জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প সময়মতো শেষ করতে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরসহ তিন দফা দাবিতে সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বিকাল সোয়া ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকশ শিক্ষার্থী দাবি নিয়ে সচিবালয়ের দিকে রওনা হন।
এদিকে সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো গণ-অনশন পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। এদিন সকালে সরেজমিন দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবন, বিজ্ঞান অনুষদ, আর্টস ফ্যাকাল্টির ভবনগুলোতে তালা ঝুলছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবনের সামনে বসে গণ-অনশন কর্মসূচি পালন করছেন।
বিকাল পর্যন্ত অসুস্থ ১৬ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে উপাচার্য আশ্বাস দিলেও ধর্মঘট ভাঙতে রাজি হননি শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, দাবিগুলো যে মানা হয়েছে এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানাতে হবে। এমনকি সচিবালয়ের সামনে তারা অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলেও জানা গেছে।
এর আগে একইদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অনশনরত শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলনে সরকারকে এক ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। এই সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে, সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী একে এম রাকিব বলেন, আমরা আজকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। যদি মন্ত্রণালয়, ইউজিসি, সেনা কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে একসঙ্গে বসার ঘোষণা না আসে, তাহলে সচিবালয়ের উদ্দেশে পদযাত্রা করবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে থেকে এই গণ পদযাত্রা শুরু হবে।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা হলো-
১. সেনাবাহিনীর কাছে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ হস্তান্তরের চুক্তি অনতিবিলম্বে স্বাক্ষর করতে হবে। প্রয়োজনে স্পেশাল মিটিং এর মাধ্যমে তা সম্পূর্ণ করতে হবে এবং ভিজ্যুয়াল ভাবে সকলের সামনে তা উপস্থাপন করতে হবে। শিক্ষার্থীরা অনশনে থাকাবস্থায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকার নিয়ে তা প্রকাশ করতে হবে। কয়েক মাস সময় নেওয়ার নাম করে কোনো প্রকার দীর্ঘসূত্রতার বন্দোবস্ত করা চলবে না।
২. পুরান ঢাকার বাণী ভবন ও ড. হাবিবুর রহমান হলের স্টিল বেইজড ভবনের কাজ দ্রুত শুরু এবং শেষ করতে হবে।
৩. যত দিন অবধি আবাসন ব্যবস্থা না হয়, তত দিন পর্যন্ত ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর আবাসন ভাতা নিশ্চিত করতে হবে।
