মংডু শহর আরাকান আর্মির দখলে, নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কা

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৬:০৫

মিয়ানমারের চলমান যুদ্ধ ও আরাকান আর্মি  দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে রাখাইনের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও সীমান্ত চৌকি পুরোপুরি দখলে নেওয়ার ফলে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গা নেতাদের দাবি, এর ফলে মিয়ানমারে তাদের প্রত্যাবাসন নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে।

রোহিঙ্গা নেতারা বলছেন, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের দায়বদ্ধতা ও  জবাবদিহি রয়েছে। কিন্তু আরাকান আর্মির কোনো দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি নেই। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের জান্তা সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়ন করেছেন। কিন্তু বর্তমান যে আরাকান আর্মি (এএ) বর্মা ভাষায় মগ বাগি, তারা আমাদের বাড়ি-ঘর লুটপাটসহ আমাদের মা-বোন ও ছেলেমেয়েকে জঘন্যভাবে নির্যাতন ও হত্যা করেছে। এখনো রাখাইনে থাকা রোহিঙ্গাদের ওপর তারাই নির্যাতন করে চলেছে। তারা আরো বলেন, উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ফিরতে চায়, তবে মিয়ানমারে তাদের নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে হবে।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পেইজ অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস-এর সভাপতি উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে ডাক্তার জুবায়ের বলেন, ‘আরাকান আর্মি দিন-রাত রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও দমন-পীড়ন চালাত। বাড়ি-ঘরে চুরি-ডাকাতি করত। জান্তা সরকারের কাছে অভিযোগ দিলেও কখনো বিচার পাওয়া যেত না। উলটো আমাদের ওপর নির্যাতন করা হতো।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের দেশ নয়, আমরা এখানে মানবিক আশ্রয়ে রয়েছি। মিয়ানমারই আমাদের মাতৃভূমি। মিয়ানমার আমাদের নাগরিক অধিকার দিয়ে ফেরত নিলে আমরা সে দেশে চলে যাব। এভাবে ক্যাম্পের ছোট ঘরে বন্দি থাকতে আর ভালো লাগে না। তাই জাতিসংঘসহ বিশ্ববাসীকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসা আরো দরকার।

আরকার রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস-এর উপদেষ্টা মো. তৈয়ব বলেন, আরাকান আর্মির চেয়ে মিয়ানমারের জান্তা সরকার আমাদের জন্য আরো বেশি ভালো ও নিরাপদ। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, যেহেতু রাখাইনের মংডু শহরসহ গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত চৌকি পুরোপুরি আরাকান আর্মি দখল করে সেক্ষেত্রে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা নাফনদীতে দখল জোরদার করেছে।

ইত্তেফাক/এনএন