কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের ৮টি দানবাক্সে কোটি টাকা

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৯, ০৩:০২

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স হিসেবে ব্যবহৃত  মোট আটটি লোহার সিন্দুক খুলে গণনা করে পাওয়া গেছে সর্বমোট ১ কোটি ১৪ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫০ টাকা। খালি করার ঠিক তিন মাস  পর  শনিবার লোহার সিন্দুকগুলো  খুলে উল্লেখিত পরিমাণ টাকা পাওয়া যায়। তাছাড়াও পাওয়া গেছে প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা, দেশিয় খুচরা মূদ্রা এবং স্বর্ণাংলকার। 

জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টা থেকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) আবদুল্লাহ আল মাসউদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে টাকা বাছাই ও গণনার কাজ শুরু হয় এবং বিকাল পর্যন্ত এই টাকা গণনার কাজ চলে। মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষক, মসজিদ কমিটির লোকজন টাকা বাছাই পর্বে অংশ নেয়। বাছাইয়ের পর টাকাগুলো বস্তায় ভরা হয় এবং পরে  রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারিগণ টাকাগুলো গুনে বুঝে নেন। পাগলা মসজিদের নামে রূাপালী ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট আছে। পরে প্রাপ্ত টাকা ব্যাংকের হিসাবে জমা দেওয়া হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ কালেক্টরেটের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনোয়ার হোসেন, মীর মো. আল কামাহ তমাল, শফিকুল ইসলাম, উবাইদুর রহমান সাহেদ, তাহমিনা সুলতানা নীলা প্রমুখ। গত ১৩ এপ্রির্ল মসজিদের দানবাক্স খুলে পাওয়া গিয়েছিল  ১ কোটি  ৮ লাখ ৯ হাজার ২০০  টাকা। সাধারণত: তিন মাস পরপর এই সিন্দুকগুলো খোলা হয়।

উল্লেখ্য, জেলা শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে স্থাপিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদকে ঘিরে অনেক জনশ্রুতি রয়েছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমান এই মসজিদে আসে। তারা দান ও মানত করে যায়। তাছাড়াই প্রতিদিনই লোকজন মানত করা গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি প্রভৃতি নিয়ে আসে। ওইগুলো বিক্রি করে পরে মসজিদের ফান্ডে জমা দেয়া হয়। পরে প্রাপ্ত অর্থ থেকে বিভিন্ন মসজিদের উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়ে থাকে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি/এমআই