হামলা নয়, দুর্ঘটনার কবলে ভারত থেকে আসা বাস

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৪, ২১:২২

ভারত থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী বাসে হামলা নয়, বরং দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. জাবেদুর রহমান।

রোববার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গতকাল শনিবার দুপুরে ঘটা সড়ক দুর্ঘটনার খবরটি ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংখ্যালঘুদের উপর পরিকল্পিত হামলা বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মূলত চার লেন সড়কের নির্মাণ কাজের জন্য কুমিল্লা- সিলেট সড়ক স্বাভাবিকভাবেই সরু এবং বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সুপার বলেন, শনিবার দুপুরে আগরতলা থেকে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের বাসটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার চান্দিয়ারা এলাকা অতিক্রম করার সময় একটি ট্রাক বাসটিকে ওভারটেক করতে গিয়ে চাপ দেয়। এ সময় বাসটি বাঁদিকে সরে গিয়ে একটি তিন চাকার ভ্যানকে চাপা দেয়। এতে ভ্যানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভ্যানচালক আহত হয়। তবে বাসে থাকা সকল যাত্রীরা অক্ষত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, বাসের ১৭ জন ভারতীয় এবং ৯ জন বাংলাদেশি যাত্রী ছিলো। ঘটনার পর শ্যামলী পরিবহনের বাসচালক আসাদুল হক ও ভ্যানচালক ইব্রাহিম এর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্যামলী পরিবহন বাসের কর্তৃপক্ষ এবং ভ্যান কর্তৃপক্ষের সাথে বিষয়টি আলোচনা করে মীমাংসা হয় এবং বাসটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। সেখানে কোনো রকম হামলা কিংবা কোনো দেশ বা সম্প্রদায়কে কটাক্ষ করে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে একটি চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। এ অবস্থায় এমন গুজব রটিয়ে দিয়ে দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো অত্যন্ত দুঃখজনক।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা শ্যামলী পরিবহনের বাস চালক মো. আসাদুল হক বলেন, ‘একটি ট্রাক ওভারটেক করতে গেলে আমি ইমার্জেন্সি ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে যাই। এ সময় পিছনে থাকা একটি তিন চাকার কাভার্ড ভ্যান ধাক্কা লাগে। এতে ভ্যানটি বাসের পিছনে আটকে যায়। বিষয়টি হাইওয়ে থানা পুলিশকেও অবহিত করা হলে পুলিশ এসে রেকার দিয়ে ভ্যানটি সরিয়ে নেয়। দুর্ঘটনায় বাসের কোনো ক্ষতি হয়নি কিংবা যাত্রীরা আঘাতপ্রাপ্ত হননি।’

তিনি আরও বলেন, বাসে থাকা ভারতীয় যাত্রীদের সাথে স্থানীয় সাধারণ মানুষের কোন বাক-বিতণ্ডা বা কোনো রকম ঝামেলা হয়নি। ভারতীয় গণমাধ্যমে বাসে হামলার খবর দেখে আমিও অবাক হয়েছি।

 

ইত্তেফাক/এমএএস