প্রিমিয়ার ফুটবলে পরশু বিকালে কুমিল্লার মাঠে আবাহনীর বিপক্ষে (১-০) হেরে বসুন্ধরা কিংস এখন নতুন পরিকল্পনা করছে। মোহামেডানের কাছে হারের পর আবাহনীর বিপক্ষে হেরে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে গেছে লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস। গত মৌসুমে লিগের ষষ্ঠ ম্যাচেই মোহামেডানের কাছে হেরেছিল কিংস। ওটাই ছিল ১৮ ম্যাচের লড়াইয়ে একমাত্র হার।
আর এবার লিগ শুরুর চার ম্যাচের মধ্যে দ্বিতীয় ম্যাচে মোহামেডানের বিপক্ষে এবং চতুর্থ ম্যাচে আবাহনীর কাছে হেরে কিংস এখন দিশেহারা। ক্লাবটির কর্মকর্তাদের মনে আগুন জ্বলছে। ডাবল হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার টার্গেট করা দলটা যদি শুরুতেই হোঁচট খায়, তাহলে তো লক্ষণ ভালো মনে হবে না। বসুন্ধরা কিংস ২ মিনিটে গোল হজম করে যোগ হওয়া টাইমসহ ৯০ মিনিটের বেশি সময় পেয়েও গোলটা শোধ করতে পারেনি। পেনাল্টি পেয়েও গোল শোধ করতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক মিগুয়েল, ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিকের ফুটবলার।
গোল হয়ে গেলে হয়ত ম্যাচের মোড় ঘুরেও যেতে পারত। যেহেতু হয়নি তাহলে সেটি বলাও যায় না।কিংসের কর্মকর্তারা দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বসবেন। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য খেলোয়াড় তালিকায় পরিবর্তন করা, কোচের পরিকল্পনায় ভুল থাকলে সেটি মেরামত করাসহ নানা কিছু ঘুরপাক খাচ্ছে নীতি নির্ধারকদের মধ্যে।
এমনও হতে পারে নতুন কোচ আনা যায় কিনা সেটিও ভাবছেন তারা। শুধু তাই নয় বসুন্ধরা কিংস দুই ম্যাচ হেরেছে কুমিল্লার মাঠে। মাঠ সমস্যাটাও কি হারের বড়সড় কারণ কিনা, সেটিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা। কোচ মনে করছেন মাঠ ভালো না, তার খেলোয়াড়রা আনলাকি। লিগের প্রথম পর্বের আরও ৫ ম্যাচ রয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে যোগ হবে ৯ ম্যাচ। চ্যাম্পিয়ন হতেহলে ট্রফি ধরে রাখতে হলে সব কিছু আমলে নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা সাজানোর পথেই হাঁটতে চান কিংস কর্তারা।
আবাহনীর কোচ মারুফুল হকের পরিকল্পনায় কুপোকাত হয়েছেন বিদেশি শক্তিনির্ভর কিংসের রোমানিয়ান কোচ ভেলেরি তিতে। গোল হজমের পর ৯০ মিনিট সময় পেয়েও ভ্যালেরি কৌশল প্রয়োগ করতে না পারায় ডুবেছে কিংস। অথচ আবাহনীর ঘরে কোনো দেশি ফুটবলার নেই। শাহরিয়ার ইমনকে ঠেকাতেই নাইজেরিয়ান ইসাইয়াহ এজেহ, তপু বর্মন, সাদ উদ্দিনরা নাকানি চুবানি খেয়েছেন। সুমন রেজাকে ঠেকাতে পারেনি তারা। মাথার উপর লাফিয়ে উঠে গোল করেছেন। সবই দেখেছেন কোচ।
বসুন্ধরা কিংস-আবাহনী ম্যাচ শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে দুই দলের সবার মধ্যে সৌহার্দ্য বিনিময় হয়। মাঠে অধিনায়ক যেমন প্রতিপক্ষের অধিনায়ক এবং রেফারি, সহকারী রেফারিদের সঙ্গে হাত মেলান। তেমনি আবাহনীর কোচ মারফুল হক কিংসের কোচ ভেলেরি তিতের কাছে গিয়ে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ভেলেরি তিতের শরীরি ভাষা এবং পোলিও রোগীদের মতো হাত বাড়ানো দেখে মনে হচ্ছিল তিনি অনাগ্রহী।
খেলা শেষেও একই দৃশ্য চোখে পড়ল। মারুফ এবারও খেলা শেষে হাত মেলাতে গিয়ে যেন বিব্রত। মনে হচ্ছিল কোচ মারুফুল হকের সঙ্গে বসুন্ধরা কিংসের দূরত্ব রয়েছে। অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের কোচ থাকাকালীন মারুফের সঙ্গে নিজেদের খেলোয়াড়দের অনুশীলনের পাঠানো নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। মারুফের অধীনে কিংসের খেলোয়াড়দের পাঠাতে চায় না বলে কিংস চিঠি দিয়েছিল। এসব নিয়ে মারুফের সঙ্গে কিংসের মানসিক টানাপোড়েনের আগুনটা চ্যাম্পিয়ন দলের বুকের ভেতরে চাপা ছিল। এরই মধ্যে আবাহনীর কাছে বসুন্ধরা কিংস লিগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটাতে হেরে গেল। নিন্দুকের মুখে কিংস যেন মারুফুল হকের কাছে হেরেছে।
