প্রতিদিন জাতীয় দৈনিকে অসংখ্য খবর প্রকাশিত হয়। সেইসব খবর থেকে আলোচিত কিছু খবরের সংকলন করা হল
ইত্তেফাক
বেআইনি পুনঃতদন্ত ও বিচারে সাজা হয়েছিল তারেক রহমানের
একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার সম্পূরক চার্জশিট এবং বিচারের প্রক্রিয়াটাই ছিল বেআইনি। যে কারণে আপিল না করেই খালাস পেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিচারিক আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েক জন। পুরো মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো উপাদানই ছিল না। ‘আপনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবেন’, মুফতি হান্নানকে ১৬৭ দিন রিমান্ডে নিয়ে তারেক রহমান তাকে এ কথাটি বলেছিলেন বলে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছিল।
শুধু এই একটি কথার ভিত্তিতেই তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। অথচ জেলখানায় গিয়ে মুফতি হান্নান এই স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারেরও আবেদন করেছিলেন। তাকে নির্যাতন করে এই একটি কথা বলাতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও হান্নান দাবি করেছিলেন। যদিও একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার শেষ হওয়ার আগেই অন্য মামলায় তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। যে কারণে আসামি পক্ষ তাকে এই জবানবন্দির বিষয়ে জেরা করার সুযোগ পায়নি।
প্রথম আলো
আওয়ামী লীগ আমলে পাচার ২৮ লাখ কোটি টাকা
দেশের অর্থনীতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়া শ্বেতপত্রে এ প্রাক্কলন করা হয়েছে। শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি গতকাল তাদের প্রতিবেদন হস্তান্তর করে। এই প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন খাতে দুর্নীতি ও লুটপাটের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়। বলা হচ্ছে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। এই হিসাবে প্রতিবছর গড়ে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে।
এসব অর্থ পাচারে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, আর্থিক খাতের রাঘববোয়াল (ক্রীড়নক), আমলা ও মধ্যস্বত্বভোগীরা জড়িত। গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি রিপোর্টস (জিএফআইআরএস) এবং কিছু নির্দিষ্ট পূর্বানুমানের ভিত্তিতে টাকা পাচারের হিসাব করেছে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি। শ্বেতপত্র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে অর্থ পাচার বাংলাদেশে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। টাকা পাচারের বিষয়টিকে অর্থনীতিতে ক্ষতিকর ‘টিউমার’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি মনে করে, প্রতিবছর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৪ শতাংশের পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ও প্রবাস আয় থেকে যত অর্থ এসেছে, এর এক-পঞ্চমাংশ পরিমাণ অর্থ এক বছরে পাচার হয়। বিদেশি ঋণ ও বিনিয়োগ হিসেবে যত অর্থ আসে, এর দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থ পাচার হয়।
শ্বেতপত্র প্রতিবেদনে সব মিলিয়ে ২২টি ক্ষেত্রে আলোকপাত করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, সরকারি ব্যয় (সরকারি বিনিয়োগ, এডিপি, ভর্তুকি ও ঋণ), ঘাটতি বাজেট অর্থায়ন, মূল্যস্ফীতি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা, সরকারি কেনাকাটা ও খাদ্য বিতরণ, রপ্তানি, আমদানি, প্রবাসী আয়, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিদেশি অর্থায়ন।
ডেইলি স্টার
‘$234 BILLION siphoned off during AL rule’
অর্থাৎ ‘আওয়ামী লীগ আমলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার অর্থ পাচার’
