দুর্গম এলাকায় মালামাল বহনে ঘোড়ার গাড়িই ভরসা, পরিবহন করা হয় যাত্রীও 

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৪, ০২:০০

সখীপুরের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় মালামাল বহনে একমাত্র ভরসা হয়ে উঠছে ঘোড়ার গাড়ি। গ্রাম থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ সব ধরনের মালামাল ঘোড়ার গাড়িতে করেই আনা নেওয়া করা হচ্ছে। এতে জীবিকা নির্বাহ হয় অসংখ্য পরিবারের। ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে দৈনিক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয় বলে জানিয়েছেন, এ গাড়ি চালানোর সঙ্গে জড়িতরা।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলায় অসংখ্য ঘোড়ার গাড়ি রয়েছে। এসব গাড়ি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় মালামাল পৌঁছানো ছাড়াও বর্ষাকালে কাদায় ভরা সড়কে প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাত্রীবহনও করা হয়। সাধারণত মাইক্রোবাসের পুরোনো চাকা, কাঠ আর লোহার কাঠামো দিয়ে তৈরি হয় ঘোড়ার গাড়ি।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ধরনের মালামাল কিনে ঘোড়ার গাড়িতে করে নিয়ে যান। দূরত্বভেদে মণপ্রতি বিভিন্ন ধাপে ভাড়া নেন চালকরা। ধান-চাল, লাকড়ি, চিড়ানোর জন্য বিভিন্ন কাঠ, বাঁশ, ধানের আঁটি, কলা, বেগুন, খড়সহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহন করা হয় ঘোড়ার গাড়িতে। এছাড়াও সখীপুরের বনাঞ্চল ঘেঁষে বনভূমি এলাকায় এ মালবাহী ঘোড়ার গাড়ি বেশি দেখা যায়। বনভূমির দুর্গম উঁচু নিচু পাহাড়ি কাদাযুক্ত পথ মাড়িয়ে চলছে এ বাহন। এসব ঘোড়ার গাড়িতে বহন করা যায় ২৫-৩০ মণ ওজনের মালামাল। পাহাড়ি বনভূমিতে উৎপাদিত বেগুন, কলার ছড়া এবং কাঠ পরিবহনে এ এলাকায় একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে ঘোড়ার গাড়ি।

২০-২২ বছর ধরে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন জানান, ঘোড়ার গাড়ির চাকা চললে তাদের অনেকের চলে সংসারের চাকাও। এ আধুনিক যুগেও আদি পেশায় কাজ করে তারা টিকে রয়েছেন। উপজেলার চাম্বলতলা গ্রামের হাতেম আলী বলেন, টাঙ্গাইল, ভালুকা, বাসাইল, ঘাটাইল ও সখীপুর ছাড়াও শহরেও মালামাল পৌঁছে দিয়ে আসি। আমার উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম এ ঘোড়ার গাড়ি। 

বড়চওনা গ্রামের আনোয়ার বাদশাহ বলেন, বাপ-দাদার পেশা ঘোড়ার গাড়ি চালানো বেছে নিয়েছেন। আধুনিকতার এ যুগেও সব মিলিয়ে তার উপার্জন ভালোই হচ্ছে জানিয়ে বলেন, দৈনিক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা রোজগার করা যায়। এতেই তার সংসার চলে বলে যোগ করেন তিনি। ঘোড়ার গাড়িতে মালামাল পরিবহন করেন এমন কয়েক জন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, অনেকে দিনমজুরের কাজ ছেড়ে ঘোড়ার গাড়ি চালাচ্ছেন। এতে যেমন মানুষজন পরিবহন সেবা পাচ্ছেন অন্যদিকে গাড়ি চালকদের ভালো আয় হচ্ছে।

সাবেক ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন বলেন, দুর্গম এলাকায় পরিবহন ব্যবস্থা তেমন ভালো না। ঐসব অঞ্চলের মানুষ ঘোড়ার গাড়ি করেই বিভিন্ন মালামাল পরিবহন করছেন। এ গাড়ি চালিয়ে অনেকে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছেন।

ইত্তেফাক/এনএন