কয়েক সপ্তাহ ধরেই ঊর্ধ্বমুখী চালের দাম। প্রায় সব ধরনের চালের দামই বেড়েছে। এদিকে কর অব্যাহতির পরও প্রভাব পড়েনি চালের দামে, উল্টো বাড়ানো হয়েছে দাম। এখন বাড়তি দামেই চাল কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) কেরানীগঞ্জের আগানগর এবং রাজধানীর নয়াবাজার ও কারওয়ান বাজারসহ বেশকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।
জানা গেছে, চালের বাজারে স্বস্তি ফেরাতে গত ২০ অক্টোবর এর ওপর বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ, রেগুলেটরি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ এবং আগাম কর ৫ শতাংশ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করেছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতেও দাম না কমায় গত ৩১ অক্টোবর চাল আমদানিতে শুল্ক পুরোপুরি তুলে নেয় সরকার।
তবে এর কোনো প্রভাবই নেই বাজারে। আমনের এ ভরা মৌসুমে কমার বদলে উল্টো দফায় দফায় বাড়ছে চালের দাম। কিছুতেই বাজারের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। বাজারে এই নাজেহাল অবস্থার কথা শিকার করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারাও।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন বলেন, রমজান সামনে রেখে সরকার বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। তবে সরকারের হাতে কোনো আলাদিনের চেরাগ নেই, যার মাধ্যমে রাতারাতি বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। চালের বাজার নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে। বাজারে অন্য কোনো পণ্যে অসঙ্গতি নেই। চাল মজুতেও ঘাটতি নেই। এরপরেও চাল আমদানিতে ব্যবসায়ীদের উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। আমদানি শুল্ক ৬৩ শতাংশ থেকে তিন শতাংশে নামানো হয়েছে। এছাড়া এপ্রিল মাসে বোরো ধান উঠলে চালের বাজার স্বাভাবিক হবে।
চালের বাজারের এই নাজেহাল অবস্থায় বেকায়দায় নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তরাও। তারা জানান, আমনের ভরা মৌসুম হলেও চালের বাজারে অস্থিরতা কমছে না। এতে চাপ বাড়ছে ভোক্তার ঘাড়ে।
রমিজ নামে এক ক্রেতা বলেন, বাজার এখন চালে ভরপুর; তবুও বাড়ছে দাম। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বাজার লুট করছে। আর পকেট কাটছে ভোক্তার। বাজার নিয়ন্ত্রণের কথা শুধু মুখে বললেই হবে, মাঠ পর্যায়েও সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
চালের বাজারের এই অস্থিরতা অকপটে স্বীকার করেন খুচরা ব্যবসায়ীরাও। তারা বলেন, মিল পর্যায়ে চালের দাম বাড়ায় এর প্রভাব খুচরা পর্যায়েও পড়ছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বরিশাল রাইছ এজেন্সির বিক্রেতা জানান, বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট ৮০ টাকা, আটাইশ ৫৮-৬০ টাকা, মোটা স্বর্ণা ৫২-৫৬ টাকা, নাজিরশাইল ৭৬-৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি পোলাও চাল বিক্রি হচ্ছে ১১৬-১১৮ টাকায়।
তিনি আরও বলেন, মিনিকেটের দাম বাড়ছে। তবে সামান্য কমেছে নাজিরশাইলের দাম। মূলত চালের দাম বাড়ান মিল মালিকরা। আর সরকার অভিযান চালায় খুচরা বাজারে। এভাবে কখনোই চালের দাম কমানো সম্ভব না। দাম বাড়ায় কমেছে চালের বেচাকেনাও। বাড়তি দামের প্রভাবে মানুষ চাল কম কিনছেন।
নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের দাবি ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েরই। ক্রেতারা বলছেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হয় না। এতে বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়ানোর সুযোগ পান।
আর বিক্রেতারা বলছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন। বাজারে নিয়মিত অভিযান চালালে অসাধুদের দৌরাত্ম্য কমবে।
বিশ্ববাজারে চলতি বছর নিত্যপণ্যের দাম কমতির দিকে থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনোমিকস। চালের পাশাপাশি কমতে পারে আলু ও চিনির দাম। তবে সূর্যমুখী তেল ও কফির দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকবে বলে ধারণা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
চাল আমদানি প্রসঙ্গে যা জানালেন খাদ্য উপদেষ্টা জানান, অকাল বন্যায় এবার আমন উৎপাদন কম হওয়ায় ঘাটতি পূরণে সরকারি ও বেসরকারিভাবে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বেসরকারি পর্যায়ে আমদানিতে উৎসাহ দিতে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।
