আজ মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র দিবস

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৫, ০৪:০০

আজ ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে পালিত হচ্ছে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র দিবস। নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই দিবসটি পালিত হয় প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের তৃতীয় সোমবার। ১৯২৯ সালের ১৫ জানুয়ারি জর্জিয়ার আটলান্টায় মার্টিন লুথার কিং জন্মগ্রহণ করেন। এবারের আয়োজনটা একটু ভিন্ন আবহে পালিত হবে। কারণ এবার দেশটির ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

১৯৮৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান এই দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র দিবস, জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। এই দিনটিতে আমেরিকার জনগণ, নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র লেগাসি স্মরণ করে এবং সেবার কাজে নিজেদের নিয়োগ করে। মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র আমেরিকায় বর্ণবৈষম্য দূর করার পেছনে একজন অগ্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট ওয়াশিংটনের লিংকন মেমোরিয়ালের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে তিনি একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ভাষণটি ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ শিরোনামে পরিচিত। এই ভাষণে উঠে এসেছে কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি অত্যাচারের কথা, তাদের বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা। তিনি বলেছেন, তার স্বপ্নের কথা। স্বপ্ন দেখেছেন সাম্যের, স্বপ্ন দেখেছেন শোষণমুক্ত এক সমাজের যেখানে সব মানুষ সমান হবে।

হত্যাকাণ্ড ও তার প্রভাব
মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল টেনেসির মেমফিস শহরে তার হোটেল কক্ষের ব্যালকনিতে দাঁড়ানো অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে হাজারো শোকাকুল মানুষ যোগ দেন। আটলান্টার সড়ক দিয়ে ঘোড়ায় টানা বিশেষ শকটে সম্মানের সঙ্গে তার কফিন বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়। মৃত্যুর পর প্রকাশিত ‘আশার বাণী’ (এ টেস্টামেন্ট অব হোপ) নামে একটি প্রবন্ধে কিং কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের অহিংস আন্দোলনের প্রতি তাদের অঙ্গীকার অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তবে সতর্ক করে দিয়ে এও বলেন, সমাজকাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন ছাড়া কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে না।

কিংয়ের উত্তরাধিকার: অহিংস প্রতিবাদ
১৯৫৯ সালের ভারত সফরকালে রেডিওতে দেওয়া ভাষণে কিং বলেছিলেন: ‘আজ আর আমাদের সামনে সহিংসতা ও অহিংসার মধ্যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই। এটি হবে হয় অহিংসতা, নয় অস্তিত্বহীনতা।’ কিংয়ের দর্শনের ওপর ভারতে ব্রিটিশ শাসন অবসানের জন্য মহাত্মা গান্ধীর চালানো অহিংস আন্দোলনের প্রভাব পড়েছিল। কিংও বিভিন্ন জাতি ও জনগোষ্ঠীকে অহিংস উপায়ে তাদের সমাজ পরিবর্তন আনার জন্য অনুপ্রাণিত করেছিলেন। এর মধ্যে ছিল সোভিয়েত দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে পোল্যান্ডের সলিডারিটি আন্দোলন থেকে শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ অবসানের জন্য নেলসন ম্যান্ডেলার সংগ্রাম। —ভয়েস অব আমেরিকা

ইত্তেফাক/এমএএম