অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যোগাযোগ

হারিয়ে যাওয়ার দুই যুগ পর পরিবারে ফিরলেন গুলনাহার

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৫, ০৩:৪০

২০০২ সালের কথা। গুলনাহারের বয়স তখন ৯ বছর। একদিন কিছু কিনে খাওয়ার জন্য বাবার পকেট থেকে পাঁচ টাকা নিয়ে যায় সে। না বলে টাকা নেওয়ায় সেদিন তাকে শাসন করেন বাবা। পরে বাবার ভয়ে বাড়ির পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাঁদছিল গুলনাহার । তখন স্থানীয় এক নারী প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ঢাকায় নিয়ে যান এবং সেখানে এক বাসায় কাজের মেয়ে হিসেবে রেখে চলে আসেন । ঐ বাসায় তিন দিন থাকার পর বাড়িওয়ালার নির্যাতনে বাসা থেকে বের হয়ে হারিয়ে যায় শিশু গুলনাহার।

সেই থেকে গুলনাহার খুঁজতে শুরু করে তার হারিয়ে ফেলা মা-বাবা ও ভাইদের। কিন্তু ঠিকানা কিছুই জানা ছিল না। স্মৃতিতে ছিল শুধু বাড়ির উঠানের একটি আমগাছ, বাড়ির সামনে নদীর চিত্র। বাবা, চাচা, ভাইয়ের নাম ও গ্রামের নাম বলতে পারলেও থানা ও জেলার নাম জানা ছিল না তার। শৈশবের এমন কিছু স্মৃতিকে সম্বল করেই দুই যুগ ধরে হারিয়ে ফেলা পরিবারের খোঁজ করেছেন গুলনাহার।

অবশেষে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘আপন ঠিকানা' কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মঙ্গলবার ভোরে গুলনাহার তার স্বামী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান নিয়ে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ী (হাজীরগাতী) গ্রামে বাবা- মায়ের কাছে ফিরেছেন। তিনি এ গ্রামের আব্দুর রহমানের মেয়ে। বর্তমানে গুলনাহারের বয়স ৩২ বছর।

গুলনাহার জানান, হারিয়ে যাওয়ার পর তার নাম রাখা হয় সাথী আক্তার। এ নামেই ঢাকা মধ্য বাড্ডার আদর্শনগর এলাকায় ভোটার হয়েছেন। বর্তমানে সবজিবিক্রেতা স্বামী, দুই মেয়ে জান্নাতুল ও রাবেয়া এবং ছেলে সাহেদ পাটোয়ারীকে নিয়ে ফেনী সদরে থাকেন গুলনাহার।

তিনি জানান, মা-বাবা, ভাইবোন সবাইকে ফিরে পাবেন, এমন আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন গুলনাহার। শেষ মুহূর্তে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম 'আপন ঠিকানা' অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি পরিবারকে ফিরে পেয়েছেন। স্বজনদের নিশ্চিত হওয়ার পর বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে গুলনাহার বলছিলেন, ‘এটাই আমার বাবা, এটাই আমার বাবা।'

গুলনাহারের স্বামী সোহাগ পাটোয়ারী বলেন, 'আমার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার দুধরাজপুর গ্রামে । আমি ঢাকায় একটা জুতার দোকানে থাকতাম। সেখান থেকে গুলনাহারের সঙ্গে পরিচয় ও বিয়ে। বিয়ের পর জানতে পারি, গুলনাহারের কোনো পরিচয় নেই। তার পরিবারের সন্ধান বের করতে আমি অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি। একদিন এক লোকের মাধ্যমে গুলনাহারকে সঙ্গে নিয়ে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর 'আপন ঠিকানার' অফিসে গেলে তারা তার সাক্ষাৎকার নেন এবং এর মাধ্যমেই তার পরিবারের খোঁজ মেলে।'

গুলনাহারের বৃদ্ধ বাবা আব্দুর রহমান বলেন, ‘মেয়েটা হারিয়ে যাওয়ার পর অনেক জায়গায় ঘুরেছি, অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি। তাকে ফিরে পাব, ভাবিনি। আল্লাহর অশেষ রহমতে তাকে পেয়েছি।'

ইত্তেফাক/এনএন