একটু যত্ন নিলেই ভালো মাঠ পেতেন ফুটবলাররা

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৬:৫৮

দেশের ফুটবলে সবচেয়ে বড় আসর প্রিমিয়ার লিগ হচ্ছে। অথচ ন্যূনতম ভালো খেলতে পারছে না ক্লাবগুলো। কিংসের নিজেদের মাঠ মোটামুটি ভালো হলেও ঢাকার বাইরের মাঠগুলোর অবস্থা খুবই করুন। এক কথায় খেলার মতো মাঠ না। দেশের মর্যাদার লিগ হচ্ছে ন্যূনতম ভালো মাঠ হলে খেলোয়াড়দের ইনজুরি হতো কম। মঙ্গলবার ময়মনসিংহের মাঠে খেলে এসেছে ব্রাদার্স। তাদের গাম্বিয়ান ফুটবলার মুস্তাফা দ্রামেহ হ্যাটট্রিক করলেও তার ডান হাঁটুতে চোট লেগেছে। 

গতকাল সকালে ব্রাদার্সের টেন্টে গিয়ে দেখা যায় মুস্তাফা দ্রামেহ তার রুমে সোফায় বসে মোবাইল স্কলিং করছেন। পায়ে বরফ পেঁচিয়ে বসে আছেন। জানতে চাইলে হাসি ছড়িয়ে মুস্তফা বললেন, 'ব্যথা পেয়েছি'। প্রিমিয়ার তারই পাশে ক্লাবেরই স্টাফ বলছেন আরও কয়েক জন ব্যথা পেয়েছেন। প্রতি ম্যাচেই কেউ না কেউ ব্যথা নিয়ে ফিরছেন।

প্রিমিয়ার লিগের খেলা হচ্ছে ঢাকা বসুন্ধরা কিংসের মাঠে, গাজীপুরে শহিদ রবকত স্টেডিয়ামে, ময়মনসিংহের রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে, মুন্সিগঞ্জের বীর-উত্তম ফ্লাইট লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে এবং কুমিল্লায় শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে। মাঠগুলোর খবর নিয়ে, ঘুরে ঘুরে দেখা গেছে কিংসের মাঠ ছাড়া আর কোনো মাঠই ভালো না। অনুপযুক্ত মাঠে খেলা হচ্ছে।

খেলোয়াড়দের ইনজুরি বাড়ছে। মাঠ অযত্নের কারণে কোনো না কোনো ফুটবলার চোটের শিকার হচ্ছেন। মাঠগুলো দেখলে বোঝা যায় লিগ শুরু হওয়ার আগে বাফুফে মাঠের কোনো যত্ন নেয়নি। মাঠ প্রস্তুত না করেই খেলা শুরু করেছে। গাজীপুরের মাঠে হেঁটে দেখা গেছে করুণ অবস্থা। ২৯ নভেম্বর লিগ শুরু হয়েছে। আরও দেড় মাস আগে লিগ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি মাঠ প্রস্তুত ছিল না বলে। দেড় মাস খেলা না হওয়ায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ক্লাবগুলোর। ক্লাবের খরচ, দেশি খেলোয়াড়দের বেতন, বিদেশি খেলোয়াড়দের বেতন, বাজার খরচসহ নানা ব্যয় গুণতে হয়েছে ক্লাবগুলোকে। দেড় মাস লিগ পিছিয়ে যখন খেলা শুরু হলো, তখন দেখা যায় মাঠের কোনো কাজই হয়নি। গাজীপুরের মহিলা ক্রীড়া অফিসার সোজাসাপ্টা জানিয়ে দিলেন খেলবে বাফুফে তারা মাঠ ঠিক করবে।' কোনো রকমে লিগের খেলা চলছে। ফিকশ্চারে যাদের খেলা দেরিতে পড়ছে, তারা এখন স্বস্তিতে রয়েছে।

মুন্সিগঞ্জে লিগের খেলা শুরু হয় ৩০ নভেম্বর। ক্রীড়া সংগঠক নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন তারা মাঠ সংস্কারের কাজ ধরেছেন খেলা শুরু হওয়ার দুই দিন আগে।' খেলাটা যখন দেড় মাস পিছিয়ে গেল, তখন মাঠের কাজ ধরলে প্রশ্ন উঠত না। মুন্সিগঞ্জের মাঠ ভালো না-একমত ফর্টিসের ফুটবল ম্যানেজার রাশেদুল ইসলাম। বললেন, 'মুন্সিগঞ্জের মাঠের আরো পরিচর্যা দরকার।' রাশেদুল

ইসলাম বললেন, 'আমরা সব ভেন্যুতে খেলিনি। যে কয়টা দেখেছি, তাতে মুন্সিগঞ্জের মাঠ আরো পরিচর্যা করতে হবে। ময়মনসিংহে ঘাস আছে।'

কুমিল্লায় মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে ড্রেসিং রুমের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন আবাহনীর কোচ মারুফুল হক। মাঠ দেখে বলছিলেন এক সপ্তাহ যত্ন নিলেই মাঠের চেহারা বদলে যাবে।' 

ক্রিকেটের পিচ ছিল কুমিল্লার মাঠে। খেলা শুরু হওয়ার আগে পিচ তুলে ফেলা হয়েছে। মাটি ফেলা হলেও পিচের অংশ দিয়ে বল নিয়ে দৌড়ানো যায় না। মধ্যমাঠে যারা খেলেন, তারা বল পেলে পিচ এগিয়ে পাস ঠেলে দেন। এই মাঠেও একাধিক ফুটবলার চোট পেয়েছেন।

নিজেদের সমালোচনা করে ফর্টিসের ফুটবল ম্যানেজার রাশেদুল বলছিলেন, 'একজন ক্লাব প্রতিনিধি হিসেবে বলব আমাদেরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমরা ক্লাবগুলো ঢাকার কাছেই খেলতে চাই। আমাদেরকেও দায়িত্ব নিতে হবে। রাজশাহীতে কেউ ভেন্যু নেয়নি। আমরা গত বার নিয়েছিলাম। ওখানে মাঠ ভালো।' 

তাহলে ফর্টিস কেন এবার রাজশাহী গেল না? রাশেদুল বলেন, 'আমরা বসুন্ধরা কিংসের মাঠে পেয়েছি বলে যাইনি। না পেলে রাজশাহীতেই ভেন্যু নিতাম।'

ইত্তেফাক/জেডএইচ