ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থীকে ‘গুপ্তহত্যা’র প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।
বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরান হল থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। পরে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাই হত্যা কেন?’, ‘প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে', ‘গুপ্ত হত্যার বিচার চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
সম্প্রতি দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে (এআইইউবি) শিক্ষার্থী মো. ওয়াজেদ সীমান্ত ও ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তাজবির হোসেন শিহান। এছাড়া চট্টগ্রামের জসীমউদ্দীন নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়েছে। তারা সবাই জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী।
অভিযোগ উঠেছে, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, আপনারা এখন পর্যন্ত আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের বিচার নিশ্চিত করতে পারেননি। আমাদের হাজারও ভাইয়ের রক্তের বিনিময়ে আপনাদেরকে রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই রক্তের দায়বদ্ধতা আছে। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে সন্ত্রাসীদের বিচার নিশ্চিত না করতে পারেন, তাহলে ছাত্র-জনতা মব-জাস্টিস শুরু করলে এর দায় আপনাদেরকে নিতে হবে।’
শাবিপ্রবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক ফয়সাল হোসেন বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা যদি গুপ্তহত্যা করে এ দেশে নতুন করে রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরি করতে চায়, আমরা বিপ্লবীরা আবারও বিপ্লবী গার্ড তৈরি করে নিজেদেরকে রক্ষা করবো।’
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত শক্তি জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের টার্গেট করে গুপ্ত হত্যার মিশনে নেমেছে। এই সন্ত্রাসীদের দ্রুত বিচার না করলে আমরা উপদেষ্টাদের নামাতেও বিলম্ব করবো না।’