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাচার হওয়া অর্থ প্রাথমিকভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, হংকং, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং ভারতের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ট্যাক্স হেভেনে পাঠানো হয়েছিল বা পাচার করা হয়েছিল।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এই প্রতিবেদনকে ‘ঐতিহাসিক দলিল’ বলে অভিহিত করেছেন। গতকাল কমিটির সভাপতি দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের কাছ থেকে শ্বেতপত্র গ্রহণের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে যে অর্থনীতি পেয়েছি তা এটি আমাদের দেখিয়ে দেবে।
আজকের পত্রিকা
তারেকের দেশে ফেরার বাধা আরও ৪ মামলা
একুশে অগাস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দুই মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খালাস পেলেও এখনও চারটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তিনি। সেসব মামলায় হওয়া শাস্তি তার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বাধা। তবে, এই মামলাগুলোকে মিথ্যা দাবি করে তারেক রহমানের আইনজীবীরা বলছেন, সাজাপ্রাপ্ত ওই চারটি মামলায়ও তিনি ন্যায়বিচার পাবেন বলে তাদের প্রত্যাশা।
যে চার মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সাজা ঝুলছে, এর মধ্যে একটি হচ্ছে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলা। যেটিতে তারেক রহমানকে ২০২৩ সালে নয় বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারেক রহমানকে পলাতক ঘোষণা করে এই মামলার বিচারকাজ শেষ করা হয়। পলাতক থাকায় এই মামলায় আপিল হয়নি।
সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচারের অভিযোগে আরেক মামলায় ২০১৩ সালে নিম্ন আদালতে খালাস পেলেও দুদকের আপিলে ২০১৬ সালে তারেক রহমানকে সাত বছরের সাজা দেন হাইকোর্ট। ২০১৮ সালের আটই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় তারেকের ১০ বছরের দণ্ড হয়। এছাড়া, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে মানহানির এক মামলায় ২০২১ সালের চৌঠা ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানকে নড়াইলের একটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দুই বছরের কারাদণ্ড দেন।
যুগান্তর
খেলাপি ঋণ ২৫-৩০ শতাংশে পৌঁছে যাবে
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, আগামী দিনে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে পৌঁছে যাবে। এসব ঋণের বড় অংশই ২০১৭ সালের পর দেওয়া হয়েছে। এসব ঋণ এখন খেলাপি হচ্ছে। এখন যা সাড়ে ১২ শতাংশ। আগামী মাসে তা ১৫ শতাংশ, এরপর ১৭ শতাংশ হয়ে ধীরে ধীরে ৩০ শতাংশে পৌঁছে যেতে পারে। এসব ঋণ আগেই খেলাপি হয়ে আছে। আগে দেখানো হয়নি। এখন হিসাব করে তা দেখানো হচ্ছে। এটা কমিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ শুরু করেছে। তবে সময় লাগবে।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতিবিষয়ক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়া উপলক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় গভর্নর এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। রোববার দুপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি প্রতিবেদনটি জমা দেয়।
বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমরা দেশের আর্থিক খাতের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছি। এতে আর্থিক খাতের যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে তাতে আঁতকে ওঠার মতো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সামনে খেলাপি ঋণ যা দাঁড়াবে, এর অর্ধেক বা আড়াই লাখ কোটি টাকা হবে এস আলম, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ বড় কয়েকটি গ্রুপ ও ব্যবসায়ীর। ২০১৭ সালের পরে জালজালিয়াতির মাধ্যমে এসব ঋণ নেওয়া হয়। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা পাচার করা হয়। এসব তথ্য পাওয়ার সঙ্গে ওইসব ঋণ খেলাপি হচ্ছে। ফলে সামনে খেলাপি ঋণ ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে পৌঁছে যাবে।
মানবজমিন
সংখ্যালঘু ইস্যুতে কূটনীতিকদের ব্রিফ করবে সরকার
