সিলেট অঞ্চলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে। শনিবার সন্ধ্যায় সুরমা, কুশিয়ারা, সারিসহ বিভিন্ন নদীর পানি হু-হু করে বাড়ছে। সুনামগঞ্জ জেলা শহরের নবীনগর-ধারার গাও এলজিইডি‘র পাকা সড়ক ঢলের তোড়ে ভেসে গিয়ে কয়েক ফুট গর্তের সৃষ্টি হয়। শহরের সাথে কয়েকটি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। জকিগঞ্জের বাঁধ ভেঙে পানি বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে পড়েছে।
সুনামগঞ্জের অবস্থা খুবই খারাপ। ১১টি উপজেলা বন্য কবলিত। জেলা প্রশাসন ২০ লাখ টাকা ৫০০ মেট্রিক টন চালের জন্য চাহিদা পত্র প্রেরণ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে।
এদিকে, ভারতের আসাম ও মনিপুর রাজ্যে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বরাকের দুকূল ছাপিয়ে পানি নামছে ভাটিতে। প্রতিমুহূর্তে আসামের বরাক নদীর পানি বড়ছে। সকালে কিছুটা স্থির হলেও দুপুরের পর থেকে আবার সুরমা-কুশিয়ারা আববাহিকায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। সিলেটের জনপদ, ফসলীজমি, রাস্থাঘাট, অবকাঠামো ডুবছে। কুশিয়ারায় প্রবল চাপ সৃষ্টি হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেশ কয়েকটি ডাইক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। দক্ষ জনবলের অভাবে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড হিমশীম খাচ্ছে।
আগামী কয়েকদিন সিলেট অঞ্চলের নদী সমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনার কথা সংস্লিষ্ট মহলকে অবহিত করে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করেছেন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. নিজামুল হক ভুঁইয়া। অন্যদিকে মেঘালয় ও আসামে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেটবাসী শঙ্কিত।
%2013.7.7.2019.jpg)
সূত্র মতে, বন্যা শুরুর পূর্বে সিলেটে নদী ভাঙন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অস্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙা অংশ বন্ধকরণ, মেরামত কাজ, বাঁধের স্লোপ প্রতিরক্ষা কাজ, বিকল্প বাঁধ নির্মাণসহ জরুরি কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয় জুনের শেষে। এর মধ্যে বৃহত্তর সিলেটের মোট ১৮২টি পয়েন্টে জরুরি কাজ বাস্তবায়ন শুরু হলেও অনেকগুলোর কাজ চলমান রয়েছে। সিলেট অঞ্চলে আবার জরুরি কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য দক্ষ শ্রমিক ও আগ্রহী ঠিকাদারের সংকট থাকায় এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড বেশ বিপাকে পড়েছে।
‘নানা অসুবিধা সত্বেও বন্যা ও নদী ভাঙনের দুর্যোগ থেকে জান-মাল রক্ষায় আন্তরিক ভাবে কাজ করছি,’ মন্তব্য করে প্রধান প্রকৌশলী মো. নিজামুল হক ভুঁইয়া শনিবার সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে বলেন, শুক্রবার থেকে কয়েকটি স্থানে জরুরি পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। এরমধ্যে জকিগঞ্জ উপজেলার ছবরিয়া এলাকায় ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যে এবং মানিকপুর এলাকায় ৫০ মিটার দৈর্ঘ্যে কুশিয়ারার প্রবল ঢেউয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আঘাত হানে, বিয়ানীবাজারের দীঘলবাক ইউনিয়নের শেওলা এলাকায় বাঁধের ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে অংশ দুপুরের দিকে আকস্মিকভাবে নদীতে ধস নামে, ওসমানীনগরে সৈয়দপুর ও লামাতাজপুরের ৩টি স্থান দিয়ে কুশিয়ারার পানি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করতে থাকে ও নবীগঞ্জের পারকুল এলাকায় কুশিয়ারা নদীর বাম তীরের প্রায় ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক মাত্রায় আঘাত আনলে বালু ভর্তি জিও-ব্যাগ দিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হয়। শুক্রবার রাতে ধলাই নদী বিপদসীমা অতিক্রম করে মৌলভীবাজার জেলার ঘোড়ামারা নামক স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পূর্বের ভাঙ্গাঅংশ দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।
কর্মকর্তরা জানান, ‘উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রায় সকল নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও দেশের প্রধানতম নদী প্রণালী তিস্তা-ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা বেসিনে সমানতালে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। যে কারণে সিলেট অঞ্চলের নদীগুলোর পানি নিষ্কাশনে শ্লথগতি। তাই যে কোন সময় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে অথবা বাঁধ উপচে আকস্মিকভাবেই এলাকায় বন্যার পানি ঢুকতে পারে। ‘এতে জান-মালের ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না,’ বলে মনে করেন প্রকৌশলী নিজামুল হক ভূঁইয়া। তিনি জানান, এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে জানানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআই
