নওগাঁর রাণীনগরের শের-এ বাংলা সরকারি মহাবিদ্যালয়ের মাঠের এক পাশে শুধু গেইট আছে কিন্তু নেই চলাচলের রাস্তা। অপরিকল্পিতভাবে লাখ টাকা খরচে নির্মাণ করা গেইট বর্তমানে কোন কাজেই আসছে না। শুধুমাত্র আবর্জনা স্তূপের পাশে নামফলকসহ দাঁড়িয়ে আছে গেইটটি। কলেজ প্রশাসনের এমন কাজে হতবাক স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এমপি আনোয়ার হোসেন হেলাল কলেজ পরিদর্শনে এসে একটি প্রধান গেইট নির্মাণের জন্য প্রায় ৩লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করেন। জেলা পরিষদের মাধ্যমে সেই অর্থছাড়ে বিলম্ব হওয়ার কারণে চলতি বছরের শুরুর দিকে সেই অর্থ পেলে কলেজের অধ্যক্ষ সেই অর্থ দিয়ে কলেজ মাঠের পশ্চিম দিকে রাস্তা বিহীন একটি গেইট নির্মাণ করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গেইটের সামনে এক মানুষ সমান উঁচু রেলওয়ের রাস্তা রয়েছে। নির্মাণ করা সেই গেইটের সঙ্গে রেলওয়ের রাস্তার সংযোগ স্থাপন করতে গেলে প্রায় ৬ফিট উচ্চতা মাটি ভরাট করতে হবে। আর মাটি দিয়ে ভরাট করলে গেইটের অর্ধেক অংশই মাটি দিয়ে পূরণ হয়ে যাবে তখন আর ওই গেইট দিয়ে কলেজের শিক্ষার্থী কেনো কোনো মানুষই যাতায়াত করতে পারবে না বলছেন স্থানীয়রা।
ও রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা মিন্টু আলী, আজাদ হোসেনসহ অনেকেই জানান শুধুমাত্র কলেজের শিক্ষার্থীসহ অন্য স্টাফদের চলাচলের জন্য যদি ওই গেইট নির্মাণ করা হয় তাহলে গেইট নির্মাণের আগেই পুরোপুরি চলাচলের জন্য রাস্তার ব্যবস্থা করা উচিত ছিলো। আর যেখানে কলেজের প্রাচীর নেই সেখানে লাখ টাকা খরচ কওে এমন গেইট নির্মাণ করা সত্যিই পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়। এমন কাজেই প্রমাণ পাওয়া যায় যে এই কলেজে কি পরিমাণ অনিয়ম, দুর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারিতা করা হয়।
কলেজের একাধিক শিক্ষার্থীরা জানায়, কলেজ মাঠের দক্ষিণের অংশ প্রায় সারা বছরই পানিতে ডুবে থাকে যার কারণে মাঠে নিয়মিত খেলাধুলা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। বড় ধরনের কোন টুর্নামেন্টের আয়োজন করা যায় না সেই জরুরী মাঠটি মাটি ভরাট করে মেরামত না করে রাস্তাবিহীন একটি গেইট নির্মাণ করা হয়েছে। যা আমাদের কোনো কাজেই আসছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, সমন্বয়হীনতার অভাবে কলেজের সুন্দর পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে কলেজের পুরাতন ভবন মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে সেটির মান নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এমন রাস্তাবিহীন গেট দেখে সবাই হতবাক।
কলেজের অধ্যক্ষ মোছা. শাহানাজ পারভীন মুঠোফোনে ইত্তেফাককে জানান, গেইট নির্মাণ করেছে জেলা পরিষদ। জেলা পরিষদের আওতায় অর্থ বরাদ্দ হওয়ার কারণে গেইট নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে সবকিছুই করেছে জেলা পরিষদ। আমি একাধিকবার গেইট নির্মাণের বিষয়ে বাধা দিয়েও কোন লাভ হয়নি। আর পরবর্তী সময়ে কলেজের সীমানা প্রাচীর এবং নতুন ভবন নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই হয়তো বা সেই পরিকল্পনা মাফিক গেইট নির্মাণ করা হয়েছে। তবে গেইট নির্মাণে অনেক ভুলও করা হয়েছে। আর স্বেচ্ছাচারিতা বিষয়ে তিনি জানান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কলেজের সকল শিক্ষকদের পরামর্শক্রমেই সকল কাজ করা হচ্ছে। সে সকল শিক্ষকরা আমাকে সহ্য করতে পারছেন না তারাই মূলত বিভিন্ন স্থানে মিথ্যে রটনা রটিয়ে যাচ্ছেন।
কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাইমেনা শারমীন জানান, কলেজের বিভিন্ন বিষয়ে তিনি একাধিক অভিযোগ পেয়েছেন। সেই সব অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
