প্রতিদিন জাতীয় দৈনিকে অসংখ্য খবর প্রকাশিত হয়। সেইসব খবর থেকে আলোচিত কিছু খবরের সংকলন করা হলো।
ইত্তেফাক
১৫ বছর অকল্পনীয় দুর্নীতি হয়েছে: অর্থ উপদেষ্টা
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, গত ১৫ বছরে বিশেষ করে অর্থনৈতিক খাতে যে ধরনের দুর্নীতি হয়েছে, তা অকল্পনীয় এবং সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে ডিপোজিট নিয়ে চলে গেছে, যার দৃষ্টান্ত বাংলাদেশে বিরল। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেটার উত্তরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘প্রাইভেট সেক্টর আউটলুক: প্রত্যাশা ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক বাণিজ্য সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এ কথা হলেন। তিনি বলেন, ১৫ বছরের অনিয়ম-দুর্নীতি তিন থেকে চার মাসে স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল না হলে অন্য সূচকগুলোও স্থিতিশীল হয় না।
তবে ক্ষয় হয়ে যেতে শুরু করা অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আসতে শুরু করেছে এবং আরো ক্ষয় হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে তিনি বলেন, পলিসি রেট আপাতত বাড়ানো হচ্ছে না। আর বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ যেন না কমে সেদিকে নজর দিচ্ছে সরকার।
অর্থনীতি স্থিতিশীল হওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে। উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো ইতিবাচক সাড়া দিতে শুরু করেছে। গত মাসে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের সভায় যোগ দিয়ে সবার কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি। সরকারের বাজেট সহায়তা নয়; বরং বেসরকারি খাতই পাবে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা এমন পদচিহ্ন রেখে যেতে চাই, যাতে পরের সরকার এসে তা অনুসরণ করতে পারে। এটুকু বলা যায়, ভবিষ্যতে কেউ অর্থ পাচার করতে পারবে না। আর বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ যেন না কমে, সেদিকে নজর দিচ্ছে সরকার।
তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে ২২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। গভর্নর দিতে চাননি, আমি বলেছি দাও। এটা একটু স্থিতিশীল করি। পত্রিকায় আবার লেখা হলো, নতুন মুদ্রা ছাপানো হবে। তবে এর আগে ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাপানো হয়েছে, বিষয়টা এমন না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর প্রশাসন ও কর সংগ্রহের জায়গাটা আলাদা করার কাজ চলছে বলেও জানান অর্থ উপদেষ্টা।
প্রথম আলো
প্রকল্পে ১৫ বছরে পৌনে তিন লাখ কোটি টাকা লুটপাট
বিগত সরকারের আমলে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে প্রায় পৌনে তিন লাখ কোটি টাকা অপচয় বা নষ্ট হয়েছে। অর্থনীতি নিয়ে সরকারের শ্বেতপত্রে প্রকল্পের নামে টাকা অপচয়ের এমন চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের পাশাপাশি এডিপির দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থের অপচয়—এসব বিষয় নিয়ে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
গত ১৫ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মাধ্যমে খরচ করা হয়েছে প্রায় সাত লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। এর ৪০ শতাংশ টাকা লুটপাট করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পে মূলত রাজনৈতিক চাঁদাবাজি, ঘুষ এবং বাড়তি খরচ দেখিয়ে এই বিপুল অর্থ লুটপাট করেছেন বিদায়ী ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা ও সুবিধাভোগীরা।
শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, উন্নয়নের প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি বিনিয়োগে বিপুল অর্থ অপচয় হয়েছে। আর্থিক সম্ভাব্যতা যাচাই না করেই অনেক রাজনৈতিক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে এবং বাস্তবায়নের সময় নানাভাবে ‘নয়ছয়’ হয়েছে। সময়ে সময়ে প্রকল্পের সময় বাড়ানো হয়েছে। পছন্দের ব্যক্তিদের প্রতিযোগিতাহীনভাবে ঠিকাদারি দেওয়া হয়েছে ।
আজকের পত্রিকা
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ত্রিপুরার
এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পতার খবর, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন চলছে অভিযোগ করে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাঁর সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের কথা ভাবছে। একই অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ও ত্রিপুরার আগরতলার দুটি হাসপাতাল ঘোষণা দিয়েছে, তারা আর বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেবে না।
ভারতের স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক হারে কমে গেছে। এ জন্য তারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দায়ী করছে।
ভারতের আসাম থেকে প্রকাশিত ইংরেজি পত্রিকা দ্য আসাম ট্রিবিউনের অনলাইনে এক খবরে জানানো হয়েছে, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের বিষয়ে তাঁরা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছেন। আগরতলা প্রেসক্লাবে গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মানিক সাহা। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। তবে পরিস্থিতি যদি স্বাভাবিক না হয়, তাহলে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে।’
দ্য ডেইলি স্টার
Hills razed for 30 real estate projects in Ctg
অর্থাৎ, ‘চট্টগ্রামে ৩০টি আবাসন প্রকল্পের জন্য পাহাড় ধ্বংস’
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, চট্টগ্রাম শহরে অবশিষ্ট প্রায় ৮০টি পাহাড় বর্তমানে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের আবাসন প্রকল্পের হুমকির মুখে রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, গত ৫০ বছরে অন্তত ৩০টি আবাসন প্রকল্পের কাজে চট্টগ্রাম শহরের পাহাড় কেটে সমতল করা হয়েছে।
গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে চট্টগ্রাম শহরের পাঁচটি জোনে ৩২ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা জুড়ে পাহাড় ছিল। তবে ২০০৮ সালের মধ্যে এটি কমে ১৪ বর্গকিলোমিটারে নেমে এসেছে। ১৯৯০ সালে চট্টগ্রাম শহরের সবুজ আচ্ছাদন ছিল ৬৮ শতাংশের বেশি জায়গাজুড়ে, যা ২০২০ সালে কমে ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে। চট্টগ্রামের পাহাড় ধ্বংস শহরের পরিবেশ, ভূমিধস ও জলাবদ্ধতার বড় কারণ হয়ে উঠছে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শাস্তি হিসেবে দুই বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। গত দুই বছরে পাহাড় কাটার অভিযোগে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলা করা হলেও এতে পরিস্থিতির কোন বদল হয়নি।
মানজমিন
উন্নয়ন সহযোগীদের প্রকল্পে স্থবিরতা
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ও দেশব্যাপী চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ভারত, চীন, জাপান ও রাশিয়াসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী দেশের চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থবিরতা বিরাজ করছে।
কোনো কোনো প্রকল্পের কাজও বন্ধ রয়েছে। আবার কয়েকটি দেশ থেকে ঋণ ছাড়ও বন্ধ হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পগুলোতে কাজ বন্ধ থাকলে মেয়াদ ও ব্যয় বাড়তে পারে। এভাবে প্রকল্পগুলো থেকে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়ার ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের উচিত দ্রুত প্রকল্পগুলোর সমাধান দেয়া। এতে নেতিবাচক পরিস্থিতির কিছুটা অবসান ঘটবে।
সমকাল
দিল্লির ‘মন’ বুঝে এগোবে ঢাকা
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে সীমান্ত সমস্যা, নদীর পানিবণ্টনসহ দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয় ঝুলে গেছে। আমদানি- রফতানিও বিঘ্নিত।
এরই মধ্যে সংখ্যালঘু ইস্যু সামনে এনে ভারত সরকার, দেশটির গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সমন্বিতভাবে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারে নেমেছে। বাংলাদেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বার্তা দিলেও, দিল্লির আন্তরিকতা বুঝতে চাইছে ঢাকা এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে কর্তৃপক্ষ।
এক্ষেত্রে ড. ইউনূস সরকারের তিনটি দুর্বলতা চিহ্নিত করেছেন সাবেক কূটনীতিক ও বিশ্লেষকরা। প্রথমত, ভারত কোনো বিবৃতি দিলেই কেবল নড়েচড়ে বসছে ঢাকা। অথচ এসব ক্ষেত্রে আগেভাগে বাংলাদেশকে সক্রিয় হতে হবে। দ্বিতীয়ত, সব অপপ্রচার নিয়ে বাংলাদেশ মাথা ঘামাচ্ছে না। প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে বাছাই করে। তৃতীয়ত, ঢাকা থেকে প্রচার বিবৃতির ভাষা খুবই নমনীয়। অথচ যথাযথ ভাষা প্রয়োগ খুবই জরুরি।
যুগান্তর
খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা আরও কঠোর করার ফলে আগামীতে ব্যাংক খাতে চাপ বা সংকট বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এমনিতেই খেলাপি ঋণ ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে সংজ্ঞা আরও কঠোর করার ফলে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ আরও বেড়ে যাবে। এর বিপরীতে বাড়তি প্রভিশন রাখতে হবে। এছাড়া নতুন নীতিমালায় নিয়মিত ঋণের বিপরীতে প্রভিশন রাখার হার আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। এমনিতেই ব্যাংকগুলোয় ৫৬ হাজার কোটি টাকা প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে। এই বৃদ্ধির ফলে মূলধন ঘাটতিও বেড়ে যাবে। এতে বিনিয়োগযোগ্য তহবিল কমে যাবে। সার্বিকভাবে ব্যাংকগুলো আরও দুর্বল হবে।
সূত্র জানায়, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। লুটপাটের টাকা পাচার হয়েছে বিদেশে। এতে সার্বিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে ব্যাংক খাত। নয়টি ব্যাংক দখল করে লুটপাট করার ফলে ওইসব ব্যাংক এখন আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। এর নেতিবাচক প্রভাব অন্য ব্যাংকগুলোর ওপরও পড়েছে। এতে সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাচ্ছে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নতুন অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত জুন ও সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের খেলাপি ঋণের তথ্য প্রকাশ করেছে। দুই প্রান্তিক মিলে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা বেড়ে মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকায়। যা ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ১৭ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর সংবাদ সম্মেলনে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
আগামীতে তিনটি কারণে খেলাপি ঋণ বাড়বে। এক, আগে খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন করা হতো, এখন সব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। দুই, ব্যাংক খাতে গত ১৫ বছরে যে জাল-জালিয়াতি হয়েছে সেগুলোর সব তথ্য এখনও প্রকাশ হয়নি। এসব তথ্য প্রকাশিত হলে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাবে। তিন, খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা কঠোর করার ফলে নিয়মিত ঋণখেলাপি হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে গেছে। এসব কারণে আগামীতে খেলাপি ঋণ বাড়বে।
কালের কণ্ঠ
পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যে বাংলাদেশের অন্যতম দূষিত নদীতে পরিণত হয়েছে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা, কর্ণফুলী ও সুরমা নদী। বর্তমানে এই নদীগুলোর মরণদশা। অন্যদিকে পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা নদী দিয়ে প্রতিদিন ৭৩ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য সাগরে মিশছে।
এ ছাড়া ভারত, নেপাল ও চীনের বর্জ্য গঙ্গা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের মাধ্যমে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে সমুদ্রের তলদেশে যে হারে বাড়ছে পলিথিন-প্লাস্টিকের স্তর, তাতে আগামী ৫০ বছর পর সমুদ্রে মাছের চেয়ে পলিথিনের পরিমাণ বেশি হবে।
এভাবে পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণের কারণে বাস্তুতন্ত্র ও ভূমি দূষণ ঘটছে যা গাছপালা ও অন্যান্য প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে ফেলছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়ে বাতাস, পানি ও খাবারের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করছে।
এর প্রভাবে পেটের পীড়া, হরমোনের সমস্যা, লিভারের সমস্যা, দীর্ঘ মেয়াদে ফুসফুস, কিডনিজনিত রোগ ও ক্যান্সার রোগের ঝুঁকি তৈরি করছে। অথচ ঢাকায়প্রতিদিন ব্যবহার করা হচ্ছে দেড় কোটি পিস পলিথিন। গড়ে মাথাপিছু প্লাস্টিকের ব্যবহার বছরে ২৪ কেজির বেশি।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
