চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে জাহাজে ৭ জনকে হত্যার বিচার ও নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন পণ্যবাহী নৌযান শ্রমিকরা। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরসহ সারাদেশে আমদানি পণ্য খালাস ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা থেকে এই কর্মবিরতি শুরু হয়। এতে দেশের বিভিন্ন ঘাট ও বন্দরের বহির্নোঙরে গম, মসুর ডাল, মটর ডাল, সয়াবিন বীজ, সার, কয়লা ও সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার ইত্যাদি মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টন পণ্য আটকা পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর ও লাইটার জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের তথ্য অনুযায়ী, কর্মবিরতির কারণে দেশের ৪৫টি ঘাটে ৭৩৮টি জাহাজে আটকা পড়েছে প্রায় ১০ লাখ টন পণ্য। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জাহাজ আটকা পড়েছে যশোরের নওয়াপাড়া ঘাট, নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ঘাট, মেঘনা ঘাট ও সিরাজগঞ্জের ঘোড়াশাল ঘাটে।
এ ছাড়া বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ৩৫টি জাহাজে বোঝাই করা হয়েছিল অর্ধলাখ টন পণ্য, যা আটকে আছে। আবার বন্দরের বহির্নোঙরে ২০টি বড় জাহাজে খালাসের অপেক্ষায় আটকে আছে প্রায় সাড়ে চার লাখ টন পণ্য।
সাত খুনের ঘটনার পরপরই প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবি জানিয়ে তা বাস্তবায়নে ৭২ ঘণ্টা সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল নৌযান ফেডারেশন। এই চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে সাত খুনের ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার করে বিচার, নৌপথের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিহত শ্রমিকদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান। তবে এ নিয়ে প্রশাসন কোনো আলাপ-আলোচনা করেনি সংগঠনটির সঙ্গে। ফলে কর্মবিরতি শুরু হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ নৌযান ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক নবী আলম জানান, দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। এ কারণে লাগাতার কর্মবিরতি চলবে।

