কালীগঞ্জে অধিক লাভের আশায় সবজি চাষে ঝুঁকছে কৃষক

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:১১

গাজীপুরের কালীগঞ্জে রোপা আমন ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক ব্যস্ততা বেড়েছে স্থানীয় কৃষকদের। উপজেলার একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকার ফসলি মাঠে এখন বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ হচ্ছে। মাঠে মাঠে চারা রোপণ করা ও সবজির পরিচর্যা করে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন সবজির মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কেউ সবজি খেতের আগাছা পরিষ্কার করে জমিকে উপযোগী করে তুলছেন। আবার অনেকে রোপণ করা ফসলকে পোকামাকড় থেকে রক্ষা করতে কীটনাশক ছিটানোর কাজে ব্যস্ত। শাকসবজি উৎপাদনে মাঠে মাঠে চলছে কৃষকদের ব্যাপক কর্মযজ্ঞ।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শীতকালীন শাকসবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১৪২০ হেক্টর নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া কৃষকদের উপজেলা কৃষি অফিসের প্রণোদনার পাশাপাশি স্থানীয় কালীগঞ্জ কল্যাণ সংস্থা নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনও শীতকালীন বিভিন্ন উন্নত জাতের শাকসবজি বীজ প্রদান করেছে।

কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের মিরাপাড়া এলাকার বর্গাচাষি কাইয়ুম মিয়া (৩৫) বলেন, আমার নিজের কোনো কৃষি জমিজমা নেই। প্রতি বছর ব্যক্তি মালিকানা জমি লিজ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি আবাদ করি। এতে নিজের
পরিবারের সবজির চাহিদা মেটানোর পরও বাজারে ভালো দামে বিক্রি করতে পারি। প্রতি বছর আমার বেশ টাকা আয় হয়। আর আয় করা টাকা দিয়ে প্রতি বছর নিজের জমি বাড়াই এবং তাতে আবাদ বাড়াই। তবে তাকে সার-বীজ দিয়ে স্থানীয় কৃষি অফিস সহযোগিতা করার পাশাপাশি কালীগঞ্জ কল্যাণ সংস্থাও শাকসবজির বীজ দিয়ে সহযোগিতা করেছেও বলেও তিনি জানান।

এছাড়া কথা হয় একই মাঠের কৃষক মান্নান মীরসহ আরো বেশ কয়েক জন কৃষকের সঙ্গে। তারা জানান, উপজেলা কৃষি বিভাগের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও সহযোগিতায় কৃষকরা লাভজনক ফসল উৎপাদনে ঝুঁকছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ফারজানা তাসলিম বলেন, বিনা মূল্যে বীজ ও সার দেওয়ার পাশাপাশি শীতকালীন লাভজনক ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও স্থানীয় কালীগঞ্জ কল্যাণ সংস্থা নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন স্থানীয়ভাবে কৃষকদের মধ্যে শাকসবজির বীজ বিতরণ করেছে।

কৃষিবিদ ফারজানা তাসলিম আরো বলেন, বাজারে শীতকালীন সবজির বেশ কদর রয়েছে। এছাড়া কৃষকদের উৎপাদিত শাকসবজিতে মিটছে নিজ পরিবারে চাহিদাও। তাই স্থানীয় কৃষক অধিক লাভের আশায় আগাম সবজি চাষে ঝুঁকছে বেশি। এতে করে অতিরিক্ত সবজি বাজারজাত হওয়ায় সব- শ্রেণি পেশার মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে বলেও জানান উপজেলা ঐ কৃষি কর্মকর্তা।

ইত্তেফাক/এনএন