তুরস্কে দুই বাংলাদেশি শিল্পীর চিত্র প্রদর্শনী  

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৫, ২০:০৪

ইতিহাসের মহাজাগতিক সভ্যতার মিলনস্থান তুরস্কের ইস্তাম্বুল, যার সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং প্রাণবন্ত সংস্কৃতির মাধ্যমে মন্ত্রমুগ্ধ করে। যেখানে বাইজেন্টাইন ও অটোমান স্থাপত্যের অপূর্ব সমন্বয় চোখে পড়ে। যেখানে প্রাচীন মিনার এবং আধুনিক ভবনগুলো যেন একসঙ্গে দাঁড়িয়ে প্রতিটি ইতিহাসের গল্প বলছে।

সেই ইতিহাস ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধ নগরে বাংলাদেশের দুই সম্ভাবনাময় শিল্পী মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার জোবায়ের হোসাইন ফাহিম ও লক্ষ্মীপুরের সামিনা এনাম আন্তর্জাতিক চিত্র প্রদর্শনী ও কর্মশালায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে মেলবন্ধন ঘটালেন। যাতে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশ ও তুরস্কের বন্ধুত্বের শৈল্পিক অভিব্যক্তি এবং যেখানে তুলে ধরা হয়েছে সৃজনশীলতার এক অনন্য সংমিশ্রণ। 

বাংলাদেশি শিল্পী জোবায়ের হোসাইন ফাহিমের রং তুলিতে ধরা দিল ইস্তাম্বুলের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হাগিয়া সোফিয়া! যেটি বাইজেন্টাইন স্থাপত্যের অন্যতম সেরা উদাহরণ। এর গম্বুজ এবং ভেতরের অসাধারণ মোজাইক দেখে মুগ্ধ হওয়া ছাড়া উপায় নেই।

সামিনা এনামের তুলিতে ধরা দিয়েছে গালাটা টাওয়ারে অপূর্ব দৃশ্য। যখন সূর্য অস্ত যেতে থাকে, আকাশে কমলা এবং গোলাপি রঙের মিশ্রণ দেখা দেয়, তখন ইস্তাম্বুল তার সৌন্দর্যকে ওপরে থেকে দেখার সুযোগ দেয়। শহরের ছাদগুলো বাইজেন্টাইন ও অটোমান স্থাপত্যের সমন্বয়ে অসাধারণ প্যানোরামিক দৃশ্য গড়ে তোলে। এ ছাড়া কারো ছবিতে ধরা দিল ইস্তাম্বুলের অনন্য প্রকৃতি, নানা কারুকার্যময় মসজিদের সৌন্দর্য, দর্শনীয় স্থানের নান্দনিকতায় প্রদর্শনীটি যেন হয়ে উঠেছে ইস্তাম্বুলময়। প্রদর্শনীতে ৪৫টি শিল্পকর্ম স্থান পায়। 

বাংলাদেশের ‘আর্টস ফর পিপল’ এবং তুরস্কের ‘ইনডিপেন্ডেন্ট আর্ট ফাউন্ডেশন গ্যালারি’ যৌথভাবে এই প্রদর্শনী ও কর্মশালার আয়োজন করে। গত ২০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া কর্মশালাটি ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে। সাত দিনব্যাপী ওই কর্মশালায় বাংলাদেশ, তুরস্ক ও ইরানসহ বিভিন্ন দেশের খ্যাতিমান চিত্রশিল্পীরা অংশ নেন। এ ছাড়া ইস্তাম্বুলের ইনডিপেন্ডেন্ট আর্ট ফাউন্ডেশন গ্যালারিতে ৩০ ডিসেম্বর শুরু হওয়া প্রদর্শনীটি চলবে ১২ পর্যন্ত। 

প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া জোবায়ের হোসাইন ফাহিম ইত্তেফাককে বলেন, ২০২০ সাল থেকে রংতুলিতে বাংলাদেশ রাঙাচ্ছি। এবার রংতুলিতে আঁকলাম ইস্তাম্বুলের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হাগিয়া সোফিয়ার অপরূপ রূপ। এবারই প্রথম দেশের বাইরে অংশগ্রহণ করলাম এবং যেখানে আমার দুটি শিল্পকর্ম স্থান পায়। এ অনুভূতি নিঃসন্দেহে আনন্দের এবং গৌরবের।  
     
আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘আর্টস ফর পিপলে’র প্রতিষ্ঠাতা পর্তুগাল প্রবাসী বাংলাদেশী শিল্পী আসিফ উজ্জামান ও তাঁর পর্তুগিজ বন্ধু শিল্পী আনা সিলভিয়া মালহাদো। আসিফ উজ্জামান জানান, ২০১৯ সালে সংগঠনটি যাত্রা শুরু করে। এতে দুই ধরনের কর্মকান্ড পরিচালনা করেন তারা। একটি হলো- ‘আর্টস ফর পিপল কিডস’, অন্যটি ‘আর্টস ফর পিপল ক্রসিং কন্টিনেন্ট’। আর্টস ফর পিপল কিডসের আওতায় এই দুই শিল্পী বিভিন্ন দেশ ঘুরে ঘুরে স্কুল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছবি আঁকেন। পরে উপহার হিসেবে রং, পেন্সিল, কাগজ, ক্রেস্ট এবং সার্টিফিকেট প্রদান করে থাকেন। তাদের লক্ষ্য- শিল্প-সাহিত্যের মাধ্যমে শিশুদের আনন্দ দেওয়া ও তাদের প্রতিভা বিকশিত করা।
     
আসিফ বলেন, আমাদের বিশ্বাস, শিশুরা যদি শিল্প-সাহিত্যে সম্পৃক্ত থাকে, তাহলে তারা বিপথগামী না হয়ে বরং সৃজনশীল হবে। হয়তো তাদের সবাই শিল্পী হবে না; কিন্তু তাদের চিন্তাশক্তি বিকশিত হবে। ইতোপূর্বে সংগঠনের হয়ে তারা নেপাল, ভারত, বাংলাদেশসহ নানা দেশে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি জানান, ২০২৩ সালের ২১ আগস্ট লৌহজং উপজেলার উত্তর হলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চিত্রকর্ম প্রশিক্ষণ দেয় আর্টস ফর পিপল। পরে শিক্ষার্থীদের উপহার হিসেবে রং, পেন্সিল, কাগজ, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি