শর্ষে ফুলের পাশে ‘মধুর জীবন’

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৭:৫১

চারপাশে হলুদ শর্ষে ফুল। সেই মাঠ ঘেঁষে সারি সারি মৌবাক্স। বাক্স ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌয়ালরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এভাবেই ব্যস্ততা বেড়েছে মৌয়ালের।

শুধু শিবগঞ্জই নয়, স্বল্প পুঁজিতে বেশি লাভের আশায় আশপাশে জেলা-উপজেলা থেকেও এসেছেন অনেকেই।

উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধু চাষে সরিষার উপর কোনো প্রভাব পড়ে না বরং পরাগায়নের ফলে ফলন বাড়ে। এ অবস্থায় সরিষা ক্ষেতে বিষ প্রয়োগ না করার জন্য সবাইকে সচেতন করা হচ্ছে। শিবগঞ্জে চলতি বছর সাড়ে ৮ হাজার কেজি মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এখনো পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৫ হাজার কেজি।

শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে,  নাটোর, নেত্রকোনা, নড়াইল, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে দলে দলে শিবগঞ্জে এসেছেন মৌয়ালরা। বেশিরভাগ চাষী বেশ কয়েক বছর ধরে মৌ-চাষের জন্য এখানে আসছেন। মধুর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধির কারণে অনেকেই মৌ-চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এবারও বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে শিবগঞ্জে শতাধিক দল মৌ চাষ করছে।

নাটোর মৌ চাষ সমবায় সমিতির সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, ‘নাটোরের গুরুদাসপুর থেকে আমরা ২০ দিন আগে এখানে এসেছি। এবার ১৪০টি বাক্সে ১৮ মণ মধু সংগ্রহের টার্গেট আছে। এখন পর্যন্ত ৯ মণ সংগ্রহ করেছি। নাটোর থেকে পাঁচটি দল এসেছে।’

একই দলে থাকা বাংলাদেশ হ্যানি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আরিফ উদ্দিন জানান, মধু চাষের জন্য বিসিক থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দেশে মধুর চাহিদা হলো ২৫ হাজার মেট্রিকটন। উৎপাদন হয় মাত্র ১৬ হাজার মেট্রিকটন। অথচ বাংলাদেশে প্রতিবছর ৫০ থেকে ৬০ হাজার মেট্রিকটন মধু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। মধু চাষের জন্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা আরও বাড়ানো উচিত।

একইভাবে নড়াইল থেকে এসেছেন নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মৌচাষে সফলতার গল্প শুনে আরও দুই তিন বছর আগে চাষ শুরু করি। এবার আমরা তিনজন একসঙ্গে আছি। খরচ বাদ দিয়ে প্রতিবছর জনপ্রতি আয় হয় ২৫ লাখ টাকা। এবারও সফল হবো ইনশাল্লাহ।’

শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার নয়ন মিয়া বলেন, এ বছরে শিবগঞ্জে মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ৫০০ কেজি। এ পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে ৪ হাজার ৯০০ কেজি। শিবগঞ্জে ৬টি দলের মাধ্যমে প্রায় ১০০ মৌয়াল মধু চাষ করছে।

ইত্তেফাক/এপি