রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় কেবল সহায়ক ও সাধারণ কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য বরাদ্দ ১ শতাংশ কোটা বাতিলের দাবিতে প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়৷ এ সময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান (শিক্ষা) এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিনসহ (প্রশাসন) কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বিকাল ৪টা) প্রায় ৭ ঘন্টা অবরুদ্ধ ছিলেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার রাজশাহীর বিভিন্ন কলেজ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রশাসনিক ভবন অবরূদ্ধ করেছেন।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, বহিরাগত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আছেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী উর্মি, কামারুজ্জামান কলেজের ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত বিভা, বারিন্দ কলেজের শিক্ষার্থী মাহফুজা রাহাত, বেল পকুর কলেজের শিক্ষার্থী সুস্মিতা, আদর্শ অনার্স ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মো. শুভ প্রমুখ।
এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ‘পোষ্য কোটা নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’, ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘পোষ্য কোটার বিরুদ্ধে, আগুন জ্বালো একসাথে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এর আগে, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য পোষ্য কোটা সম্পূর্ণরূপে বাতিল করে শুধু সহায়ক ও সাধারণ কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ কোটা রেখে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাত ৮ টায় আন্দোলনকারীরা সংবাদ সম্মেলন করে সকাল ১০ টায় প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
শিক্ষার্থীদের আরো দু'টি দাবি হলো- ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি কমানো এবং প্রশাসনে থাকা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত সকল কর্মকর্তাকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা।
জানতে চাইলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, এই প্রশাসনকে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তাবেদারী করার জন্য নিয়োগ করা হয়নি। নিয়োগ করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন করার জন্য। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি যদি আপনার কাছে অন্যায় আবদার মনে হয় তাহলে আপনি বড় ফ্যাসিস্ট।
বহিরাগতদের বিষয়ে এই সমন্বয়ক বলেন, এখানে অবস্থানরত বহিরাগত শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই ভর্তি পরিক্ষার্থী এবং যারা তারা নিজেদের ছোট ভাই বোনদের জন্য পোষ্য কোটা না রাখার ও ভর্তি ফি কমানোর দাবিতে সংহতি জানাতে এসেছেন।
এ বিষয়ে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, আমরা সার্বিক বিচার বিশ্লেষণ করে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সাধারণ কর্মচারীদের জন্য ১% কোটা রেখেছি। তাদের জন্য এটা রাখা যৌক্তিক। তাদের অবস্থা ভালো হয়ে গেলে আগামীতে এটাও বাতিল করা হতে পারে। তবে এ বছর ১% বহাল থাকবে।
তিনি আরও জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া শাস্তি দেওয়ার অধিকার আমাদের নেই। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে অবশ্যই আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
