প্রতিদিন জাতীয় দৈনিকে অসংখ্য খবর প্রকাশিত হয়। সেইসব খবর থেকে আলোচিত কিছু খবরের সংকলন করা হল।
ইত্তেফাক
আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনে হামলার প্রতিবাদ
দেশ জুড়ে বিক্ষোভ, ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনে হামলার ঘটনায় দেশটির হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা। গতকাল মঙ্গলবার হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবাদপত্র দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত করে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ হামলার প্রতিবাদে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র-নাগরিক সংগঠন। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
প্রথম আলো
৪ হাজার কোটি জামানত রেখে ৭৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ
নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ থেকে এস আলম গ্রুপ ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ৭৩ হাজার ১১৩ কোটি টাকার ঋণ বের করে নিয়েছে। এই অর্থ ব্যাংকটির মোট ঋণের প্রায় ৫০ শতাংশ। তবে এর বিপরীতে জামানত দেওয়া সম্পদের মূল্য মাত্র চার হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা। ইসলামী ব্যাংকে এখন নিরীক্ষা কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটও তদন্ত চালাচ্ছে। কেবল একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী যেভাবে একটি ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা লুটপাট করেছে, তা দেশের সবচেয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি হিসেবে ইতিমধ্যে পরিচিতি পেয়েছে। এই লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ সমর্থনে। ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক থেকে ঋণ বের করার ক্ষেত্রে আর্থিক খাতের আইনকানুন ও নিয়মনীতির বড় ধরনের ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে।
দ্য ডেইলি স্টার
Service seekers paid Tk 1.46 lakh crore in bribes during AL rule
আওয়ামী লীগের শাসনামলের ১৫ বছরে সেবা গ্রহণের জন্য জনগণকে এক লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত ‘সেবাখাতে দুর্নীতি জাতীয় খানা জরিপ ২০০৩’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠেছে।
আজকের পত্রিকার
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বাণিজ্য নিয়ে ভারত সরকার সরাসরি কোনও সিদ্ধান্ত না নিলেও দেশটির ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বাণিজ্যে বাধা দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। উগ্রপন্থীরা আবার কোথাও কোথাও বিক্ষোভ করে বন্ধ করে দিচ্ছে স্থলবন্দরের কার্যক্রম। এতে ব্যাহত হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি। বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাজনৈতিক বিভেদ বা দূরত্ব থেকে বাণিজ্যকে মুক্ত রাখতে হবে। অনভিপ্রেত ঘটনার প্রভাব যদি আমদানি-রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার মতো পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়, ক্ষতিটা ভারতেরই হবে। কেননা, প্রতিবছর বাংলাদেশ ভারত থেকে ১৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য ও সেবা আমদানি করছে। এর বিঘ্ন ঘটলে ভারত সেই বৈদেশিক মুদ্রা থেকে বঞ্চিত হবে। অন্যদিকে রপ্তানি বন্ধ করলে সাময়িক সময়ের জন্য বাংলাদেশ কিছুটা চাপে পড়লেও আমদানির নতুন বিকল্প উৎস ঠিকই খুঁজে পেয়ে যাবে। তদুপরি অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়িয়েও তা মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। নিউইয়র্কভিত্তিক বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ট্রেড ইকোনমির তথ্যমতে, ভারত গত বছর বিশ্বে ৩৯ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। তার মধ্যে বাংলাদেশেই এককভাবে রপ্তানি করেছে ১১ দশমিক তিন বিলিয়ন ডলারের পণ্য।
সমকাল
সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বার্তা ঢাকা-দিল্লির
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে থিতু হলে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে চিড় ধরে। ধীরে ধীরে তা রূপ নেয় তিক্ততায়। বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তার ঘিরে সম্পর্ক আরও খারাপ হতে থাকে। এক পর্যায়ে আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলাটি দু’দেশের সম্পর্কের অবনতির নতুন মাত্রা পায়। দু’দেশের উত্তাপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর পরই ঢাকা ও দিল্লি দু’পক্ষ থেকেই ‘সম্পর্ক স্বাভাবিক’ করার বার্তা এসেছে।
বণিক বার্তা
সরকারি ব্যয়ের ৫১ শতাংশ খরচ হয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধে
ঋণের সুদ বাবদ সরকারের ব্যয়ের বোঝা ক্রমেই স্ফীত হয়ে উঠছে। একসময় সরকারের পরিচালন ব্যয়ের ৩০ শতাংশেরও কম অর্থ ব্যয় হতো ঋণের সুদ পরিশোধে। কিন্তু চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পরিচালন ব্যয়ের অর্ধেকের বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে এ খাতে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রক্ষেপণ অনুসারে চলতি অর্থবছরে সরকারকে সবচেয়ে বেশি ঋণ পরিশোধ করতে হবে। সামনের দিনগুলোয় ঋণ ও সুদ পরিশোধের চাপ আরো তীব্র হয়ে ওঠার শঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে অপর্যাপ্ত রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতিকে আরো সঙ্গিন করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ অবস্থায় সরকারকে ব্যয় কমানোর পাশাপাশি রাজস্ব বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তারা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ফিসক্যাল প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সরকারের পরিচালন খাতে ব্যয় হয়েছে ৮২ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সুদ পরিশোধেই সবচেয়ে বেশি ৫১ শতাংশ বা ৪২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল পরিচালন ব্যয়ের ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ।
নয়া দিগন্ত
আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনে ভিসাসহ কনস্যুলার সেবা বন্ধ
নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে ভিসাসহ সব ধরনের কনসুলার সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গতকাল থেকেই বাংলাদেশ সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে মিশনের ভিসা ও কনসুলার সেবা পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ দিকে স্থানীয় পুলিশের উপস্থিতিতে একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের হামলায় আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে ভাঙচুর ও জাতীয় পতাকার অবমাননার প্রেক্ষাপটে গতকাল ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। বিকেল ৪টায় প্রণয় ভার্মা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়াজ হামিদুল্লাহর সাথে প্রায় আধা ঘণ্টা বৈঠক করেন। এ সময় আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনে হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে একটি প্রতিবাদ পত্র ভারতের হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কালের কণ্ঠ
এক-এগারোর মতো টার্গেটে ব্যবসায়ীরা!
দেশে সার্বিকভাবে যে জ্বালাও, পোড়াও, ভাঙচুর চলছে, তাতে নানা ধরনের সমস্যা চেপে বসেছে ব্যবসা-বাণিজ্য-অর্থনীতির ঘাড়ে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, একের পর এক ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারাই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। যেমন, কাঁচামাল আমদানিতে ধীরগতি।
মানবজমিন
জাতীয় ঐক্য গড়তে প্রধান উপদেষ্টার উদ্যোগ
প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে টানাপড়েনের মধ্যে জাতীয় ঐক্যের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এ লক্ষ্যে ছাত্র আন্দোলনের নেতা, রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করেছেন তিনি। গতকাল ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে প্রথম ধাপের বৈঠকে মিলিত হন প্রধান উপদেষ্টা। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
দেশ রূপান্তর
প্রণয়কে তলব চাইলেন স্থিতিশীলতা
ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুমুখী, এখানে কথা বলার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। এই সম্পর্ককে শুধু একটি মাত্র বিষয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না। শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের অভিন্ন আকাক্সক্ষা পূরণে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী তার দেশ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তলবে হাজির হয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এদিকে নিরাপত্তাহীনতাজনিত অবস্থার প্রেক্ষাপটে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতের ত্রিপুরার আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে সব ধরনের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে র্কর্তৃপক্ষ। সোমবারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ভারত ও বাংলাদেশ।
