দু’চোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে আড়াই বছর আগে বিদেশ পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেলো। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানো দূরের কথা, দুই পা হারিয়ে ফিরলেন পরিবারের বোঝা হয়ে।
বলছিলাম ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ফুলবাড়ীয়া পৌর সদরের বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের কথা। সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পা হারান তিনি। তিন শিশু পুত্র, স্ত্রী ও মাকে নিয়ে এখন তার জীবন চলছে দুঃসহ যন্ত্রণায়। ভিটেমাটি ছাড়া আর কিছুই নেই তার।
২০২২ সালের ২২ আগস্ট এক দালালের মাধ্যমে ৪ লাখ টাকা খরচ করে আলিফ দ্য কোম্পানিতে ক্লিনার হিসাবে কাজ করার জন্য সৌদি আরব যান আলমগীর হোসেন (৩৭)। ২ বছর অফিস ক্লিনারের কাজ করেন আল রাজে কোম্পানিতে।
গত ২১ অক্টোবর রাত ১ টার দিকে সিলেটের হবিগঞ্জের রতন মিয়া নামে তার বন্ধুকে একটি প্রাইভেটকারে করে রিয়াদ ফিরছিলেন। মোজাম্বিয়া মক্কা হাইওয়ে রোডে প্রাইভেটকারটির স্টার্ট বন্ধ হয়ে যায়। আলমগীর ও তার বন্ধু রতন প্রাইভেটকারটি স্টার্ট দেয়ার জন্য পেছনে ধাক্কা দেয়ার সময় অপর একটি দ্রুতগামী প্রাইভেটকার পেছন দিক দিয়ে তাদের সজোরে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই রতন মিয়া মারা যান। মারাত্মক আহত আলমগীর হোসেনের ১ মাস ২৪ দিন চিকিৎসা চলে প্রিন্স আব্দুল আজিজ সরকারী হাসপাতালে। ঐ হাসপাতালে তার দুই পা কেটে ফেলা হয়।
গত ৯ ডিসেম্বর আলিফ দ্য কোম্পানি তাকে দেশে পাঠিয়ে দেয়। আল রাজে কোম্পানিতে ক্লিনার হিসাবে কাজ করা ১ মাস ১৫ দিনের টাকা বকেয়া রয়েছে এখনো। তারা কোন খোজ নেয়নি।
আলমগীরের মা রোকেয়া বেগম জানান, আমার ভিটামাটি ছাড়া কিছু নেই। এক ছেলে মুদি দোকানদার। অপর ছেলে সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পা হারিয়ে এখন পঙ্গু। কেমনে সংসার চলবে আমাদের।
আলমগীরের স্ত্রী রোমা আকতার জানান, আমাদের তিন শিশু পুত্র। স্বামী পঙ্গু হয়ে গেল। শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ ও সংসার নিয়ে আমাদের এখন কি হবে? সরকারি ভাবে সহযোগিতা পেলে অন্তত সন্তানগুলো মানুষ করতে পারতাম। তা না হলে পথে গিয়ে দাঁড়াতে হবে।
আলমগীর হোসেন জানান, বাড়ি-ভিটা ছাড়া আমাদের আর কিছুই নেই। আমার অপর ভাই মাসুম মিয়া মুদি দোকানদার। রুহান (৮), রিহান (৬) ও রাহিম (৩) নামে তিন শিশু সন্তান সহ স্ত্রী ও মাকে নিয়ে আমার সংসার। কেমনে সংসার চলবে তার কোন উপায় খোজে পাচ্ছি না। এখনো একটি কাটা পায়ে ইনফেকশন দেখা দিয়েছে। তবে সরকারীভাবে কোন সহযোগিতা আমার জন্য এখন খুব জরুরী।
