সাভারে সড়ক দুর্ঘটনা

উঠানে ৪ খাটিয়া, শিশু ফাহিম এখনো জানে না তার পরিবারের কেউ বেঁচে নেই

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৫, ১৫:১৯

বাড়ির উঠানে রাখা চারটি খাটিয়া। মরদেহের অপেক্ষা করছেন স্বজনসহ পুরো গ্রামবাসী। বড় ছেলে ফুয়াদ সিদ্দীক (১৪) অসুস্থ থাকায় স্ত্রী মহসিনা সিদ্দীক (৪০), স্ত্রীর বড় বোন সীমা আক্তার (৩৫) নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন ফারুক হোসেন সিদ্দীক (৫০)। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ঢাকায় যাওয়া হয়নি তাদের। 

সাভারে অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে দুটি বাসের সংঘর্ষের পর গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন লেগে পুড়ে মারা গেছেন তারা সবাই। তাদের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ভাবনদত্ত গ্রামের।

১১ বছরের শিশু ফাহিম এখনো জানে না তাদের মৃত্যুর খবর। মাদ্রাসার হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে সে।  

নিহত ফারুক হোসেন সিদ্দিকীর ছোটভাই মামুন সিদ্দিকী বলেন, তারা তিন ভাই একবোন। বোন সবার বড়। ইতালি প্রবাসী। বড়ভাই ফারুক সিদ্দিকী ভবনদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। বড় ছেলে ফুয়াদ সিদ্দিকী স্থানীয় ভবনদত্ত গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। হঠাৎ করেই কিছুদিন থেকে সে অসুস্থ। শরীরে রক্ত কমে যায়। তবে থ্যালাসেমিয়া নয়। ঢাকায় ডাক্তার দেখানোর জন্য গত রাত ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা থেকে ছেলে ফুয়াদ সিদ্দিকী ও তার বোনকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স যোগে রওনা দেন ঢাকার উদ্দেশ্য। ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠেন ফারুক সিদ্দিকী।

মামুন আরও জানান, রাতে তার কাছে ফোন করে সবাইকে দোয়া করতে বলেন। এরপর আর কথা হয়নি।

ফারুক সিদ্দিকীর সহকর্মী মো. রুবেল মিঞা বলেন, প্রধান শিক্ষক খুব নীতিবান ছিলেন। একজন নীতিবান মানুষের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি আমাদের সবসময় আগলে রাখতেন। 

নিহত ফারুখ সিদ্দিকীর আরেক সহকর্মী তার চাচাতো বোন সোমা সিদ্দিকীকা বলেন, স্যারের ছোট ছেলে ফাহিম সিদ্দিক হোস্টেলে থেকে মাদ্রাসায় পড়ে। সে এখনো জানে না তার বাবা মা আর ভাই পৃথিবীতে নেই। 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হেপলু জানান, রাতে তিনি ফারুক সিদ্দিকীকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিয়ে বাড়ি আসেন। এক সঙ্গে চা পান করেছেন। তার ভাষ্য এলাকায় ফারুক সিদ্দিকীর মতো ভালো মানুষ আর হবে না। তার মৃত্যুতে কাঁদছে পুরো গ্রামের মানুষ।

ইত্তেফাক/টিএইচ