জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলতে ৩০ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিমন্ত্রণ জানিয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় নির্ধারিত আছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে রোববার (৮ ডিসেম্বর) উপসচিব আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভায় থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা থাকেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)।
দশম জাতীয় সংসদ
আওয়ামী লীগের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিভাগীয় কমিশনার, ডিসি ও ইউএনও মিলিয়ে ১২ জনকে ডাকা হয়েছে। এর মধ্যে একমাত্র বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তিনি চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগরের ছয়টি সংসদীয় আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ছিলেন। এরপর তিনি নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বও পালন করেছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী তিন ডিসিকে ডাকা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়ার সাবেক ডিসি সৈয়দ বেলাল হোসেন ও পিরোজপুরের সাবেক ডিসি এ, কে, এম, শামিমুল হক ছিদ্দিকী, যিনি বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আট জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন ইসলামপুরের (জামালপুর) সাবেক ইউএনও মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সরিষাবাড়ির (জামালপুর) ইউএনও আজিজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা সদরের ইউএনও মো. আছাদুজ্জামান, বাউফলের (পটুয়াখালী) ইউএনও এ. বি. এম সাদিকুর রহমান, তজুমদ্দিন (ভোলা) ইউএনও মুহম্মদ কামরুজ্জামান, টেকনাফ (কক্সবাজার) ইউএনও শাহ্ মুজাহিদ উদ্দীন ও পটিয়া (চট্টগ্রাম) ইউএনও মোছাম্মৎ রোকেয়া পারভীন।
একাদশ জাতীয় সংসদ
একাদশ জাতীয় সংসদের মোট ১১ জন রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ডাকা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ঢাকার সাবেক বিভাগীয় কমিশনার কে এম আলী আজম, যিনি প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ছিলেন।
সর্বশেষ তিনি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন রংপুরের সাবেক ডিসি এনামুল হাবীব, বগুড়ার সাবেক ডিসি ফয়েজ আহাম্মদ, সাতক্ষীরার সাবেক ডিসি এস এম মোস্তফা কামাল ও ফেনীর সাবেক ডিসি মো. ওয়াহিদুজ্জামান।
অন্যদিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মধ্যে রানীশৈংকলের (ঠাকুরগাঁও) সাবেক ইউএনও মৌসুমী আফরিদা, রাজশাহীর সাবেক ডিডিএলজি পারভেজ রায়হান, মনপুরার (ভোলা) সাবেক ইউএনও বশির আহাম্মদ, ঘাটাইলের (টাঙ্গাইল) সাবেক ইউএনও দিলরুবা আহমেদ ও সাভারের (ঢাকা) সাবেক ইউএনও শেখ রাসেল হাসানের নাম তালিকায় রয়েছে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ
সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম অর্থাৎ সাত জন ডিসি ও ইউএনওকে ডাকা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন নীলফামারীর সাবেক ডিসি পঙ্কজ ঘোষ, বগুড়ার সাবেক ডিসি মো. সাইফুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জের সাবেক ডিসি মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, কুষ্টিয়ার সাবেক ডিসি মো. এহেতেশাম রেজা ও বরগুনার সাবেক ডিসি মোহা. রফিকুল ইসলাম।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মধ্যে সিলেট সদর ও বাগেরহাট সদরের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এ দুই কর্মকর্তার নাম জানা যায়নি।
