মেহেপুরের ছোট গ্রাম সাহারবাটি। সবজিগ্রাম নামে খ্যাত এই গ্রাম থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারাদেশে সরবরাহ হয় সবজি। সেই গ্রামেই এবার ফুলকপি নষ্ট হচ্ছে ক্ষেতেই।
নতুন মৌসুমে নতুন সবজি চাষের জন্য সাহারবাটি গ্রামসহ মেহেরেপুরের কয়েকটি গ্রামে নষ্ট হয়ে যাওয়া ফুলকপি এখন গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা। স্বল্প পুঁজিতে বেশি মুনাফার আশায় শীতাকালীন ফুলকপি চাষে করলেও এখন ক্রেতা না পাওয়ায় ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে। ঋণের টাকায় অনেকেই ফুলকপি চাষ শুরু করেন, ঋণ পরিশোধ নিয়ে তারা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।
কৃষকরা বলছেন, প্রতি বছর শীতকালীন সবজি হিসেবে ফুলকপির ব্যাপক চাহিদা থাকে। চাহিদা থাকায় দামও ভালো পান তারা। লাভের আশায় চলতি মৌসুমেও অনেকেই ফুলকপির চাষাবাদ করেছেন। কিন্তু এ বছর নানা জাতের সবজিতে বাজার ভরে গেছে। পাশাপাশি ফুলকপির উৎপাদনও ভালো হয়েছে। তবে মুনাফার অঙ্ক পড়ে আছে শূন্যের ঘরে। প্রতি পিস কপির উৎপাদন খরচ যেখানে ৭ থেকে ৮ টাকা। সেখানে বর্তমান বাজারে চাষিদের ক্ষেতে প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৫ টাকায়। ফলে উৎপাদন খরচের অর্ধেকও উঠছে না। এ অবস্থায় ‘স্বপ্ন’ নামের একটি সংগঠন কৃষকদের কাছ থেকে ফুলকপিগুলো সংগ্রহ করছেন।
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে জেলায় এ বছর ফুলকপির আবাদ হয়েছে ১ হাজার ১২০ হেক্টর, বাঁধাকপির আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৬০ হেক্টর। এর মধ্যে গাংনী উপজেলায় বিভিন্ন মাঠে ১৬০ হেক্টর ফুলকপি এবং ১৫৫ হেক্টর বাঁধাকপির আবাদ হয়েছে। সাহারবাটিসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রতিবছরের মতো এবারও সবজির ভালো আবাদ হয়েছে।
সাহারবাটি গ্রামের কৃষক শিরাজুল ইসলাম জানান, দুই বিঘা জমিতে ফুলকপির আবাদ করেছিলাম। ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। দুই বিঘা জমিতে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সব টাকায় লোকসান। পরে জমি পরিষ্কার করতে শ্রমিক খরচ হয়েছে।
কৃষক আজিজুল বলেন, ৩০ শতাংশ জমিতে ফুলকপির চাষ করেছি। এ জমিতে রোপণ করা ৫ হাজার চারায় উৎপাদন খরচ পড়েছে প্রতি পিস ৭ থেকে ৮ টাকা। এখন ফুলকপির দাম প্রতি পিস ক্ষেতে বিক্রি করতে হচ্ছে ৩ থেকে ৪ টাকা দামে। এটা এমন ফসল, পরিপক্ক হলে আর ক্ষেতে রাখা যায় না। রাখলে ক্ষেতেই নষ্ট হয়। উৎপাদন খরচই পাচ্ছি না। ঋণ পরিশোধ নিয়ে চিন্তায় আছি।
শ্রমিক সর্দার মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রতিবছর এ সময় ট্রাক লোড করে ৫০/৬০ হাজার টাকা আয় করতাম।এ বছর কাজ করছি কিন্ত কপি চাষিরা শ্রমিক খরচ দিতে পারছেনা। দুই একটা ট্রাক লোড করছি অনেক গৃহস্থ ঘরে থেকে টাকা পরিশোধ করছেন।
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার বলেন, প্রতিবছর এ মৌসুমে মেহেরপুরে ব্যাপক ভাবে বাঁধাকপি ও ফুলকপির আবাদ হয়। হঠাৎ দরপতন হয়েছে। কপি বাইরে বিক্রির চেষ্টা করছি। পাশাপাশি ‘স্বপ্ন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ফুলকপিগুলো সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ করছে।

