ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগসহ কথিত ইসরায়েল বিরোধী নীতিরর কথা উল্লেখ করে আয়ারল্যান্ডে দূতাবাস বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।
স্থানীয় সময় রোববার (১৫ ডিসেম্বর) ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আইরিশ সরকারের চরম ইসরায়েলবিরোধী নীতির আলোকে মিশন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আয়ারল্যান্ড যে পদক্ষেপ ও ইহুদি-বিদ্বেষী বক্তব্য ব্যবহার করেছে, তার মূলে রয়েছে ইহুদি রাষ্ট্রকে অবৈধকরণ ও পৈশাচিককরণের পাশাপাশি দ্বৈত মানদণ্ড।
তিনি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আয়ারল্যান্ড সব 'রেড লাইন' অতিক্রম করেছে। ইসরায়েলের প্রতি এই রাষ্ট্রগুলোর মনোভাব ও কর্মকাণ্ড বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশ্বব্যাপী দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ইসরায়েল সব করবে।
তবে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস বলছেন, ইসরায়েলের সিদ্ধান্তে তিনি 'গভীরভাবে হতাশ'।
হ্যারিস অস্বীকার করেছেন আয়ারল্যান্ড ইসরায়েলের বিরোধী। তিনি বলেন, আয়ারল্যান্ড শান্তির পক্ষে, মানবাধিকারের পক্ষে এবং আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে।
প্রসঙ্গত, আয়ারল্যান্ড ফিলিস্তিনে চলা ইসরায়েলি দখলদারিত্বের কড়া সমালোচক। ফিলিস্তিনকে একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করে তারা। গত ৫ নভেম্বর প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করে ইউরোপের দেশটি।
সম্প্রতি আয়ারল্যান্ডের আইনপ্রণেতারা সংসদে একটি প্রস্তাব পাস করেছেন, যেখানে স্বীকার করা হয়েছে- ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে। সেই সঙ্গে দেশটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলায় নিজেদের সম্পৃক্ত করারও ঘোষণা দিয়েছে।
আইরিশ আইনপ্রণেতারা দাবি করেছেন, তাদের সরকার অবিলম্বে ইহুদিবাদী শাসক গোষ্ঠীর সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম এবং অস্ত্রের ক্ষেত্রে সমস্ত লেনদেন স্থগিত করবে।

