যশোরে চার সড়কের বেহাল দশা

সড়কে তৈরি হয়েছে উঁচু ঢিবি, কোথাও উঠে গেছে সম্পূর্ণ পিচ

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২৪, ২১:৪০

যশোরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মহাসড়ক ও একটি সড়কের অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। এসব সড়কের দুপাশ ঘেঁষে পিচঢালাই সরে উঁচু উঁচু ঢিবি তৈরি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রায়ই। তৈরি হয়েছে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। 

এসব সড়ক-মহাসড়কগুলোর প্রায় ৫০ কিলোমিটার অংশে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনগুলো দুর্ঘটনার সম্মুখীন বেশি হচ্ছে। ঘটছে প্রাণহানির ঘটনাও। আর বড় যানবাহনের মালিকরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অনেক বাস ও ট্রাক সড়কের গর্তের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যাচ্ছে। এতে মৃত্যুসহ অনেকে পঙ্গু হচ্ছেন। 

ছবি: ইত্তেফাক

সড়কগুলো হচ্ছে যশোর-খুলনা, যশোর-বেনাপোল ও যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক এবং শহরের বাইপাস পালবাড়ী-মণিহার সড়ক। যশোর-খুলনা মহাসড়ক গত এক দশকেরও বেশি সময় বেহাল দশায় রয়েছে। সড়কের দুপাশ ঘেঁষে পিচঢালাই সরে উঁচু উঁচু ঢিবি তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও সম্পূর্ণ পিচ উঠে গেছে। বছরের পর বছর শত শত কোটি টাকা ব্যয় করেও এই সড়কের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। রাস্তা নির্মাণে চরম অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে সড়কটি আশানুরূপ মানে উন্নীত হয়নি, এটি দীর্ঘদিনের অভিযোগ। দফায় দফায় সংস্কারের পিছনেও বরাদ্দ দেওয়া হয় কোটি কোটি টাকা। তারপরও সড়কটি জাতীয় মানের কাঙ্ক্ষিত স্তরে পৌঁছায়নি। এই মহাসড়কের মুড়লী, চেঙ্গুটিয়া, বসুন্দিয়া ও নওয়াপাড়া এলাকার অন্তত সাড়ে ১০ কিলোমিটারের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। 

সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রাথমিকভাবে মুড়লী ও চেঙ্গুটিয়া এলাকার আড়াই কিলোমিটার রাস্তা কংক্রিট বা রিজিট করার উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এই এলাকার অবশিষ্ট ১২ কিলোমিটার ইটের সোলিং এবং রিজিট করার জন্য মন্ত্রণালয়ে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নওয়াপাড়া, বসুন্দিয়া ও চেঙ্গুটিয়া অংশে চার কিলোমিটারের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে আরও ৪০ কোটি টাকা।

দেশে বর্তমানে যে বিটুমিন ব্যবহার করা হয়, তা মানসম্মত নয়। এজন্য রাস্তা কাঙ্ক্ষিতভাবে টেকসই হচ্ছে না। 

—গোলাম কিবরিয়া, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী।

এদিকে, ৩৮ কিলোমিটারব্যাপী যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের মধ্যে মাত্র ১৩ কিলোমিটার জুড়ে অন্তত অর্ধশতাধিক স্থানে ঢিবি আর এবড়োখেবড়ো অবস্থা সৃষ্টি হয়ে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। এই মহাসড়কের চাঁচড়া ও লাউজানি এলাকার ৩০০ মিটার রাস্তা চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ বিশেষ করে ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিকসহ দুই দেশে যাতায়াতকারী পাসপোর্টধারী যাত্রীরা। প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করে এ মহাসড়কে। বেনাপোল দিয়ে চলাচলকারী ৫-৭ হাজার পাসপোর্টধারী যাত্রীর সড়ক যোগাযোগের একমাত্র পথও এটি। এই মহাসড়কের লাউজানি ও পুলেরহাট অংশ সংস্কারের জন্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। 

ছবি: ইত্তেফাক

যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের কালীগঞ্জ পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভাঙাচোরা সড়কের বিস্তার আরও বেশি। শহরের বাইপাস পালবাড়ী-মণিহার সড়কও দীর্ঘদিন বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এখানকার সাড়ে চার কিলোমিটার রাস্তার প্রায় পুরোটাই খানাখন্দে ভরা। 

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ নাকচ করে বলেন, কনস্ট্রাকশনে কাজ করার সময় ত্রুটি অনেক সময় হয়ে যায়। তবে তার সঙ্গে আসলে দুর্নীতির সম্পর্ক নেই। সড়কের বেহাল অবস্থার জন্য তিনি প্রচলিত বিটুমিনের মানের ঘাটতি এবং ওভারলোডকে দায়ী করেন।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে যে বিটুমিন ব্যবহার করা হয়, তা মানসম্মত নয়। এজন্য রাস্তা কাঙ্ক্ষিতভাবে টেকসই হচ্ছে না। 

বিআরটিএ-এর সহকারী পরিচালক এ এস এম ওয়াজেদ হোসেন বলেন, ওভারলোড বন্ধ করতে আমরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে থাকি। তবে শুধু ইনফোর্সমেন্ট দিয়ে সম্ভব নয়। এজন্য মালিকদের সচেতন করছি। চালকদেরও বোঝানো হচ্ছে। এর পজিটিভ ইমপ্যাক্ট আছে।

ইত্তেফাক/এসএএস