শীর্ষে উঠেও দুশ্চিন্তায় মোহামেডানের কোচ আলফাজ

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৩:৫৯

প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে টানা ৪ ম্যাচ জিতে ১২ পয়েন্ট পকেটে পুরেছে মোহামেডান। চতুর্থ ম্যাচে এসে এখন পর্যন্ত একটি গোল হজম করেছে। লিগে বসুন্ধরা কিংসের মতো পাহাড় সমান দলের বিপক্ষে ১০ জন নিয়ে জিতেছে। হারিয়েছে আবাহনীকেও। এই দল দুটি প্রিমিয়ার ফুটবলে সবচেয়ে বড় দল। এদেরকে সমর্থকরা বলছেন তারা হাতি-ঘোড়া। 

এত বড় দুই দলের বিপক্ষে জয় পেয়ে মোহামেডান কোচ আলফাজ আহমেদ বলছেন তার চোখে আরও বড় দল রয়ে গেছে। নাম জানতে চাইলে আলফাজ বলেন, 'বিগ ম্যাচ এখনো রয়ে গেছে।' আবাহনী ও বসুন্ধরার বিপক্ষে জিতে গুরুত্বপূর্ণ ৬ পয়েন্ট পাওয়ার পরও বিগ ম্যাচ রয়ে গেছে? আলফাজ বলেন, 'হ্যাঁ এখনো বিগ ম্যাচ রয়ে গেছে। ফর্টিস এফসি, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, রহমতগঞ্জও বড় দল। শুধু নাম দেখে বিচার করবেন না। মাঠের খেলা দেখে বিচার করবেন। তাহলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।' 

কথাটা আরও খুলে বললেন, 'ফেডারেশন কাপে ফর্টিস হারিয়েছে বসুন্ধরাকে। আমরা রহমতগঞ্জের কাছে হেরেছি। ব্রাদার্সও ভালো করছে। এই দলগুলো ভালো ফাইট দিচ্ছে। এই দলগুলোকে খাটো করে দেখা হবে বোকামি।' 

গত শনিবার ওয়ান্ডারার্স-ফর্টিস ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। রহমতগঞ্জ ৩-১ গোলে ব্রাদার্সকে হারিয়েছে। ফকুিরেরপুল ২-০ গোলে চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারিয়েছে। এসব ম্যাচ দেখেছেন মোহামেডান কোচ আলফাজ আহমেদ। নানা বিশ্লেষণ করে আলফাজ বলছেন, 'এখন আমরা যেখানে রয়েছি এটা দেখেই সব বিচার করা ঠিক হবে না। কারণ লিগের প্রথম প্রথম পর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যায় না। দ্বিতীয় পর্বের তিন-চারটা ম্যাচ গেলে শিরোপা কোন দিকে যাচ্ছে সেটা সবাই বুঝতে পারবে।'

টানা পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস প্রথমে মোহামেডানের কাছে হারল, পরে একই মাঠে আবাহনীর কাছেও হারল। আলফাজ বললেন, 'আবাহনীর জয়টা পজিটিভ, প্রশংসা পাওয়ার মতো। তারা দেশি কোচ দেশি ফুটবলারদের নিয়ে প্রমাণ করেছে। বসুন্ধরা কিংসের বিদেশি ফুটবলারদের বিপক্ষে জিতেছে।

এটা প্রশংসা করার মতোই। এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে দেশি কোচ এবং দেশি খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা বাড়বে। ক্লাবগুলো ভরসা পাবে। দেশিদের ডিমান্ড বাড়বে। ক্লাবগুলো নতুন করে বুঝতে পারবে, আস্থা পাবে যে, দেশি খেলোয়াড়দের দিয়েও পারা যায়। তবে হ্যাঁ এখানে আমি বেশি ক্রেডিট দেব কোচকে। দেশি কোচদের সাফল্যের কথা বলতে হবে।'

মোহামেডান এত ভালো খেলার পরও ক্লাবের কর্মকর্তাদের নজর নেই। গত মৌসুমে লিগ রানার্সআপ হয়েছিল। এবার আরো ভালো খেলছে। এই ভালোটাকে সমর্থন যুগিয়ে আরো ভালোর দিকে নিয়ে যেতে পারছেন না ক্লাবের নীতিনির্ধারকরা। তুলনা করলে গত সাত-আট বছরের চেয়ে বর্তমান মোহামেডান অনেক ভালো করছে। সমর্থকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। কম বাজেটের মোহামেডান, তারকাবিহীন মোহামেডান এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিপক্ষ ক্লাবগুলো থেকেও মোহামেডানের এগিয়ে চলাকে সমীহ করা হচ্ছে। কিন্তু নিজ ঘরের নীতিনির্ধারকরা মাঠের খেলোয়াড়দের খবর রাখছেন না।

খেলোয়াড়রা ঠিক মতো পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। তাদের বেতন বকেয়া রয়েছে। দেশি ফুটবলারদের মতো বিদেশি ফুটবলাররাও জানবাজি রেখে লড়াই করলেও মাঠ থেকে ক্লাবে ফিরে বকেয়া পাওয়ার সুখবর পাচ্ছেন না। খেলোয়াড়রা কয়েক বার ভেবে ছিলেন, তারা অনুশীলন বয়কট করবেন। ম্যাচ খেলতেও যাবেন না। কোচ আলফাজ এবং ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকিব মাথায় হাত বুলিয়ে, পিঠে হাত বুলিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। মোহামেডানের একজন সাবেক ফুটবলার গতকাল বলছিলেন, 'ফুটবল খেলতে রক্ত পানি হয়ে যায়। ক্লাবটা এখন ভালো করছে। এই সময় যদি ইউনিটি ধরে না রাখা যায়, তাহলে সেটির প্রভব পড়বে মাঠে।'

ক্লাবের পরিস্থিতি নিয়ে আলফাজকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, 'ক্রাইসিস রয়েছে, অন্যান্য ক্লাবেরও রয়েছে। আমাদেরও রয়েছে। পয়েন্ট টেবিলে আমাদের দল যে অবস্থানে রয়েছে, এখন যদি ক্রাইসিসের মধ্যে পড়ে যাই তাহলে আমাদের অনেক সমস্যা হবে। ক্রাইসিসটা কাটিয়ে ওঠাই আমাদের টার্গেট।' আলফাজ বলেন, 'এ অবস্থান ধরে রেখে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে, ক্রাইসিস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।' 

মোহামেডানকে ভালো অবস্থানে নিয়ে ভালো নেই কোচ আলফাজ আহমেদ। টেনশনে রয়েছেন। প্লেয়ারদেরকে টেনশন মুক্ত না রাখতে পারলে খেসারত দিতে হবে সেটা বুঝতে পারছেন কোচ। বলছিলেন, 'টেনশন কাজ করছে। বিশাল টেনশন। প্লেয়ারদের, কোচদের রুটি-রুজির ব্যাপার। ক্রাইসিস দূর করতে হলে সবাই মিলে চেষ্টা করতে হবে।' সমাধান করতে হলে কী করতে হবে? পরিষ্কার ভাষায় বুঝিয়ে দিলেন আলফাজ, 'সমাধান করতে হলে অফিসিয়ালদের করতে হবে। এটা অফিসিয়ালদের কাজ।'

ইত্তেফাক/জেডএইচ