রংপুরে বৃহদাকার হিমালয়ী গৃধিনী শকুন উদ্ধার

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ২১:৩৭

রংপুরে পীরগাছায় বিপন্ন প্রায় বৃহদাকার একটি হিমালয়ী গৃধিনী শকুন উদ্ধার করেছে ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিমের সদস্যরা।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে রংপুরের কারমাইকেল কলেজে বিশাল আকৃতির শকুনটি দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় করে।

এর আগে, শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার অন্নদানগরে গাছে আটকে থাকা অবস্থায় বিশাল আকৃতির এই শিকারি পাখিটি উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, মূলত পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের দেশগুলো থেকে নিরাপত্তা ও খাদ্যের জন্য যেসব পরিযায়ী পাখি পরিযান করে থাকে তাদের মধ্যে অন্যতম হিমালয়ী গৃধিনী। প্রতি বছর শীতকালে এই শকুন বাংলাদেশের সমতল ভূমিতে আসে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলার পীরগাছা উপজেলার অন্নদানগর এলাকার লোকালয়ে পড়ে। দীর্ঘ পথ ভ্রমণে অনেক শকুন অসুস্থ হয়ে উড়ার শক্তি হারিয়ে ফেলে। এমনি বিশাল আকৃতির এই শকুনটি ক্লান্ত হয়ে লোকালয়ে বিচরণ করলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে। পরে নজরে আসে 'ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ' টিমের। তারা উদ্ধার করে পর দিন নিয়ে আসেন রংপুর নগরীর কারমাইকেল কলেজ মাঠে। পরে শনিবার সকালে রংপুরের কারমাইকেল কলেজে বিশাল আকৃতির শকুনটি দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় করে।

রংপুরের ওয়াইল্ড লাইফ এন্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ অর্থ সম্পাদক লিজেন আহমেদ প্রান্ত বলেন, হিমালয়ী গৃধিনী শকুনটি কিছুটা অসুস্থ। পরিচর্যার জন্য দিনাজপুরের সিংড়া রেসকিউ সেন্টারে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান।

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশের সদস্য নূর হাসান নাহিদ ও মাহমুদুল হাসান সোহেল বলেন, আমরা প্রথমে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি পাখিটি লোকালয়ে নামলে কয়েকজন তাকে ধরে ফেলে। এরপর তারা কি করবে বুঝে উঠতে না পারায় আমাদেরকে জানান। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শকুনটিকে উদ্ধার করি।

উল্লেখ্য, বিশালদেহী শকুনটি লম্বায় প্রায় ৭ ফুট এবং ওজন প্রায় ১২ কেজি। প্রতি শীতে প্রায় ১০০টি পাখি বাংলাদেশের সীমানায় দেখা যায়। ২০১৪ সাল থেকে হিমালয় গৃধিনী নিয়ে সরকারের বন অধিদপ্তর আর বেসরকারি সংস্থা আইইউসিএন কাজ করছে।

ইত্তেফাক/এমএএস