কুমিল্লার বুড়িচংয়ে রাস্তায় রাখা বালু নিয়ে খেলা করতে গিয়ে তা ছড়ানোর কারণে চার বছরের এক শিশুকে ডোবার পানিতে ছুড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে বুড়িচং উপজেলার সদর ইউনিয়নের বুড়িচং পূর্ব পাড়া মঞ্জুর আলী সর্দার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা নিয়ে শিশুটির মায়ের সঙ্গে ওই শিক্ষকের বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে শুরু হয় সমালোচনা।
অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম হাজী শাহজাহান (৫০)। তিনি বুড়িচং ফজলুর রহমান কলেজ অব টেকনোলজিতে শিক্ষকতা করেন।
ডোবায় ফেলা দেওয়া শিশু মিফতাহুল মাওয়া (৪) ওই এলাকার বাসিন্দা মো. নজির আহম্মেদ ও শামসুন্নাহার তানিয়া দম্পতির মেয়ে। শুক্রবার সকালে শামসুন্নাহার তানিয়া ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন বুড়িচং থানার ওসি আজিজুল হক।
শামসুন্নাহার তানিয়ার সঙ্গে হাজী শাহজাহানের বাকবিতণ্ডার ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই শিশুটির মা যখন ওই ব্যক্তিকে বলছিলেন, আপনার মধ্যে কি মনুষ্যত্ব নেই? আপনি আমার বাচ্চাকে পানিতে ফেলে দিলেন। আপনি একজন সামাজিক মানুষ হয়ে এমন কাজ কিভাবে করতে পারলেন? একটু বালু ফেলে দিয়েছে বলে আপনি এভাবে আমার বাচ্চাকে পুকুরে ফেলে দেবেন? আপনি কি একটা যুক্তিসঙ্গত কাজ করলেন এটা?
ওই ব্যক্তি পাল্টা জবাবে বলেন, আজকে ২০ দিন ধরে সবাইকে বলতেছিলাম কেউ আমার কথা শুনেনি। তোমার বাচ্চা এখানে এসে বালি ধরেছিল । তোমার বাচ্চা আমার এখানে আসবে কেন?
শামসুন্নাহার তানিয়া বলেন, অপরাধ করে থাকলে আমাদেরকে বলতে পারতো, কিন্তু আমাদের না বলে তিনি এমন অমানবিক কাজ করলেন। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।
এ বিষয়ে চেষ্টা করেও হাজী শাহজাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে তার ছেলে নূর-এ শাহান রাজ বলেন, আমার বাবা অসুস্থ, তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে যা করেছে, তার জন্য আমরা সবাই দুঃখিত। যেহেতু প্রায়ই আমাদের বাড়ি নির্মাণ সামগ্রী বাচ্চাটা নষ্ট করছিল তাই উনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তবে তারা অভিযোগে বাচ্চাটির যে গুরুতর অবস্থা লিখেছে তা ঠিক নয়। আমরা এলাকার মুরুব্বীদের সঙ্গে কথা বলছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সামাজিকভাবে যা সিদ্ধান্ত হবে সে বিষয়ের অপেক্ষায় আছি।
মামলার নথির সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে নজির আহম্মেদের দুই মেয়ে মিফতাহুল মাওয়া এবং গালিবা সুলতানা (১০) শাহজাহানের বাড়ির সামনের রাস্তায় রাখা বালি নিয়ে খেলা করছিল। সেসময় শাহজাহান বালি নষ্ট করার অভিযোগে চার বছরের মাওয়াকে মারধর করে এবং কোলে তুলে পাশের ডোবায় ছুড়ে ফেলে দেয়। এ ঘটনা দেখে তার বড় বোন গালিবা ছোট বোনকে উদ্ধারের জন্য কান্না করলে শাহজাহান তাকেও মারধর করেন। তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে শাহজাহান চলে যান। তখন প্রতিবেশীরা আহত দুই শিশুকে উদ্ধার করে প্রথমে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে মাওয়ার অবস্থার অবনতি দেখে চিকিৎসক কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন।
এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ওসি আজিজুল হক বলেন, শুক্রবার সকালে শিশুর মা বাদী হয়ে বুড়িচং থানা একটি শিশু নির্যাতন মামলা করেন করেন। আমরা আসামিদের ধরার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

