সিরাজগঞ্জের তাড়াশে পশু কেনায় চারগুণ বেশি খাজনা নেওয়া হচ্ছে। প্রসিদ্ধ নওগাঁ হাটের পশু ক্রেতারা অভিযোগ করেন ইজারাদারের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে খাজনার রশিদে টাকার পরিমাণ লেখা হয়না। পশু বিক্রেতারও টাকা দিতে হয় এ হাটে পশু কিনে। ছাগলের খাজনা ৫০ টাকার বদলে ২৫০ টাকা। গরুর খাজনা ৪০০ টাকার বদলে ৬০০ টাকা দিত হয়।
তাড়াশ সদর ইউনিয়নের কাউরাইল গ্রামের আবু সাইদ বলেন, ২টি ছাগলের বাচ্চাসহ ৫টি ছাগল কিনেছেন। খাজনা নিয়েছেন ১ হাজার টাকা। বিক্রেতারও ২৫০ টাকা নিয়েছেন।
উল্লাপাড়া উপজেলার বাঙ্গালা ইউনিয়নের উত্তর মোহনপুর গ্রামের ছোরমান আলী বলেন, আমি ৫২ হাজার টাকা দিয়ে ১টি গরু কিনেছি। খাজনা নিয়েছেন ৫০০ টাকা। বিক্রেতারও ১০০ টাকা নিয়েছেন।
চেংটিয়া গ্রামের মকুল হোসেন বলেন, দুইটি গরু কিনেছেন। একটির দাম ৩৩ হাজার, আরেকটি কিনেছেন ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে। তার কাছ থেকে খাজনা নিয়েছেন ৫০০ করে ১ হাজার টাকা। সলঙ্গা থানার রাম কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মনি সরকার বলেন, ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছি। খাজনা দিতে হয়েছে ৫০০ টাকা।
মকুল হোসেনের কাছে গরু বিক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, ২টি গরু বিক্রি করেছি। ২০০ টাকা নিয়েছেন আমার কাছ থেকে।
গুরুদাসপুর উপজেলার মোয়াখাড়া গ্রামের আলমাছ আলী বলেন, ২টি ছাগল কিনেছেন। খাজনা নিয়েছেন ২৫০ করে ৫০০ টাকা। যার কাছ থেকে কিনেছেন, তারও ৫০ করে একশ টাকা দিতে হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের হাটবাজার শাখা সূত্রে জানা গেছে, গরু ও মহিষের খাজনা ৪০০ টাকা। ছাগল ও ভেড়ার খাজনা মাত্র ৫০ টাকা। পশু বিক্রেতার টাকা নেওয়া যাবেনা।
ভুক্তভোগী পশু ক্রেতা ও বিক্রেতারা আরও বলেন, কোরবানির ঈদ ও রোজার ঈদের তিন থেকে চার হাট গরু ও মহিষ প্রতি খাজনা আদায় করেন ১ হাজার টাকা। ছাগল ও ভেড়ার খাজনা নেয় ৫০০ টাকা করে। তখন গরু বিক্রেতাদের দিতে হয় ২০০ টাকা, ছাগল বিক্রেতাদের দিতে হয় ১৫০ টাকা। নওগাঁ হাটের অবস্থান সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর জেলার সীমান্তবর্তী। ঐতিহ্যবাহী হাটগুলোর মধ্যে এ হাট অন্যতম। ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিও বেশি। কয়েক বছর ধরে ইজারাদার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। প্রতিকার মিলছেনা।
জানা গেছে, প্রতি বৃহস্পতিবার নওগাঁ হাটে ১২ থেকে ১৫ হাজার গরু বেচা-কেনা হয়। কোরবানি ও রোজার ঈদে ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যায় বেচা-কেনা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ইজারাদারের লোকজন হাটের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে টেবিল বসিয়ে খাজনা আদায় করছেন। খাজনা আদায়ের রশিদে টাকার অংক ফাঁকা রেখে ক্রেতা-বিক্রেতার নাম, ঠিকানা ও মূল্য লিখে দিচ্ছেন। হাটে খাজনা আদায়ের মূল্য তালিকা নেই।
নওগাঁ হাটের ইজারাদার হাই চৌধুরী বলেন, প্রায় ৩ কোটি টাকা হাটের ইজারা মূল্য। অনেক লোকজন খাটাখাটি করেন পশুর হাটে প্রতি বৃহস্পতিবার। তাদের টাকা দিতে হয়। লোকসান গুণতে হবে খাজনা বেশি না উঠালে।
নওগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নওগাঁ ইউনিয়ন হাট-বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মজনু সরকার বলেন, উপজেলা হাট-বাজার পরিচালনা কমিটির নজরদারির অভাবে সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে দীর্ঘ দিন ধরে খাজনা আদায় করা হচ্ছে। আমার কথা কে শোনে!
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা হাট-বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুইচিং মং মারমা দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে খাজনা আদায়ের সুযোগ নেই। সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
