মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে এক বন্দিশিবিরে হামলা চালিয়েছে দেশটির জান্তা বাহিনী। এতে এখন পর্যন্ত ২৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ২৫ জন। দেশটির সশস্ত্র এক গোষ্ঠী এই তথ্য জানিয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
২০২১ সালে মিয়ানমারে ক্ষমতা দখলে নেয় দেশটির সামরিক বাহিনী। এরপর থেকে দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াই চলছে। বিশেষ করে আরাকান আর্মির (এএ) সঙ্গে জান্তার বাহিনীর তুমুল লড়াই চলছে রাখাইন রাজ্যে।
রাজ্যটির অনেক এলাকা গত বছর দখলে নেয় এএ। এসব এলাকার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে এএ'র ব্যাপক সংঘাত চলছে।
সর্বশেষ জান্তা বাহিনীর হামলা নিয়ে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম টেলিগ্রামে একটি পোস্ট করেছে এএ। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সামরিক বিমান থেকে রাজ্যের মারুক-ইউ টাউনশিপে এক বন্দিশিবিরে বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে। গত শনিবার সেখানে হামলা হয়েছে।
এএ জানিয়েছে, বন্দিশিবিরে জান্তা বাহিনীর পরিবারের সদস্যরা আটক ছিলেন।
পোস্টে বলা হয়েছে, হামলায় যারা হতাহত হয়েছেন তারা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পরিবারের সদস্য। আমরা লড়াইয়ের সময় তাদের গ্রেপ্তার করেছিলাম।
আরাকান আর্মি আরও জানায়, আমরা তাদের মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলাম, তারমধ্যেই তারা বোমা ফেলেছে। নিহতদের মধ্যে নয়জনই শিশু, এদের মধ্যে একজনের বয়স দুই বছর বলে এএ'র পোস্টে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া নিহতের মধ্যে নারীও আছেন বলে জানিয়েছে আরাকান আর্মি। টেলিগ্রামের দেওয়া ছবিতে দেখা যায়, মেঝেতে অনেক লাশ পড়ে আছে এবং তা সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।
এই ঘটনায় বার্তাসংস্থা এএফপি জান্তা বাহিনীর কাছে মন্তব্য জানতে চায়। তবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
