নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, আমরা দেখেছি বিগত ১২টি নির্বাচনের মধ্যে ৪টি তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ও বাকী ৮টি দলীয় সরকারের অধীনে হয়েছে। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও নিরপেক্ষ। তাই নির্বাচন কমিশন অযাচিত কোন চাপের মুখে পড়বে না।
বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত ৮টায় রংপুর সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ।
তিনি বলেন, অতীতে দলীয় সরকারের কারণে নির্বাচন কমিশনের ওপর অনেক চাপ এসেছে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাদ দেওয়া হয়েছে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে। আমাদের দায়িত্ব সীমিত। প্রধান উপদেষ্টা সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের সময়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আমি মনেকরি প্রধান উপদেষ্টার সিদ্ধান্ত সঠিক সিদ্ধান্ত।
ইভিএম নিয়ে তিনি বলেন, ইভিএম একটি দুর্বল প্রকৃতির যন্ত্র। এটি নিয়ে কারসাজি করা যায়। এটি কেনা হয়েছে উচ্চ মূল্যে, নিম্নমানের যন্ত্র। এছাড়া এটি ব্লাকবক্সের মত। ভোট দিলাম, গণনা হলো এর মাঝে কি হলো তা অদৃশ্য থেকে যায়। এজন্য ইভিএম অনেক দেশে ব্যবহার করে না। সর্বপরি ইভিএম ব্যবহারে রাজনৈতিক ঐকমতের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিগত সময়ে ইভিএমের ব্যবহার ঐকমতের ভিত্তিতে হয় নি। তাই এটি গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অপ্রতুলতা ছিল। তাই তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। সরকারী কর্মকর্তারা দলীয়করণের কারণে চাপের মুখে থেকে সরকার যেভাবে চেয়েছে সেভাবে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে। আমি সুপারিশ করবো যতজন সম্ভব নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে যেন নিয়োগ দেওয়া হয়।
নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, অনেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরে আবার কেউ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগে এবং পরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চেয়েছেন। অনেকে তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দুটি নির্বাচন চেয়েছেন। আমাদের কাছে হাজার হাজার ব্যক্তি নানা প্রস্তাব দিয়েছেন। কোন নির্বাচন আগে হবে সে বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। একটু অপেক্ষা করতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রংপুর জেলা সুজনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন, মহানগর সুজনের সভাপতি অধ্যক্ষ খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু, আঞ্চলিক সমন্বয়ক রাজেশ দেসহ অন্যরা।
