ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইকের ছড়াছড়ি  

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ২০:২১

কারো লাইসেন্স আছে কিন্তু রিকশা নেই, কারো রিকশা আছে তবে লাইসেন্স নেই। কেউ একাই দেড়শতাধিক রিকশার লাইসেন্সের মালিক। লাইসেন্সবিহীন রিকশা উচ্ছেদ অভিযানের ভয়ে লাইসেন্স না থাকা রিকশার মালিকরা ভিড়েন তাদের কাছে। দৈনিক দুইশ থেকে আড়াইশ টাকার বিনিময়ে ভাড়া নেন লাইসেন্স। এই সিন্ডিকেটের দোহায় দিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন রিকশাচালকরা। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বর্তমানে ব্যাটারিচালিত বৈধ রিকশার সংখ্যা তিন হাজার। তবে চলাচল করছে অতিরিক্ত আরও পাঁচ হাজার ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশা। অন্যদিকে দেড় হাজার বৈধ ইজিবাইকের পাশাপাশি রয়েছে আরও দুই হাজার অবৈধ ইজিবাইক। পাঁচ কিলোমিটারের শহরে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে আট হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা ও তিন হাজার ইজিবাইক চলাচলের কারণে শহরে প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

যাত্রীরা বলছেন, রিকশা চালকগণ নিজেদের খেয়াল খুশিমতো অতিরিক্ত ভাড়া হাঁকাচ্ছে। এদিকে রিকশা চালকরা জানান, রিকশার মালিকগণ দৈনিক অতিরিক্ত জমা আদায় করছে তাই বেশি ভাড়া নিতে হচ্ছে।

পৌর কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর কর্তৃপক্ষ মিলিতভাবে ব্যাটারিচালিত দুই হাজার রিকশা ও এগারোশ ইজিবাইকের লাইসেন্স দিয়ে বৈধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়েছিলেন। এ সময় অনেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শতাধিক করে লাইসেন্স কিনে ফেলেন। 

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেকে মালিকের রিক্সার লাইসেন্স আছে কিন্তু রিকশা নেই। লাইসেন্সবিহীন মালিকেরা তাদের কাছ থেকে দৈনিক হারে টাকা পরিশোধ করে লাইসেন্স ভাড়া নেয়। এসব সিন্ডিকেটের কারণে বেড়ে যাচ্ছে রিক্সা ভাড়া। 

পৌরসভার লাইসেন্স ইন্সপেক্টর আল মাসাদ জানান, ব্যাটারিচালিত রিকশার লাইসেন্স দেওয়ার নির্দেশ আসার পর লাইসেন্স নেওয়ার হিড়িক পড়ে যায়। পুরাতন লাইসেন্সধারীরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লাইসেন্স নবায়নের জন্য আমাদের দপ্তরে ভিড় জমায়। অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনেক ধনীরাও এসে একাধিক লাইসেন্স করে নিয়ে গেছে। আমরা এসব লাইসেন্স প্রকৃত চালকদের মাঝে বিতরণ করার চেষ্টা করলেও রাজনৈতিক চাপে তা আর হয়ে উঠেনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী কাউছার আহমেদ জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা রাজনৈতিক নেতা ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছি। কিন্তু রাজনৈতিক চাপের কারণে কোনো সমাধানে আসতে পারিনি। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক রুহুল আমিন বলেন, ৫ আগস্টের পর মেয়র পদটি বাতিল করা হলে আমাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। রিকশার লাইসেন্সের ব্যাপারটি খুবই জটিল। নির্বাচিত সরকার না আসা পর্যন্ত আমি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, আমাদের অনেক কিছুই সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি সেসব বিষয় নিয়ে জেলার নাগরিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে আলোচনা করে ভিত্তিতে সমাধান করার।

ইত্তেফাক/এসএএস