টেকনাফের পাহাড়ে বাড়ছে অপহরণ আতঙ্ক

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:১৮

কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকা টেকনাফে বাড়ছে অপহরণের ঘটনা। এ অবস্থায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন টেকনাফের বাসিন্দারা। অপহরণের পর অনেকেই ফিরতে পারলেও কেউ কেউ বরণ করে নিচ্ছেন করুণ পরিণতি।

টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গেল বছর  টেকনাফ সদর, বাহারছড়া,হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অপহণের শিকার হয়েছে অন্তত দেড় শতাধিক ব্যক্তি। পাহাড়ি এলাকাগুলোতে অপহরণের ঘটনা ঘটছে বেশি। অপহরণের শিকার হচ্ছেন  কৃষক, শ্রমিক, কাঠুরিয়া, বনকর্মী সিএনজি অটোরিকশা ও টমটম চালক, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ ব্যবসায়ীরা। অপহরণের পর অনেকেই মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে ফিরতে পারলেও কেউ কেউ হয়েছেন গুম-খুনের শিকার। টেকনাফের এসব পাহাড়ি এলাকায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। অপহরণকারীদের হাতে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় মারণাস্ত্র।

সবশেষ সোমবার সকালে পাহাড়ে গাছের চারা রোপণ করতে গিয়ে অপহরণের শিকার হন বন বিভাগের ১৮ শ্রমিক। পরে অবশ্য আইনশৃ্ঙ্খলা রক্ষাকারীর অভিযানের মুখে মুক্ত হন তারা। এ ঘটনার পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং-শামলাপুর সড়ক থেকে দুটি অটোরিকশার চালকসহ ৮ জন অপহরণের ঘটনায় আলোচনায় আসে টেকনাফের অপহরণ ইস্যু। পর পর  এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন টেকনাফের বাসিন্দারা।

জাদিমুড়ার বনকর্মী জুহুর আলম বলেন, বিগত ৫ পাহাড়ে বছর বন বিভাগের কাজ করছি। আগের তুলনায় পাহাড়ের অপহরণের ঘটনা বেড়েছে। গত তিনদিন আগে আমার ছেলেসহ ১৯ জন শ্রমিককে সশস্ত্র ডাকাতদল ভারী অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেছিলো, পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতায় তারা বাড়ি ফিরতে পেরেছে। পাহাড়ে কাজ গেলে সব সময় আতঙ্কে থাকি।

শুধু ডাকাতের বেশেই নয়, পুলিশের পোশাকেও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে টেকনাফে। এভাবে যারা অপহরণের শিকার হয়েছেন তাদেরই একজন মনিরুল উল্লাহ। তিনি বাহারছড়ার ছৈয়দ আলম মেম্বারের ভাই।

ছৈয়দ আলম মেম্বার বলেন, আমাদের গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষি ও ক্ষেত- খামার  কাঠুরিয়া ও পানের বরজে কাজ করেন। মানুষগুলো এখন অপহরণ আতঙ্কে নিত্যদিনের কাজ করতে পারছে না। গত ৩০ ডিসেম্বর জসিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে পাহাড়ি সশস্ত্র ডাকাতদল তুলে নিয়ে যায়।

টেকনাফে অপহরণের বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে স্থানীয় প্রশাসন-রাজনীতিবিদদেরও। অপহরণ থামাতে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন স্থানীয় রাজনীতিবিদরা।

টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাসান সিদ্দিকী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাসিক সভায় আমরা বলেছি শক্ত হাতে অপহরণকারীদের দমন করতে হবে। বিশেষ করে যারা পাহাড়ি সংলগ্ন স্থানে কৃষি-ক্ষেত খামার, ওই সব এলাকায় যারা বসবাস করেন তারা অপহরণ আতঙ্কে থাকেন। অপহরণ বাণিজ্য বন্ধ করতে হলে পাহাড়সহ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি  অভিযান দরকার। অপহরণকারী আটক করে তাদের সঙ্গে কারা জড়িত এদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)  শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, অপহরণসহ যে কোনো ধরণের অপরাধ দমনে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অপহরণের ঘটনাগুলো কোন কোন পয়েন্টে হয় সেটি নির্ধারণ করে সেখানে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সবাই এক সঙ্গে কাজ করলে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হবে।

ইত্তেফাক/এপি