জাহাজে সাত খুনের ঘটনায় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে নৌযান শ্রমিকরা

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ০১:১১

চাঁদপুরের মেঘনায় জাহাজে সাত খুনের প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদঘাটন, বিচারসহ বিভিন্ন দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন নৌযান শ্রমিকরা।

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে এ কর্মবিরতি শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন সভাপতি মো. শাহ আলম।

তিনি বলেন, বাগেরহাটের মূলঘর পূর্ব ইউনিয়নের জগদীশ মন্ডলের ছেলে আকাশ মন্ডল ওরফে ইরফান কর্তৃক সার বোঝাই পণ্যবাহি এমভি আল বাখেরা জাহাজের ৮ জন স্টাফকে ঠান্ডা মাথায় যেভাবে কুপিয়েছেন এবং বিশাল একটি জাহাজ একাই চালিয়েছেন এতে মনে হয় এটা তার একার কাজ হতে পারে না। আমরা এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য এবং এর সাথে অন্য যারা জড়িত ছিল তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য সঠিক তদন্ত দাবি করছি।
 
শাহ আলম বলেন, আমরা সারাদেশে ১০ হাজার পণ্যবাহী নৌযান ও লক্ষাধিক শ্রমিকদের নিরাপত্তাও দাবি করছি। যারা ওই জাহাজে হতাহতের শিকার হয়েছেন সরকারের পক্ষ থেকে জন প্রতি ২০ লাখ টাকা করে ক্ষতি পূরণও দাবি করছি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতিসহ পণ্যবাহী নৌযান ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
 
এদিকে চাঁদপুরের গ্রেফতার হওয়া আকাশ মন্ডল ওরফে ইরফানকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়ার পর রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানান চাঁদপুর নৌ পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার ইমতিয়াজ আহমেদ।
 
তিনি বলেন, এক বছর আগে আকাশ মন্ডল মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেন। ৮ মাস আগে সে ওই জাহজে সুকানির চাকরি নেন হত্যাকাণ্ডের শিকার জাহাজ মাস্টার গোলাম কিবরিয়ার মাধ্যমে। জাহাজ মালিক জানান ওই জাহাজে গোলাম কিবরিয়া ও ইঞ্জিন চালক সালাউদ্দিন মোল্লাকে চাকরি দেন তারা, বাকিরা সবাই গোলাম কিবরিয়ার মাধ্যমে ওই জাহাজে চাকরি নেয়।
 
এদিকে এই ঘটনার পর চাঁদপুর নৌ রুটে সব ধরনের নৌ নিরাপত্তার হীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করছেন স্থানীয় সাধারণ চলাচলকারী লঞ্চযাত্রী ও নৌযান শ্রমিকরা।
 
এ বিষয়ে চাঁদপুর নৌপুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান বলেন, ৭ জনকে হত্যার ঘটনা ব্যক্তিগত আক্রোশের ঘটনা ছিল। নদীতে কোনো ধরনের নৌযান নিরাপত্তাহীনতায় নেই। এছাড়া আমাদের নৌপুলিশ ও কোস্টাগার্ড সব সময় সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

ইত্তেফাক/এনএন