সরকার পতনের আগে ও পরে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং অবকাঠামোয় হামলার ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে পুলিশ। পুলিশ না থাকায় বেড়েছে চুরি-ডাকাতি ছিনতাইসহ বহুমাত্রিক অপরাধ। শহর-সড়ক-জনপদ সবই অনিরাপদ।
যৌথ বাহিনীর সহায়তা ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিতে এখনো শতভাগ ভূমিকা রাখতে পারছেন না পুলিশ সদস্যরা। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উচিত হবে স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্বরত ফোর্সকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূলে গিয়ে সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিদের সহায়তা নেওয়া।
পুলিশে মিলিটারাইজেশনের কারণে পুলিশে সংস্কার জরুরি বলেও মনে করেন কেউ কেউ। এক্ষেত্রে জনগণকে সম্পৃক্ত করে পুলিশিং করলে বড়সংখ্যক পুলিশের প্রয়োজন হবে না।
দেশ রূপান্তর
শেখ হাসিনাকে দিল্লির আশ্রয় দেওয়া নিয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্ররা নাখোশ থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটবে না বলে জানিয়েছিল। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় চার মাসের মাথায় দুই দেশের সম্পর্কে বড় টানাপড়েনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে এবং দিন দিন কূটনৈতিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করে ভারত আগেই দূরত্ব তৈরির পথে হাঁটে। এরপর বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের ধোঁয়া তুলে পরিস্থিতি আরও ঘোলা করার চেষ্টা করছে। সাথে দেশটির গণমাধ্যমেও চলছে অতিরঞ্জন।
এই ইস্যুতে বাংলাদেশিদের চিকিৎসা বন্ধের সিদ্ধান্তও নিয়েছে কলকাতার একটি হাসপাতাল। এ পরিস্থিতিতে আগামী ১০ই ডিসেম্বর ঢাকায় দুই দেশের সরকারের উচ্চপর্যায়ের মধ্যে একটি বৈঠক হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত হবে কি না এ নিয়েও রয়েছে সংশয়।
বণিক বার্তা
ব্যাংক খাতের দুর্দশার দায় অডিট ফার্ম ও ক্রেডিট রেটিং প্রতিষ্ঠানেরও
বেসরকারি খাতের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের (এফএসআইবিএল) ঋণমান বা ক্রেডিট রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘এ প্লাস’ (A+)। স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-২’। পাশাপাশি ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ পূর্বাভাসও স্থিতিশীল। ২০২৩ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ব্যাংকটির এ ঋণমান দিয়েছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)। এ সময় ব্যাংকটির বহির্নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান ছিল খান ওয়াহাব শফিক রহমান অ্যান্ড কোম্পানি। বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত এ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশীদার মোহাম্মদ শহিদ ব্যাংকটির আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করেছিলেন।
ব্যাংকটির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এফএসআইবিএলের খেলাপি ঋণ মাত্র ২ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪ শতাংশেরও কম। গত বছর ৩৩১ কোটি টাকা নিট মুনাফা করা ব্যাংকটির মূলধন কাঠামোও বেশ শক্তিশালী।
নিরীক্ষক ও ক্রেডিট রেটিং প্রতিষ্ঠানের এসব তথ্য আমলে নিলে যেকোনো বিচারে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা বেশ ভালো। যদিও বাস্তবতা সম্পূর্ণ বিপরীত। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পর হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে ব্যাংকটির আর্থিক সক্ষমতা। বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংকটির নিজস্ব নিরীক্ষায় উঠে আসতে থাকে ব্যাপক মাত্রায় জালিয়াতির তথ্য।
অর্থ উত্তোলনের চাপে প্রায় বন্ধ হয়ে যায় ব্যাংকটির ক্যাশ কাউন্টারও। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক নিরীক্ষা বলছে, নামে-বেনামে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে এস আলম গ্রুপ। আর ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হারও ২০ শতাংশের বেশি। সঠিকভাবে হিসাবায়ন করলে ব্যাংকটির কোনো মুনাফাই হওয়ার কথা নয়। অর্থাৎ নিরীক্ষক ও ক্রেডিট রেটিং প্রতিষ্ঠান যেসব তথ্যের সত্যায়ন করেছিল, সেগুলো পুরোপুরি অসত্য।