ধর্মীয় সংখ্যালঘু ইস্যুতে কূটনীতিকদের অবহিত করবে সরকার। পাশাপাশি ইসকনসহ সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহের বিষয়েও সরকারের অবস্থান খোলাসা করা হবে। মূলত এই ক’দিনে বাংলাদেশ নিয়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন ফোরামে সরকারের প্রতিনিধিরা যা বলেছেন তারই সারাংশ তুলে ধরা হবে ব্রিফিংয়ে।
এজন্য আজ সোমবার এক জরুরি কূটনৈতিক ব্রিফিং আহ্বান করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কেবল হাইকমিশনার বা মিশন প্রধান নন, যেকোনো কূটনীতিকই এতে অংশ নিতে পারবেন। ডিপ্লোমেটিক মিশন নয় এমন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সংগঠনের প্রতিনিধিদের এবার দাওয়াতের বাইরে রাখা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসকনসহ সংখ্যালঘু ইস্যুতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে নানা রকম খবর ছাপা হচ্ছে। যার অনেকটাই অসত্য বলে দাবি পররাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের। সরকার তাদের দাবির পক্ষে কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে দালিলিক প্রমাণ হাজির করবে এমনটা বলা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সরকার পেশাদার কূটনীতিকদের সহায়তা চাইবেন বলেও এতে বলা হয়েছে।
সমকাল
ক্যাডার’ শব্দ বাদ দেওয়ার চিন্তা
‘ক্যাডার’ শব্দটি নেতিবাচক হওয়ায় সরকারি চাকরিতে এটি বাদ দেওয়ার সুপারিশ করবে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। এর বদলে সিভিল সার্ভিস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সিভিল সার্ভিস হেলথ, সিভিল সার্ভিস এগ্রিকালচার বলার সুপারিশ করা হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোখলেস উর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য সুপারিশ করার কথা বলেছেন জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আমরা মানুষের অগ্রাধিকারটা বোঝার চেষ্টা করছি। কাজ ব্যাপক। সে জন্য একটু সময় লাগছে। তিন মাসে এটা করা খুব কঠিন। তবু আমরা চেষ্টা করব।
ঢাকার বাইরে সাধারণ মানুষের বক্তব্য শোনার জন্য কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন বলেও জানান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী।
কালের কণ্ঠ
সম্পূরক অভিযোগপত্র ছিল বেআইনি: হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ
বিচারিক আদালতের রায় অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুফতি আবদুল হান্নানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও ২৫ জন শ্রুত সাক্ষীর জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে বিচারিক আদালত এই রায় দিয়েছেন। এই ২৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দির একটি আরেকটিকে সমর্থন করেনি।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, কোনো চাক্ষুষ সাক্ষী ছিল না। কে গ্রেনেড সরবরাহ করেছে তা চার্জশিটে দেখাতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা। আর গ্রেনেড কে ছুড়েছে তার কোনো চাক্ষুষ সাক্ষী নেই। যেসব সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাদের কেউ তা বলতে পারেননি।
আদালত বলেছেন, মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কোনো প্রমাণযোগ্য বা আইনগত মূল্য নেই। কারণ জীবদ্দশায় তিনি তার স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করে গেছেন। এই স্বীকারোক্তি জোর করে নেওয়া হয়েছিল দাবি করা হয়েছে। তা ছাড়া মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তিটি সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা যথাযথ পরীক্ষা এবং গ্রহণ করা হয়নি।
বণিক বার্তা
ফাঁকা পড়ে আছে পদ্মা সেতুর বিলাসবহুল অতিথিশালা
শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতু থেকে নেমে বাঁ দিকে তাকালেই চোখে পড়ে লাল ভবনের সারি। নদীতীরেই ৫৫ একর এলাকাজুড়ে বৃত্তাকারে গড়ে তোলা হয়েছে ৩০টি ডুপ্লেক্স বাড়ি। প্রতিটির আয়তন তিন হাজার বর্গফুট। ভেতরে সব দামি আসবাব আর তৈজসপত্রের সমাহার। বিলাসবহুল এ অতিথিশালা নির্মাণ হয়েছে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের আওতায়। দৃষ্টিনন্দন ভবন ছাড়াও সেখানে রয়েছে সুইমিংপুল, টেনিস কোর্ট, বাস্কেটবল কোর্ট, জিমনেশিয়ামসহ অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা।
সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পদ্মা সেতু ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনার কথা চিন্তা করেই মূলত বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে রিসোর্টটি নির্মাণ করা হয়েছে। যদিও প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অতিথিশালার কয়েকটি বাড়ি শুরুতে পদ্মা সেতু প্রকল্পের কর্মকর্তারাই কেবল ব্যবহার করতেন। পরিদর্শনে গিয়ে মাঝেমধ্যে থাকতেন সরকারের মন্ত্রী-আমলারাও। প্রকল্প শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন আর কোনো বাড়িই ব্যবহার হচ্ছে না। অলস পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে দামি সব অবকাঠামো আর আসবাব।
পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সার্ভিস এরিয়া-২ প্যাকেজের মাধ্যমে বিলাসবহুল অতিথিশালাটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর কার্যাদেশ দেয়া হয় ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি। কাজ শেষ হয় ২০১৬ সালের জুলাইয়ে। এটি নির্মাণের জন্য ঠিকাদারের সঙ্গে প্রায় ২০৯ কোটি টাকার চুক্তি হয়, যদিও ব্যয় হয় ১৯৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
দেশের বৃহৎ এ সেতু ঘিরে নির্মিত পুরো অতিথিশালাটি পাঁচটি ক্লাস্টারে ভাগ করা। প্রতিটির রয়েছে নিজস্ব নাম—বকুল ভিআইপি রিসোর্ট, কামিনী রিসোর্ট, শাপলা রিসোর্ট, মাধবীলতা রিসোর্ট ও রজনীগন্ধা রিসোর্ট। বৃত্তাকারে সাজানো ক্লাস্টারগুলোয় রয়েছে ছয়টি করে ডুপ্লেক্স বাড়ি। এছাড়া অতিথিশালায় রয়েছে একটি দ্বিতল মোটেল মেস। প্রতি তলায় আছে ২০টি করে অ্যাপার্টমেন্ট, যেগুলোর প্রতিটির আয়তন ৩০০ বর্গফুট। এর বাইরে রয়েছে একটি অভ্যর্থনা ভবন। সেখানেও প্রশস্ত ডাইনিং হল ও জিমনেসিয়ামের ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যান্য সুবিধার মধ্যে আছে অফিস ভবন, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, টেনিস কোর্ট, বাস্কেটবল কোর্ট, সুইমিংপুল, মসজিদ, পাম্প হাউজ, বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন, গার্ড হাউজ ও পার্কিং এলাকা।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্মাণের পর অতিথিশালার কয়েকটি বাড়ি প্রকল্পের কর্মকর্তারা ব্যবহার করতেন। এর বাইরে ঢাকা থেকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও আমলারা পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন সময় থেকেছেন। তবে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর অতিথিশালার কোনো বাড়িই আর ব্যবহার হচ্ছে না।
দেশ রূপান্তর
সামনে একটু কঠিন সময় পার করতে হবে
কঠিন সময় পার করে দেশ ও জাতিকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সেনাপ্রধান। স্বাধীনতা যুদ্ধে সেনাবাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত এবং অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সেনাসদস্য ও তাদের নিকটাত্মীয়দের সংবর্ধনায় গতকাল ঢাকা সেনানিবাসে একটি অনুষ্ঠানে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দেশের ক্রান্তিকালে দিন-রাত সেনাসদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
সামনে কিছুটা কঠিন সময় পার করতে হবে উল্লেখ করে অবসরপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা সেনাসদস্যদের উদ্দেশে সেনাপ্রধান বলেন, এটা একমাত্র সম্ভব হয়েছে আপনাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, আপনারা আমাদের যেভাবে প্রশিক্ষিত করেছেন, যেভাবে মোটিভেট করেছেন, যেভাবে আমাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তার ফলে আজকের এ সেনাবাহিনী বর্তমান জায়গায় আছে।
এটার কৃতিত্ব-অবদান সম্পূর্ণই আপনাদের। আপনারা আমাদের দোয়া করবেন, আমরা যেন ভবিষ্যৎ সময়ে সামনে আরও সময় আছে, একটু ডিফিকাল্ট (কঠিন) সময় পার করতে হবে আমাদের এবং আমরা যেন দেশ-জাতিকে একটা ভালো জায়গায়, নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যেতে পারি। সেজন্য আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’
