকের অন্তত ১৪৫ জন চাকরি নিয়েছেন। সকলেই বহাল তবিয়তে আছেন। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে নিয়োগ পাওয়াদের কেউ কেউ এখন সহকারী মহাব্যবস্থাপক, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার, প্রিন্সিপাল অফিসার, সিনিয়র অফিসার, অফিসার, সহকারী অফিসার ও ডাটা এন্ট্রি অফিসার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। কেউ কেউ দুই থেকে তিন বারও পদোন্নতি পেয়েছেন।
অনেকে পছন্দমতো নিজ জেলায় চাকরি করছেন। সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝড়ের বেগে দ্রুত পদোন্নতি পাওয়া অনেকে কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট কিনেছেন। আলিশান জীবন পার করছেন। বিদেশ ভ্রমণ করছেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিভিন্ন সময়ে নিয়োগ পাওয়াদের অধিকাংশই ছাত্র জীবনে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কারও কারও পিতা-মাতাও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
সমকাল
আলোচনায় ‘জাতীয় ঐক্য’ কীভাবে হবে স্পষ্ট নয়
কয়েক দিনের নৈরাজ্য মোকাবিলায় সরকার, রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র নেতৃত্ব জাতীয় ঐক্যের কথা বললেও তা কীভাবে হবে এখনো স্পষ্ট নয়। নির্বাচন, কূটনৈতিক সম্পর্ক, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণসহ নানা ইস্যুতে তাদের মতবিরোধ প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসছে।
দলগুলোর অভিযোগ অন্তর্বর্তী সরকার কঠোর না হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। যখন-তখন রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন ও বিশৃঙ্খলায় জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ অনিরাপদ বোধ করছেন। ধর্মীয় ইস্যু এবং হুটহাট দাবিতে কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব পড়ছে।
শৃঙ্খলা না ফিরলে নির্বাচন বিলম্বিত হতে পারে। নৈরাজ্য দমনে সরকার শক্ত না হলে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সমর্থনে ‘তৃতীয় পক্ষ' সুযোগ নিতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে দলগুলো। তাই নিজেদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি না করে ঐক্যের মধ্যে থেকেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে তাগিদ দেন তারা।
কালের কণ্ঠ
নতুন করে ১০টি খাতের করছাড় তুলে দিয়ে বাড়তি ভ্যাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআর মূলত রাজস্ব ঘাটতি কমাতে এ বাড়তি করের বোঝা চাপিয়ে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা আদায় করতে চায়।
কিন্তু করের বোঝায় এমনিতেই ভোক্তার হাঁসফাঁস অবস্থা। আগে থেকেই মানুষ লাগামহীন মূল্যস্ফীতির চাপে পিষ্ট সেখানে নতুন এ উদ্যোগ আরেক দফা পণ্যমূল্য বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
বাজেটের আগেই নতুন করে চুনাপাথর, মোবাইল ফোন, সমুদ্রগামী জাহাজ, রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজার, পলিপ্রপাইলিন স্ট্যাপল ফাইবার, স্টেইনলেস স্টিল, স্যানিটারি ন্যাপকিন ও ডায়াপার, ফোর স্ট্রোক থ্রি-হুইলার, ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্পে ভ্যাটছাড় তুলে দিতে যাচ্ছে। এমনকি এসবের কোনো কোনোটির ওপর বিভিন্ন হারে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এতে ব্যবসা-বাণিজ্য আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ভোক্তাদের আরো বেশি দামে পণ্য কিনতে হবে।
বণিক বার্তা
তারল্য সংকটে থাকা ছয় ব্যাংককে সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা ধার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
এটি বণিক বর্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর লেনদেন পুরোপুরি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্ট থেকে ছয়টি ব্যাংককে সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা ধার দেয়া হয়েছে। এরপরও কোনো ব্যাংকের নগদ টাকা প্রয়োজন হলে সেটির জোগান দিতেও বাংলাদেশ ব্যাংক প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গতকাল আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার আমানতকারীদের প্রাপ্য মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে চায়। আপনারা যে ব্যাংকেই টাকা রাখুন না কেন, সেটি নিরাপদ। কোনো কারণেই আমানতকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। রোববার ব্যাংকগুলোর সব শাখা থেকেই চাহিদা অনুযায়ী টাকা তোলা যাবে।’
গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘যেসব ব্যাংকে তারল্য সংকট চলছে, সেগুলোর প্রতি গ্রাহকদের আস্থা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বদ্ধপরিকর। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা চাই, দেশের প্রতিটি আমানতকারী যেন মনে করেন ও আশ্বস্ত হন, তাদের আমানত নিশ্চিন্ত। সেটি যে ব্যাংকের আমানতই হোক না কেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার আমানতকারীদের স্বার্থ পুরোপুরি দেখবে। এটি হলো আমাদের মৌলিক নীতি। এ নীতির সঙ্গে সংগতি রেখে আমরা তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছি। তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী তারল্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর প্রত্যেক আমানতকারী সুরক্ষিত থাকবে সে নিশ্চয়তা দিচ্ছি।’
দেশ রূপান্তর
অন্তর্বর্তী সরকারের পুলিশ বাহিনীতে সংস্কারে গঠিত কমিশন পুলিশে নিয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তনের সুপারিশ করতে যাচ্ছে। কমিশনের খসড়া সুপারিশে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ও কনস্টেবল নিয়োগ ছাড়া আর কোনো নিয়োগ না করতে বলা হচ্ছে। এর ফলে কনস্টেবল থেকে বিভাগীয় পরীক্ষা দিয়ে একজন এএসআই, এসআই হয়ে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পাবেন। এ ক্ষেত্রে কনস্টেবল নিয়োগে শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির পরিবর্তে এইচএসসি করারও চিন্তাভাবনা চলছে বলে কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ সার্জেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
কমিশনের একটি সূত্র জানায়, রাজনীতি ও দুর্নীতির বেড়াজাল থেকে পুলিশ বাহিনীকে রক্ষা করতে নিয়োগে এসব পরিবর্তনের সুপারিশ করা হচ্ছে। সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ও কনস্টেবল নিয়োগ ছাড়া অন্য নিয়োগ বন্ধ হলে সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) নিয়োগ না করলেও চলবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে চলমান এসআই নিয়োগ প্রক্রিয়াতে এ সুপারিশ বাধা হবে না।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ বাহিনীতে সংস্কারে উদ্যোগ নেয়। গঠন করা হয় সংস্কার কমিশন। ওই কমিশন কয়েক দফা বৈঠক করেছে। তাছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরও ৩৯টি বিষয়ে প্রস্তাবনা দিয়েছে কমিশনের কাছে। তবে কমিশনের সুপারিশগুলো আমলে নেওয়া হবে কি না, তা নির্ভর করবে সরকারের ওপর। আগামী ৩১ ডিসেম্বর সংস্কার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, খসড়া সুপারিশে মারণাস্ত্র হিসেবে পরিচিত চায়নিজ রাইফেল ব্যবহার করতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তবে আন্দোলন বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে পুলিশ টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেডসহ অন্য সরঞ্জামাদি ব্যবহার করতে পারবে। এ ছাড়া হুটহাট গুলি করা যাবে না ও নিরপরাধ কাউকে আটক করা যাবে না। জনবান্ধব পুলিশ গড়ে তুলতে হবে। ব্রিটিশ আমলের আইনের ধারাগুলো পরিবর্তন করার উদ্যোগ থাকবে। একই সঙ্গে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের একাধিক সুপারিশ করছে কমিশন।
পুলিশ কমিশনের প্রধান থাকবেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)। সংস্কার কমিশনের কয়েকজন সদস্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, কর্মসময় আট ঘণ্টা করার সুপারিশ করা হচ্ছে। বাতিল হবে না ‘পুলিশ নিবারণ আইন’। পুলিশ হেফাজতে কোনো ঘটনা ঘটলে তার দায় নিতে হবে পুলিশকেই। এ ছাড়া এসপি-ডিআইজি নিয়োগে কোনো এমপি-মন্ত্রীদের চাহিদাপত্র (ডিও লেটার) বন্ধ করার প্রস্তাব ও রাজনৈতিক তদবির হলেই পদোন্নতি বাতিল করা সুপারিশ করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে পুলিশের সংস্কার কমিশনের প্রধান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব সফর রাজ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কমিশনের কাজ শুরু হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। জনবান্ধব পুলিশ গঠন করতে যা যা করা দরকার সেই সুপারিশ করা হবে। সবার মতামত নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা তৈরি করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ সদর দপ্তরের প্রস্তাবনাগুলোও আমরা পর্যালোচনা করছি। পুলিশও চাচ্ছে জনবান্ধব পুলিশ গঠন করতে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নেতিবাচক হওয়ায় পুলিশের অন্য সদস্যরাও বিব্রত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুলিশ যেমন কার্যপরিকল্পনা করে, আমরাও তেমন একটি সুপারিশ করব। ব্রিটিশ আমলের আইনের কিছু ধ্যান-ধারণা বাদ দিয়ে কীভাবে জনবান্ধব পুলিশ হতে পারে, সেদিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। জুলাই-আগস্টে পুলিশের যে ভূমিকা দেখা গেছে, ভবিষ্যতে যাতে সেরকম আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।’
