উৎসব মুখর পরিবেশে সমাপ্তি ঘটলো যশোর চৌগাছার ঐতিহ্যবাহী ‘গুড় মেলা’। তৃতীয় বারের মতো আয়োজিত মেলার শেষ দিনটিতে ছিল দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। কেউ এসেছেন একটু কমে গুড় কিনতে। তবে বেশিরভাগ দর্শনার্থীর নজর ছিল মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মেলার শেষ দিনে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি।
তিনি বলেন, মেলা শব্দটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনে আনন্দের অনুভূতি সৃষ্টি হয়। মেলার আক্ষরিক অর্থ মিলন। মেলার সঙ্গে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি ও সংস্কৃতির যোগাযোগ নিবিড় । বাংলার এই সংস্কৃতিতে থাকে সব ধর্মের মানুষের সমন্বয়। মেলাকে ঘিরে গ্রামীণ জীবনে আসে প্রাণচাঞ্চল্য। মেলার বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন মুগ্ধ করে আগত দর্শনার্থীদের।
তিনি আরও বলেন, খেজুর গুড় যশোরবাসীর নিজস্ব শিল্প। যশোর জেলার খেজুর গুড় ঐতিহ্যের ধারক-বাহক। আর চৌগাছার মানুষ সেই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে মেলার আয়োজন করেছে। আমি এই উপজেলারই একজন। এজন্য এখানে আসতে পেরে খুবই আনন্দিত।
নাসিমুল গণি বলেন, মেলায় আগত গাছিরা তাদের উৎপাদিত খাঁটি গুড় ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করার জায়গা পেয়েছে। আবার ক্রেতারাও খাঁটি গুড় কিনতে পারছেন। গুড় ক্রেতা ও বিক্রেতার এই ঠিকানা গুড় মেলা আরও আকর্ষণীয় করতে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি বলেন, সারা দেশে যশোরের খেজুর গুড়ের চাহিদা রয়েছে। তবে নির্ভেজাল খেজুর গুড়ের গ্যারান্টি দিতে হবে। বিলুপ্ত প্রায় এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রশিক্ষণ দিয়ে নতুন নতুন গাছি তৈরি করার পরামর্শ দেন তিনি।
সমাপনী অনুষ্ঠানের সভাপতি খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ফিরোজ সরকার বলেন, যশোর থেকে কৃষি পণ্যবাহী বিশেষ ট্র্রেনে দেশের রাজধানীতে যশোরের খেজুর গুড় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। যাতে এই জেলার মানুষ খুব সহজেই গুড় ঢাকায় পৌঁছাতে পারে।
মেলায় অংশ নেওয়া বিক্রেতারা জানান, এবারের মেলায় ভালো সাড়া পেয়েছেন তারা। প্রায় সারা দিনই ক্রেতা-দর্শনার্থীরা ছিলেন। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছেন এমন মন্তব্যও করেছেন অনেকে।
তিন দিনব্যাপী মেলায় শ্রেষ্ঠ ৩ জন গাছিকে পুরস্কার দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পাশাপাশি ১১টি ইউনিয়নের শ্রেষ্ঠ ১১ জন গাছিকেও দেওয়া হয়েছে পুরস্কার। উপজেলার শ্রেষ্ঠ গাছির প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন স্বরুপ দাস ইউনিয়নের সাঞ্চডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক। উপজেলা প্রশাসন তাকে ১০ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন। দ্বিতীয় হয়েছেন পাতিবিলা ইউনিয়নের আবুল গাজি তিনি পেয়েছেন ৭ হাজার টাকার চেক। ৩য় পুরস্কার পাঁচ হাজার টাকা পেয়েছেন সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মিজানুর রহমান।
এছাড়া বাকি গাছিদের বিশেষ পুরস্কার দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
অন্যান্যের মধ্যে ব্যক্তিরা করেন বাংলাদেশ কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব আ. খ. ম. কবিরুল ইসলাম, খুলনা রেঞ্জের ডি.আই.জি রেজাউল হক, যশোর জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম।
এছাড়া মেলায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) তাসনিম জাহান, কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হুসাইন, উপজেলা বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দসহ উপজেলার সকল দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী।
এর আগে ১৫ জানুয়ারি মেলার উদ্বোধন করেন যশোর জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম। তিন দিনব্যাপী মেলার দর্শনার্থীদের আকর্ষণের জন্য লাঠি খেলা, নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
