শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীতে চলছে অবাধে বালু উত্তোলন। এ পরিস্থিতিতে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে তিন শতাধিক স্থাপনা, হুমকির মুখে পড়েছে নড়িয়ার ডান তীর রক্ষা বাঁধ।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বালু লুটের কারণে ইতিমধ্যেই ভাঙন দেখা দিয়েছে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের নাওডোবা জিরো পয়েন্টের বেড়িবাঁধে। নদীর গর্ভে চলে গেছে পাইনপারা আহামেদ মাঝি কান্দির গ্রামের মসজিদ-মাদরাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ তিন শতাধিক বসতভিটা।
নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর, সাধুর বাজার, সুরেশ্বর, চরআত্রা, ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাচিকাটা ইউনিয়ন সীমানায় এবং জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর বাবু চর ও সিডাচর এলাকা থেকে বালু তুলছে একটি প্রভাবশালী মহল। প্রতিদিনই নদীর বালু কাটার (খননযন্ত্র) দিয়ে কেটে বলগেট জাহাজে বালু পাচার করছে মহলটি।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তারেক হাসান বলেন, পদ্মার ভাঙন রোধে নড়িয়ায় ডান তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। আরও দুটি বাঁধের কাজ চলমান। যদি সেখান বালু উত্তোলন করা হয় তাহলে বাঁধ গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন নদীর গতিপথও বদলে দেয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলাটি পদ্মা ও মেঘনা নদী দ্বারা বেষ্টিত। এ জেলায় পদ্মার ভাঙনে বিভিন্ন সময়ে বিলীন হয়েছে হাজার হাজার বসতবাড়ি, ফসলি জমি, সরকারি স্থাপনা। নড়িয়ার ভাঙন রোধে পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধ নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সরকার। জাজিরা ও ভেদরগঞ্জের সখিপুর এলাকায় চলমান রয়েছে আরও দুটি প্রকল্প। পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধের অন্য প্রান্ত থেকেই প্রতিদিন নড়িয়া-জাজিরার পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ৫০টি খনন যন্ত্র দিয়ে চলে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজ। এক একটি কাটার (খননযন্ত্র) প্রতি রাতে ৭৫ হাজার ফুট থেকে ১ লাখ ফুট বালু উত্তোলন করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
লুট হওয়া বালু বলগেট জাহাজে করে বিক্রি করা হয় আশপাশে জেলায়। জমি ভরাটের কাজে এ বালুর চাহিদা বেশি হওয়ায় প্রভাবশালী একটি মহল নদীর বালু বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন কয়েক দফা অভিযানের পরও বালু উত্তোলন চলছে।
অন্যদিকে, নৌ পুলিশের দুইটি পুলিশ ফাঁড়ির একটি নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর ফাঁড়ি ও জাজিরা উপজেলার মাঝিরঘাটে অবস্থিত। ফাঁড়ি দুটির ৪ থেকে ৫ কিলোমিটারের মধ্যেই চলে বালু উত্তোলন। পুলিশের নির্বিকার ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
নৌ-পুলিশ সুপার (চাঁদপুর অঞ্চল) সৈয়দ মুশফিকুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, রাতের আধারে বালু উত্তোলন করে বালুখেকোরা। আমরা প্রায় অভিযান পরিচালনা করে থাকি। আমাদের জনবল কম। তবে আমরা এই ব্যাপারে সোচ্চার রয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শংকর চন্দ্র বৈদ্য বলেন, শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদীতে দুই দফায় অভিযানে বালু উত্তোলন কারী একটি কাটারসহ ৮ জনকে আটক করা হয়েছিল। এর আগেও অভিযান চালিয়ে ১৭ জন বালু দস্যুকে আটক করে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পদ্মা নদীর বাঁধ রক্ষার স্বার্থে অবৈধভাবে কেউ যেন বালু উত্তোলন করতে না পারে সেই লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
