তিস্তার পানি বিপদসীমার ২৫ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৯, ২২:৫৯

কখনও হালকা কখনও ভারি  বর্ষণে রংপুর অঞ্চলের তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের বৃহৎ এই তিস্তা ব্যারেজের পানি বৃদ্ধির ফলে এর আশপাশের অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

একদিকে বৃষ্টির পানি, অন্যদিকে উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ও ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারেজের পানি বর্তমানে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সব পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী ও তীরাঞ্চল ছাড়াও মহানগরীর বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকার কুড়ি হাজার পরিবারের মানুষ।

এদিকে  কাউনিয়ার দ্বীপ চর ঢুষমারায় কয়েকশত মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। অনেকে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বাড়ি-ঘর নৌকায় তুলে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিচেছ। সেখানকার মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। অব্যাহত পানির তোড়ে ভেসে যাচ্ছে ঘরবাড়ি গাছপালা ও গবাদি পশু। পানি বৃদ্ধিও কারণে ছোটখাটো ব্রিজ কালভার্টগুলো ভেঙে পড়ছে। ফলে স্থানীয় প্রশাসন ত্রাণ সামগ্রি নিয়ে চরাঞ্চল এলাকায় যাবেন তারও উপায় নেই। 

রংপুর পানি উন্নয়ন উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকোশলী মেহেদী হাসান জানান, ডালিয়া পয়েন্টে সর্বোচ্চ পানি উঠানামা করছে। বর্তমানে ডেঞ্জার পয়েন্টের স্থলে বর্তমানে সেখানে ২৫ দশমিক ৯৭ পয়েন্টে পানি উঠানামা করছে। অর্থাৎ ডেঞ্জার লেবেলের ২৫ পয়েন্ট ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। একই অবস্থা কাউনিয়ার ৫০ দশমিক ৯ পয়েন্টের স্থলে ৫২ দশসিক ২৫ পয়েন্ট ওপর দিয়ে পানি উঠানামা করছে। বৃষ্টি আর দুচারদিন লাগাতার হলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

এক ধরণের স্থবিরতা নেমে এসেছে বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে। সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তার চরের ১৫টি গ্রামের প্রায় ১ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সেখানকার কোলকোন্দ ইউনিয়নের চিলাখাল বেরিবাঁধে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

এছাড়া একই উপজেলার লক্ষীটারী ইউনিয়নের শংকরদহ, চর ইসলী, কোলকোন্দ ইউনিয়নের চিলাখাল, চর মুটুরকপুর, নোহালী ইউনিয়নের বাঘডোহরা, চর নোহালী, কচুয়া এলাকার প্রায় ৫’শ পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে।

কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন রাজু জানান, তার ইউনিয়নের বিনবিনিয়ার চর এলাকায় ৭০ পরিবার এখনও পানিবন্দি। তিনি জানান, দুর্গত মানুষদের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে বিষয়টি তিনি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন।

এদিকে একই অবস্থা জেলার কাউনিয়া চার ইউনিয়ন ও পীরগাছার তিন ইউনিয়নের বিভিন্ন চর এবং নিম্নাঞ্চলের। কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে হঠাৎ পনি বৃদ্ধি পাওয়ায় তার ইউপির বিশ্বনাথ, চর গনাই, হয়বত খা, চরগনাই, ঢুষমারা চর, তালুৃক সাহাবাজ এলাকার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছে। অনেক এলাকার স্কুল মাদ্রাসার মাঠে পানি জমে থাকায় সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন বন্ধ রয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় বিঘ্ন ঘটছে।

লক্ষীটারী ইউনিয়েনর চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদি জানান, তিস্তার পানি হঠাৎ বেড়ে পাওয়ায় ইউনিয়নের বিভিন্ন চর এলকার অন্তত ১০ হাজার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ছোট খাট বহু ব্রিজ-কালভার্ট ভেঙ্গে গেছে। এছাড়া পানি বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন চরাঞ্চলের আবাদী জমি ও বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি গবাদি পশু ও হাঁস মুরগি নিয়ে চরম আশংকা করছেন কষক-গৃহস্থরা। 

আরও পড়ুন: বিদ্যুতের ছেড়া তারে মা-বাবার মৃত্যু, অসহায় ৪ শিশু

রংপুরের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) ফরহাদ হোসেন জানান,জেলার বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণসহ খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

ইত্তেফাক/নূহু