বেড়েছে শীতের তীব্রতা, ঈশ্বরদীতে গরম কাপড়ের দোকানে ভিড়

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৪:০৪

ঈশ্বরদীসহ আশপাশের এলাকায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় সর্বত্রই শীতে জবুথবু অবস্থা। গত তিন দিন ধরে ঈশ্বরদীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বিরাজ করছে। শীতের তীব্রতা বাড়ায় উপজেলার গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। এদিকে শীত বেড়ে যাওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। তাই উষ্ণতা পেতে তারা ঝুঁকেছেন পুরাতন কাপড়ের দিকে। ঈশ্বরদীর বিভিন্ন স্থানে পুরাতন গরম কাপড়ের ব্যবসা বেশ জমজমাট।

গত কয়েক দিনে বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে পুরাতন কাপড় বিক্রির ধুম পড়েছে। বিশেষ করে এর ক্রেতা হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ। বিভিন্ন রিকশা বা ভ্যানচালক, বিভিন্ন শ্রমিকরা দেদার এই কাপড় কিনে নিজেদের উষ্ণ রাখার চেষ্টা করছেন। রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে কর্মরত বিদেশিদেরও পুরাতন জ্যাকেটসহ শীতের কাপড় কিনতে দেখা গেছে। পুরাতন কাপড়ের চাহিদা বাড়ার কারণে প্রাণ ফিরে পেয়েছেন এই সেক্টরের বিশেষ করে রেলওয়ে মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও। বেচাকেনা আগের চেয়ে বৃদ্ধির কারণে বেশ স্বস্তিতে আছেন ব্যবসায়ীরা। ঈশ্বরদীর ফুটপাতেও নিম্ন আয়ের মানুষ একটু সস্তায় কিনছেন পুরোনো কাপড়।

ঈশ্বরদীর বিভিন্ন স্থানে পুরাতন কাপড়ের মধ্যে সোয়েটার, জ্যাকেট, কম্বল, গরম টুপি, ছোট ও বড়দের ব্লেজার, বিভিন্ন ডিজাইনের মাফলার বিক্রি করতে দেখা গেছে। দামও খুব মধ্যে। বিভিন্ন ধরনের জ্যাকেট, ৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায়। এছাড়াও বিভিন্ন মোটা গেঞ্জি, সোয়েটার ও চাদর পাওয়া যায় ১০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যেই। রেলওয়ে মালগুদাম এলাকায় ভাসমান বিক্রেতা আরজু বলেন, এই কাপড়গুলো কম দামে না বিক্রি করলে কাস্টমার পাওয়া যায় না। রেলওয়ে মার্কেটের বিক্রেতা নূরু বলেন, বিভিন্ন হকার, রিকশাচালক যাদের আয় কম তারাই এখান থেকে গরম কাপড় কেনেন। এসব কাপড় পুরোনো হলেও বেশ আরামদায়ক বলেও জানান তিনি।

ক্রেতা রমজান হোসেন মাত্র ১২০ টাকায় কিনেছেন একটি লম্বা জ্যাকেটের আদলে গরম কাপড়। তিনি বলেন, সারা দিন আমাদের রিকশা চালিয়ে যা আয় হয় এই কাপড় কিনে ১-২ হাজার টাকা খরচ করতে চাই না। শীত কমানো দরকার তাই কিনলাম। বিক্রেতা বাবলু বলেন, এসব পোশাক কিনতে প্রতি পিস খরচ হয় মানভেদে ৫০ থেকে ১২০ টাকা। আমরা প্রতিটি কাপড়ে ২০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত লাভ করি। অনেক সময় পুরাতন কাপড় কিনে ওয়াশ করতে হয় বলেও জানান তিনি।

ইত্তেফাক/কেএইচ