রাউজানে প্রবাসীকে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:২১

চট্টগ্রামের রাউজান হুমায়ূন কবির নামের এক সৌদি প্রবাসীকে অস্ত্রের মুখে ঘর থেকে তুলে নিয়ে মারধর ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে আরফাত মামুন নামের এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আরাফাত মামুন। তার অভিযোগ উল্টো তার এলাকা বাগোয়ান ইউনিয়নের গরীবুল্লাহ পাড়ায় কয়েকটি পরিবারে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ।  

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ৩ টার মধ্যে এসব ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে তৎপর রয়েছে।

সৌদি আরব প্রবাসী হুমায়ূন কবির বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০ দিকে বাসায় নাস্তা করছিলাম। এমন সময় ৪টি মোটরসাইকেল, একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা যোগে আরফাত মামুন, আব্দুল, জালালসহ ১২ জনের একটি দল বাড়িতে এসে আমার স্ত্রী-পুত্রের সামনে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে গরীবুল্লাহ পাড়া এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তারা আমাকে বেধড়ক মারধর করেন। দর কষাকষির পর দেড় লাখ টাকা নগদ মুক্তিপণ দিলে  আড়াইটার দিকে আমাকে গরীবুল্লাহ পাড়া কেজি স্কুলের পাশে কবরস্থানে ফেলে দেয়। সেখান হতে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে প্রথমে কসমিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। তারা চিকিৎসা দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করলে সেখান হতে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার  করেছেন যুবদল নেতা আরফাত মামুন। তিনি বলেন, আমার ষড়যন্ত্র করে এসব করা হচ্ছে। প্রতিপক্ষের লোকজন উল্টো আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। পলোয়ান পাড়ার জসীম, খায়েজ চেয়ারম্যানের ছেলে কামাল উদ্দিন, গরীবুল্লাহ পাড়ার মোতালেবের ছেলে মানিক, মোহরম আলীর ছেলে সালামত আলীর নেতৃত্ব আড়াই শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে গরীবুল্লাহ পাড়ায় টানা তিন ঘণ্টা হামলা, গুলিবর্ষণ ও লুটপাট চালায়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়।

আরাফাত মামুনের অভিযোগ প্রসঙ্গে জসীম উদ্দিন বলেন, আমি আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল হতে পলোয়ান পাড়ায় দুটি সামাজিক সালিশ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।  কোথায় কি হয়েছে এই বিষয়ে আমি কিছুই শুনিনি। 

আরেক অভিযুক্ত কামাল উদ্দিন বলেন, ঘটনার বিষয়ে শুনেছি। তবে, এ বিষয়ে আমি জড়িত নয়। কোথাও কোনো ঘটনা ঘটলেই তারা আমার নাম জড়িয়ে দেয়।

রাউজান থানার ওসি একেএম সফিকুল আলম চৌধুরী, আরাফাত মামুন সকালে একজন প্রবাসীকে অপহরণ করে পিটিয়েছে এবং দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন। এই অপহরণকারী থানায় অভিযোগ দিয়েছেন কি-না তা এই মুহূর্তে আমার জানা নেই। যদি কেউ অভিযোগ দিয়ে থাকে তাহলে তদন্ত করে  অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এপি