আমি আমার মেয়েদের অভিনয়ের ভক্ত: ছন্দা

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৪, ২০:৪৯

অভিনয়ে দুই যুগেরও বেশি পার করে ফেলেছেন গুণী অভিনেত্রী গোলাম ফরিদা ছন্দা। টেলিভিশন, সিনেমা এবং ওটিটি তিন মাধ্যমেই নিজের অভিনয়-প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। গত শুক্রবার বড়পর্দায় মুক্তি পেয়েছে গোলাম ফরিদা ছন্দা অভিনীত সিনেমা ‘ভয়াল’। টেলিভিশনে চলমান দুটি ধারাবাহিকেও নিয়মিত অভিনয় করছেন। নিজের অভিনয়, ক্যারিয়ার আর সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

গোলাম ফরিদা ছন্দা। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘ভয়াল’ ছবিটি নিয়ে প্রত্যাশা কেমন জানতে চাইলে ছন্দা বলেন, ‌‘মুক্তির দিনই (শুক্রবার) হলে গিয়ে ছবিটি দেখেছি। তখন দর্শকের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। শো শেষে অনেকেই বলেছেন যে, ছবিটি ভালো লেগেছে। এই ছবিতে পরিচালক বিপ্লব হায়দার আমাকে অন্য রকম একটা চরিত্র দিয়েছেন। আমিও চেষ্টা করেছি চরিত্রটিকে প্রোপার রূপ দিতে। সরাসরি দর্শকের প্রতিক্রিয়া দেখে ভালো লেগেছে।’

‘ভয়াল’ সিনেমার তিন অভিনয়শিল্পী গোলাম ফরিদা ছন্দা, ইরফান সাজ্জাদ ও আইশা খান। ছবি: সংগৃহীত

দীপ্ত টিভিতে গোলাম ফরিদা ছন্দা অভিনীত ‘মাশরাফি জুনিয়র’ ধারাবাহিকটি ১২০০ পর্ব অতিক্রম করেছে। ধারাবাহিকটির এই দীর্ঘ পথচলা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অভিনেত্রী বলেন, ‘এটা আমাদের দেশে ইতিহাস। চার বছর ধরে নাটকটি করছি আমরা। যে মেয়েটি মূল চরিত্রে অভিনয় করছে চার বছর আগে সে ছোট ছিল। এখন অনেকটা বড় হয়েছে। চেহারায়ও পরিবর্তন এসেছে। তার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পর্দার চরিত্রেও পরিবর্তন এসেছে। আমার চরিত্রটির নাম রুনা খান। যে প্রথমে ছিল গৃহিণী, এরপর চাকরিজীবী, পরে সাংবাদিক ও উকিল হয়েছে। এই যে চরিত্রের বাঁক পরিবর্তন সেটা কিন্তু দর্শক পছন্দ করছে। নইলে তো এত দিন নাটকটি প্রচারিত হতো না। আমি নাট্যকারদের ধন্যবাদ দিতে চাই। সেই সঙ্গে নির্মাতা সাজ্জাদ সুমনও বাহবা পাবেন। তিনি নাটকের চরিত্রগুলোর জন্য সঠিক শিল্পী নির্বাচন করেছেন। আমরা যে কজন এই নাটকে অভিনয় করছি, প্রত্যেকেরই নাটকটির প্রতি ভালোবাসা আছে। সে কারণেই এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব হয়েছে। সবশেষে দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। তারা নাটকটি এখনো ভালোবেসে দেখছেন।’

গোলাম ফরিদা ছন্দা। ছবি: সংগৃহীত

নাটকটি জনপ্রিয় হওয়ার পিছনে কারণ কি মনে করেন? প্রশ্নের জবাবে ছন্দা বলেন, ‘প্রথমত গল্পের প্লট ও নাম। দর্শকদের আকৃষ্ট করতে এটা খুব প্রয়োজন। এরপর অভিনয় শিল্পীদের পারফরম। এখানে যারা অভিনয় করেছেন প্রত্যেকেই চরিত্রটিকে সঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন। এরপর বলতে হবে চিত্রনাট্যকারদের কথা। তারা প্রতিটি পর্বেই দর্শকদের জন্য টুইস্ট রাখতে পেরেছেন। ফলে পরের পর্ব দেখার জন্য দর্শক আগ্রহ নিয়ে থাকেন।’

‘ভয়াল’ সিনেমার পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

আগের ও এখনকার ধারাবাহিক নাটকে কোনো পার্থক্য চোখে পড়ে কিনা- জিজ্ঞেস করা হলে অভিনেত্রী বলেন, ‘এটা বলতে গেলে সালাহউদ্দিন লাভলু ভাইয়ের ধারাবাহিকগুলোর প্রসঙ্গ টানতে হয়। তখনকার ধারাবাহিক মানেই আউটডোরের একটা ব্যাপার ছিল। ‘সাকিন সারিসুরি’ নাটকটির শুটিং করেছিলাম পুবাইলের একদম নতুন একটা স্পটে। সেখানে পৌঁছাতে হতো কিছুটা পায়ে হেঁটে আবার কিছুটা নৌকায় করে। আমরা বড় একটা লট একবারে শুটিং করতাম। বাজেটও থাকত অনেক। তখন লাভলু ভাই প্রধান প্রধান চরিত্রগুলোর জন্য আলাদা করে ইন্টারভিউ নিতেন। এমনও হয়েছে, চরিত্রের সঙ্গে মানানসই হয়নি বলে বড় বড় অভিনেতারাও বাদ পড়তেন। তখন দুপুরে লাঞ্চের পরে লাভলু ভাই এক ঘণ্টা করে বিশ্রামের সুযোগ দিতেন। এখন কি এসব কল্পনা করা যায়? এখন তো বাজেটই থাকে না। তার ওপর আগের যেমন মাটি ও মানুষের গল্প নিয়ে নাটক হতো এখন তো সেটাও হয় না। এখনকার গল্প অনেক ফার্স্ট। বলতে পারেন প্রাণ নেই। এখনকার নির্মাতাদের শুটিং করার আগেই মাথায় থাকে, নির্দিষ্ট টাকার মধ্যে সব কাজ শেষ করতে হবে। টাকার চিন্তা মাথায় থাকলে ক্রিয়েটিভিটি আসবে কোথা থেকে, বলেন? এই সময়ে লাভলু ভাইও কিন্তু নির্মাণ করছেন। সত্যি বলতে, তিনিও কিন্তু আগের সেই ধারায় নির্মাণ করতে পারছেন না। দুপুরের খাবারের পর বিশ্রাম, ইন্টারভিউ নিয়ে চরিত্র নির্বাচন—কিছুই তিনি করতে পারছেন না আগের মতো। কারণ একমাত্র বাজেট।’

গোলাম ফরিদা ছন্দা ও তার যমজ কন্যা টাপুর-টুপুর । ছবি: সংগৃহীত

যমজ কন্যা টাপুর-টুপুরের অভিনয় প্রসঙ্গে গোলাম ফরিদা ছন্দা বলেন, ‘ওরা কিন্তু নিয়মিত অভিনয় করে না। ভারতের দার্জিলিংয়ে পড়াশোনা করছে দুজন। যখন ছুটিতে দেশে আসে শুধু তখনই দু-একটা কাজ করে। সৌভাগ্যবশত ওদের প্রতিটি কাজই ক্লিক করেছে। দর্শক পছন্দ করেছে। আসলে আমি আর ওদের বাবা সতীর্থ রহমান ওদের স্ক্রিপ্টগুলো নির্বাচন করি। ওরা দার্জিলিং থাকা অবস্থায় অনেকগুলো স্ক্রিপ্ট জমা পড়ে আমাদের কাছে। সেখান থেকে বাছাই করে ওদের ছুটি অনুযায়ী শিডিউল তৈরি করি। ওরা দেশে এসে আগে আমাদের সঙ্গে স্ক্রিপ্টগুলো নিয়ে আলোচনা করে। তারপর শুটিং করে। মা হিসেবে বলব না, দর্শক হিসেবে আমি ওদের অভিনয়ের ভক্ত। পর্দায় ওদের পারফরম দেখে খুব তৃপ্তি পাই।’

গোলাম ফরিদা ছন্দা। ছবি: সংগৃহীত

২৫ বছরের অভিনয়জীবন নিয়ে গুণী এই অভিনেত্রী বলেন, ‘প্রত্যেকের জীবনেই তো অপ্রাপ্তি থাকে। আমিও এর বাইরে নই। যখন নাটকে অভিনয় শুরু করলাম তখন থেকেই নিয়মিত চলচ্চিত্রের প্রস্তাব পেতাম। কিন্তু চলচ্চিত্রে তখন সময়টা একটু অস্থির ছিল। তার পরও নির্মাতারা বলতেন, আমার পছন্দ মতো চরিত্র দেবেন, গল্প নির্বাচন করবেন। তবে ভয়ে তাদের কথায় সায় দিতাম না। এখন মনে হয়, তখন যদি চলচ্চিত্রে কাজ করতাম আজ আমার অবস্থানটা আরো ওপরে হতো। তবে একেবারেই যে প্রাপ্তি নেই তা তো নয়। এখনো ‘সাকিন সারিসুরি’ নাটকের বাসন্তী বৌদি বলে ডাকে মানুষ। এই যে একটা চরিত্র এত দিন ধরে মানুষ মনে রেখেছে, এটাই বা কজনের ভাগ্যে জোটে। যেখানে মা হওয়ার পর মানুষ কাজ কমিয়ে দেয়, সেখানে আমি আরো বেশি কাজ করেছি। এটাও তো বড় পাওয়া। সবচেয়ে তৃপ্তি লাগে যখন ভাবি টাপুর আর টুপুরের কথা। ওরা পর্দায় হাজির হচ্ছে, মানুষ ওদের অভিনয় দেখে খুশি হচ্ছে- এটা আমাকে অনেক বেশি আনন্দ দেয়।’

ইত্তেফাক/এসএ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন