ঈশ্বরদীতে বেগুন ক্ষেতে ভাইরাস ও পাখির আক্রমনে বিপর্যস্থ কৃষক। ভাইরাসের আক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন কীটনাশক ছিটিয়েও কাজ হচ্ছে না। তদুপরি পাখির উৎপাত ঠেকাতে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে জমি নেট দিয়ে ঘেরা দিতে হয়েছে। এ অবস্থায় এবারে ঈশ্বরদীতে বেগুণ ফলনে বিপর্যয় ঘটেছে। যেকারণে পূর্ণ মৌসুমে অন্যান্য সবজির দাম কমলেও বেগুণের দাম তেমন কমেনি।
সবজি উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত ঈশ্বরদীর সকল ইউনিয়নেই কমবেশী বেগুণের চাষ হয়। বিশেষ করে লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের চরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশী বেগুণের আবাদ হয়।
বক্তারপুর গ্রামের বেগুণ চাষি সেলিম প্রামাণিক জানান, এবারে বেগুণে নতুন ভাইরাসের আক্রমণ হয়েছে। গাছের পাতা হলুদ হয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছে। এইকারণে গাছ বৃদ্ধি পাচ্ছে না, গাছে বেগুণ ধরছে কম এবং পরিপূর্ণ পুষ্ঠ হচ্ছে না। তাছাড়াও পাখি এসে বেগুণ খেয়ে যাচ্ছে। পাখির উৎপাত থেকাতে বেগুণের ক্ষেত নেট দিয়ে ঘেরা দিতে হয়েছে। এতে চাষাবাদের ব্যয়ের সাথে অতিরিক্ত ৬-৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আক্রমণ ঠেকাতে কৃষি বিভাগের লোকদের পরামর্শ অনুযায়ী অনেক কিছু করে কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
কৃষি বিভাগ বলছে, অন্যান্যবারে বেগুণ ক্ষেতে সাদামাছির আক্রমণ হলেও এবারে বেগুণ চাষ শুরুর সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বেশী পরিমাণে সাদা মাছির আক্রমণ হয়েছে। এছাড়াও বেগুনের জাব বা জ্যাসিড পোকা আক্রমণের ফলে গাছের পাতা, কচি কান্ড, ফুল, গাছ দুর্বল ও হলুদ হয়ে তামা বর্ণ হয়। পাতা কুঁচকে ও শুকিয়ে যাচ্চে। এছাড়াও গাছে হলুদ ও গাঢ় সবুজ ছোপ ছোপ মোজাইক করা পাতা দেখা যাচ্ছে। যেখানে আক্রমণের মাত্রা তীব্র সেখানে গাছে তুলসি পাতা বা খুদে পাতা রোগ দেখা গেছে।
এবিষয়ে অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মাহমুদা মোতমাইন্না বলেন, সাধারণত: শীতকালে মেঘলা কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া জাবপোকার বংশ বৃদ্ধি ও আক্রমণের প্রধান সময়। ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি হতে এ পোকার সংখ্যা বাড়তে থাকে।
আক্রমণ প্রতিরোধে কৃষি অফিস থেকে মাঠ কর্মীদের মাধ্যমে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। করণীয় প্রসংগে তিনি বলেন, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ, আক্রান্ত গাছে ছাই ছিটানো, ০.৫% ঘনত্বের সাবান পানি অথবা ৫ মিলি তরল সাবান প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা, ক্ষেতে মাকড়সা সংরক্ষণ করা, নিম বীজের শাঁস পিষে পানিতে ভিজিয়ে রেখে ছেঁকে জ্যাসিড আক্রান্ত ক্ষেতে স্প্রে করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। এছাড়াও পোকা দমনের জন্য ডায়মেথোয়েট ৪০ ইসি, সানগর, ১মিঃলিঃ, এডমায়ার ১ মিঃলিঃ, মেটাসিস্টক্স ১ মিঃলিঃ, সবিক্রন ১মিঃলিঃ, এসাটাফ-১.৫ গ্রাম মিশিয়ে স্প্রে করা যেতে পারে।
