গর্ভবতী দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যা করার প্ররোচনার অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার যশোরের কায়েমখোলা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় কেশবপুর থানায় মামলা হয়েছে।
গ্রেফতার জহির রায়হান মোড়ল উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। অভিযোগে বলা হয়, স্বামী জহির রায়হানের সঙ্গে স্ত্রী তানিয়া খাতুনের টাকা পয়সা নিয়ে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে তাকে বিষপানে আত্মহত্যায় উদ্বুদ্ধ করেন তিনি।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে তানিয়া বিষপান করলে সকাল ৬টার দিকে তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয় কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কর্তব্যরত ডাক্তার প্রদীপ্ত চক্রবর্তী তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করেন। এ সময় তানিয়াকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে কেদারপুর নামকস্থানে তার মৃত্যু হয়।
আরো পড়ুন: এ জন্মে আর দেখা হলো না : বিদিশা
জহির রায়হান লাশ নিজ বাড়িতে না নিয়ে সরাসরি উপজেলার কায়েমখোলা গ্রামে শ্বশুর বাড়ি নিয়ে যায়। ওই সময় শ্বশুর বাড়ির লোকজন ও গ্রামবাসী জহির রায়হানকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারপিট করে এবং পুলিশকে খবর দেয়। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও ইন্সপেক্টরের (তদন্ত) নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যেয়ে লাশ উদ্ধার এবং জহির রায়হানকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহত তানিয়ার ভাই হাফিজুর রহমান রবিবার সকালে বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় তার বোনকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করার অভিযোগ করে জহির রায়হানের নামে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার বাদী বলেন, দুই বছর আগে মঙ্গলকোট গ্রামের আবদুল আজিজ মোড়লের ছেলে জহির রায়হানের সঙ্গে তার বোন তানিয়ার বিয়ে হয়। এর আগে জহির রায়হানের আরও একটি স্ত্রী ও সন্তান আছে আমরা তা জানতাম না। বিয়ের পর থেকে জহির রায়হান টাকা দাবি করে আমার বোনকে নির্যাতন করতো। তানিয়া ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল।
এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার ও জহির রায়হানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
