বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী ও নাগরিক কমিটির মধ্যে হাতাহাতি

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৫, ২০:৩৮

পিরোজপুরে লিফলেট বিতরণ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে পিরোজপুর টাউন ক্লাব মাঠে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি লিফলেট বিতরণ শেষে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, কেন্দ্র থেকে দেশজুড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ নিয়ে লিফলেট বিতরণ এবং জনসংযোগ করার সিদ্ধান্ত নিলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতা-কর্মীরা দেশজুড়ে কেন্দ্র ঘোষিত সূচি মেনে লিফলেট বিতরণ ও জনসংযোগ করেন।

তারই ধারাবাহিকতায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শাহনেওয়াজ অভি, রোদায়ান রিয়াদ, এমরান আহম্মেদ, আসমা আক্তার মিতু, জামান ইসলামের নেতৃত্বে ছাত্র প্রতিনিধিদের একটি দল শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে লিফলেট বিতরণ শুরু করেন। তারা জেলা শহরের বিভিন্ন দোকানে গিয়ে এবং পথচারীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করে।

অন্যদিকে, দুপুর ১২টার দিকে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড গোল চত্ত্বর এলাকা থেকে জাতীয় নাগরিক কমিটির ব্যানারে পিরোজপুর জেলা সংগঠক মো. মুছাব্বির মাহামুদ ছানি, শহিদুল ইসলাম, সানজিদা আক্তারের নেতৃত্বে একটি মিছিল নিয়ে ছাত্র-জনতার একটি দল শহরে এসে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করে এবং টাউন ক্লাব মাঠে সমাবেশ করে।

লিফলেট বিতরণ শেষে দুই পক্ষই শহরের টাউন ক্লাব মাঠে জড়ো হয়ে আলোচনা সভা করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পিরোজপুর ছাত্র প্রতিনিধি শাহনেওয়াজ অভি বলেন, মুসাব্বির মাহমুদ সানি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দিচ্ছে। আমরা যারা শুরু থেকে ছাত্র আন্দোলন করছি তাদেরকে নাগরিক কমিটিতে না রেখেই তারা নিজেরা মিলে এ কমিটি ঘোষণা করেছে। আজ তারা জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র নিয়ে মাত্র ৪০০ লিফলেট আমাদের দেয়। বাকি লিফলেট তাদের কাছে রেখে দেয়।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে পিরোজপুর জেলা জাতীয় নাগরিক কমিটির ১ নম্বর সদস্য মুসাব্বির মাহমুদ সানি বলেন, তারা গুটিকয়েক লোক ছাত্র আন্দোলনের নামে আমাদের কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সোবহান বলেন, লিফলেট বিতরণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

ইত্তেফাক/এমএএস